খুঁজুন
                               
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদই চিরস্থায়ী নয় : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদই চিরস্থায়ী নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না।

তিনি বলেন, আমরা চিরস্থায়ী নই। এটি অতীতেও বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে এবং পৃথিবীর সব দেশেও এটি প্রমাণিত। ঠিক একইভাবে জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্যই চিরস্থায়ী নয়।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই মন্তব্য করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি ইউনিফর্মের বাইরে গিয়ে আমার এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করবেন। আমি বিশ্বাস করি, একজন নাগরিক হিসেবে ইউনিফর্মে থেকেও আপনি একজন মানুষ হিসেবে এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন চাইবেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই কথাটি শুধু একটি স্লোগান নয়, আমরা এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, সারাদেশের মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব যদি সফলভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দেন, তবে আমি বিশ্বাস করি একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, বরং প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মকর্তা যে পজিশনেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, প্রশাসনের সকল পদে কাজ করার পেশাদার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস হয়ে যায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িকভাবে তুষ্ট হওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এটি প্রফেশনালিজমের পরিপন্থী। তাই আহ্বান থাকবে, যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করুন। তবেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৌশলী ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে ৫ আগস্ট পরবর্তী মব ভায়োলেন্স-এর মতো সমস্যাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, গত দেড়-দুই বছরে এমন অনেক পরিস্থিতি আপনারা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন এক রূপে দেখতে চায় যেখানে পুলিশ হবে সত্যিকারের জনবান্ধব এবং মানুষের আস্থার প্রতীক। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দর্পণ বা আয়না হিসেবে দেখতে পায়। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনের সাফল্য মানেই সরকারের সফলতা। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে চায় না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়; যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। কোনো ব্যক্তি বা দল আপনাদের পরিচয় নয়, বরং আপনারাই আইনের রক্ষক। আপনারা রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন আর শুধু শহর বা জেলার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। একারণেই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

সরকার পুলিশ বাহিনীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি। এই নীতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশের দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দিন-রাত এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়, তাই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আইনগত ও মানবিক হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে আপনাদের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়, যা দায়িত্বেরই অংশ। বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ঢাবিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ঢাবিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) যাচ্ছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফরমিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’-শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। এর দুই দিন আগে, ২৫ ডিসেম্বর, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পড়াশোনা সম্পন্ন করা হয়নি।

কালের আলো/এসএকে

ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে দেশটির প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারতে যা-ই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন বা অবিচার সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিলেও এ ধরনের ঘটনা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত বিশাল দেশ। উনাদের আমি শ্রদ্ধা করি এই জন্য, যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। এইজন্য আমি শ্রদ্ধা করি। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করবো উনারা যদি ওই দেশের সংখ্যালঘুদের উনাদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং উনাদের জনগণের একটা অংশ হিসেবে মনে করে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়।

“তবে আমি একটা কথা বলি, বাংলাদেশে—ভারতে কী ঘটছে এটা বড় জিনিস নয়—বাংলাদেশে ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশে ঘটবে এমনটা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুর ওপরে, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-অবিচার জুলুম নির্যাতন সহ্য করবো না, ইনশাআল্লাহ।”

পশ্চিমবঙ্গে যেটা হচ্ছে মুসলমানদের ওপর, সেটা নিয়ে আপনারা কোনো কথা বলবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করবো। আমরা আমাদের সরকার প্রধান যিনি আছেন, উনি অবশ্যই চিন্তা করতেছেন—এই ব্যাপারে উনি অবশ্যই উনার পক্ষ থেকে ওই কথা বলবেন।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনারা কী চান? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন তোমার শরীরের একটা অংশে যদি আঘাত লাগে তুমি যেমনটা অনুভব করো সারা শরীরে, আমার মুসলমান ভাইদের মধ্যে কেউ যদি যেকোনো জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে তুমি তেমনটা অনুভব করো—এইভাবে বলছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এখন উনারা যদি না বুঝেন, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি চান নাই। উনি এই ব্যাপারে সারাজিন্দেগি পরিশ্রম করে গেছেন, মুসলমানদের এক রাখার জন্য। আল্লাহর প্রতি আস্থা বিশ্বাস রাখার জন্য, আল্লাহর হুকুমে চলার জন্য। আর আমরা কথায় কথায় বলি হজের পরে এটা। হজের সঙ্গে এটার তুলনা দেওয়া ঠিক নয়। হজ এটা আল্লাহর হুকুম। হজ হলো যাদের ওপর ফরজ তারা করতেই হবে। হজের সঙ্গে এটার কোনো তুলনা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, এখানে দুই পক্ষ যদি মিলে চলে আমি খুব খুশি হবো। আগের মতো অবস্থানে যদি চলে আমি খুব খুশি হবো। এটা উনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে উনারা কী করবেন। কারণ একটা জিনিস হলো কী, একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক উনাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ উনাদের মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো অবস্থানে থেকে উনারা যেন তাবলিগের কাজগুলো করতে পারে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

কালের আলো/এসএকে

পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত সুনাম অর্জন করতে পারিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমি আপনাদের বলব না; কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

টুরিস্ট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইজিপিকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন যাতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে আমরা বডি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়াতে চাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের কিছু বডি ক্যামেরা আছে। ভবিষ্যতে আমরা সকল পর্যায়ে বডি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই যাতে সবকিছু রেকর্ড করা থাকে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী নূন্যতম বলপ্রয়োগ নীতির বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মানবাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অপরাধ দমনে, তদন্ত কার্যক্রমে বা প্রসিকিউশন টিমকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রেখেই কৌশলে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ, রেলপথ, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমে এপিবিএন, এরপর পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী। অপারেশন ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে পুলিশিং ব্যবস্থা কাজ করে। তবে বিশেষ অপারেশনের ক্ষেত্রে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিজিবি তার নির্ধারিত ভূমিকা পালন করবে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সীমান্ত ও নদীপথ এবং নৌবাহিনী সমুদ্রের দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ অন্যান্য সেবা দ্রুততার সঙ্গে প্রদানের কার্যক্রম চলছে। তবে এটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ যথাসময়ে সেবা পায়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে অতীতে যে ধরনের ভোগান্তি হতো, তেমন কোনো অভিযোগ যেন আর না আসে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও সামাজিক বাস্তবতায় পুলিশিং আর কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশকে জনগণের সাথে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক পুলিশিং অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা এবং আপনাদের পক্ষ থেকে আসা দাবিগুলো আমি খতিয়ে দেখব এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ আকারে প্রধান করবো।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, পুলিশকে হতে হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। সেটি যেন আপনারা নিজেরা বুক হাত দিয়ে বলতে পারেন, তেমন পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। প্রতিটি থানায় আগত সেবাগ্রহীতা যেন কোনো হয়রানি ছাড়া আইনি সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনাদের প্রতিটি আচরণে যেন রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন ঘটে। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ, এই স্লোগান কেবল মুখে নয়, বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে।

এলিট ফোর্সের বিষয়ে তিনি বলেন, র‍্যাবের নাম রাখা যাবে কি যাবে না, সেই সিদ্ধান্ত পরে হবে।

তিনি বলেন, র‍্যাবের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন বা আইনি কাঠামো তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট শিগগিরই আমার কাছে আসবে। আমি মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর দেখলাম, এই বাহিনীটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার জন্য আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই; র‍্যাব মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি নির্দিষ্ট ধারার অধীনে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে যদি আমরা একটি এলিট ফোর্স হিসেবে রাখতে চাই, যে নামেই হোক তবে এর সরঞ্জাম, লজিস্টিক, জনবল ও গোয়েন্দা সমর্থন সবকিছুর জন্য একটি আলাদা লেজিসলেশন বা আইন দরকার। সেখানে তাদের কর্তৃত্ব, দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে আলাদা রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছি।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত সততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে। বাহিনীর শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে সেদিকে সদা দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড যারা ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পরদিনই বার্তা দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখবেন। যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগে আমরা দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা পুলিশকে এমন একটি পর্যায়ে নিতে চাই যেখানে দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সাথে বন্ধন তৈরি করুন। পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে পাড়ায়-মহল্লায় অপরাধের অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো এবং এই বাহিনীকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করছেন।

কালের আলো/এসএকে