খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে দেশটির প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারতে যা-ই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন বা অবিচার সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিলেও এ ধরনের ঘটনা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত বিশাল দেশ। উনাদের আমি শ্রদ্ধা করি এই জন্য, যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। এইজন্য আমি শ্রদ্ধা করি। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করবো উনারা যদি ওই দেশের সংখ্যালঘুদের উনাদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং উনাদের জনগণের একটা অংশ হিসেবে মনে করে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়।

“তবে আমি একটা কথা বলি, বাংলাদেশে—ভারতে কী ঘটছে এটা বড় জিনিস নয়—বাংলাদেশে ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশে ঘটবে এমনটা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুর ওপরে, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-অবিচার জুলুম নির্যাতন সহ্য করবো না, ইনশাআল্লাহ।”

পশ্চিমবঙ্গে যেটা হচ্ছে মুসলমানদের ওপর, সেটা নিয়ে আপনারা কোনো কথা বলবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করবো। আমরা আমাদের সরকার প্রধান যিনি আছেন, উনি অবশ্যই চিন্তা করতেছেন—এই ব্যাপারে উনি অবশ্যই উনার পক্ষ থেকে ওই কথা বলবেন।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনারা কী চান? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন তোমার শরীরের একটা অংশে যদি আঘাত লাগে তুমি যেমনটা অনুভব করো সারা শরীরে, আমার মুসলমান ভাইদের মধ্যে কেউ যদি যেকোনো জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে তুমি তেমনটা অনুভব করো—এইভাবে বলছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এখন উনারা যদি না বুঝেন, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি চান নাই। উনি এই ব্যাপারে সারাজিন্দেগি পরিশ্রম করে গেছেন, মুসলমানদের এক রাখার জন্য। আল্লাহর প্রতি আস্থা বিশ্বাস রাখার জন্য, আল্লাহর হুকুমে চলার জন্য। আর আমরা কথায় কথায় বলি হজের পরে এটা। হজের সঙ্গে এটার তুলনা দেওয়া ঠিক নয়। হজ এটা আল্লাহর হুকুম। হজ হলো যাদের ওপর ফরজ তারা করতেই হবে। হজের সঙ্গে এটার কোনো তুলনা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, এখানে দুই পক্ষ যদি মিলে চলে আমি খুব খুশি হবো। আগের মতো অবস্থানে যদি চলে আমি খুব খুশি হবো। এটা উনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে উনারা কী করবেন। কারণ একটা জিনিস হলো কী, একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক উনাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ উনাদের মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো অবস্থানে থেকে উনারা যেন তাবলিগের কাজগুলো করতে পারে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

কালের আলো/এসএকে

উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে ডেঙ্গু

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে ডেঙ্গু

সারা দেশে মশা নিধন কার্যক্রমের দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে। গত মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে।চলতি বছরের মে মাসের ২৫ দিনে যেখানে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬০৯ জন সেখানে জুন মাসের ২৫ দিনে ভর্তি হয় ২ হাজার ৩১৮ জন। এক মাসের ব্যবধানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এডিস মশার বিস্তার এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পাঁচগুণ এবং আগস্টে দশগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার মশা নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত ফগিং বা ধোঁয়া দেওয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের উচিত মশার লার্ভা ধ্বংস করা এবং উৎপত্তিস্থল নির্মূলের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। শুধু যেখানে ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, সেই নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই ফগিং করা উচিত। ঢালাওভাবে ফগিং করে কোনো লাভ হচ্ছে না, অথচ এটিই এখন মশা নিধনের প্রধান পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসের ২৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৪০০ জন। আর জুন মাসের ২৫ দিনে ভর্তি হয় ৪ হাজার ৫২৫ জন। বৃদ্ধির হার ছিল ২২৩ শতাংশ। আর মে মাসের ২৫ থেকে জুনের ২৫ তারিখ পর্যন্ত এক মাসে ভর্তি হয় ৪ হাজার ৮৯৮ জন। বৃদ্ধির হার ছিল ২৫০ শতাংশ। গত বছর পুরো মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসের রোগী ভর্তি ৬০ শতাংশ রোগী কম। ২০২৫ সালের মে মাসে ভর্তি হয় ১ হাজার ৭৭৩ জন। এবার ভর্তি হয়েছে ৭১৪ জন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে গত ২৩ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা হয়েছে। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। করোনার সময়ের মতো সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল মালিক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু কীভাবে প্রতিরোধ করতে হয় তা আমাদের সবারই জানা আছে। এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা যদি মশার বিস্তার আটকাতে না পারি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমানো যাবে না। এখন যেখানে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তা দেখে দেখে সেই সব জায়গা ব্যাপকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এবার এখন পর্যন্ত যা দেখছি সরকার আন্তরিক। সরকারপ্রধান নিজেই এটা নিয়ে কথা বলছেন, কাজ করছেন। এটা ভালো দিক। তবে আমাদের আর বেশি সতর্ক হতে হবে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২

দাম কমার দুদিনের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গত ২৪ জুন এক লাফে ৫ হাজার টাকারও বেশি দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একদিন পর আরও ২ হাজার টাকা দাম কমানো হয়। তবে দাম কমানোর ঘোষণা দুদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি।

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গরম বাড়লেই কি কমে বুদ্ধি? যা বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
গরম বাড়লেই কি কমে বুদ্ধি? যা বলছে গবেষণা

প্রচণ্ড গরমের দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত

প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো, খুব সাধারণ একটি হিসাবও যেন ঠিকমতো মিলছে না। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বারবার দ্বিধায় পড়ছেন। অফিসের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু ক্লান্তি।

কিন্তু গবেষণা বলছে, বিষয়টি এর চেয়েও গভীর।

উচ্চ তাপমাত্রা শুধু শরীরকে নয়, মানুষের মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গরমে বসবাস করলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদেও দেখা দিতে পারে।

কেন গরমে ধীর হয়ে যায় মস্তিষ্ক?

মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীর তাপ কমানোর চেষ্টা করে, ফলে রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ ত্বকের দিকে চলে যায়। গবেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও শক্তি সরবরাহের পরিবর্তন ঘটে, যা চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।

এর সঙ্গে যোগ হয় গরমজনিত ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা। ফলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা আর না থাকার পার্থক্য

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা চালান গবেষক সেদেনো লরেন্ট ও তার সহকর্মীরা।

১২ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দুটি মানসিক দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একদল শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে থাকতেন, অন্যদল থাকতেন এমন ভবনে যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না।

ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ছিলেন না, তারা গাণিতিক পরীক্ষায় প্রতি মিনিটে কম সঠিক উত্তর দিয়েছেন। মনোযোগ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের পরীক্ষাতেও তারা তুলনামূলক ধীর ছিলেন।

শুধু সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও প্রভাব

এটি শুধু কয়েক ঘণ্টার সমস্যাই নয়।

২০২৪ সালে চীনের ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের ওপর আট বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব এলাকায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন বেশি, সেখানে মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমার প্রবণতা দেখা যায়।

গবেষকদের হিসাবে, ৩২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়লে গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ মানুষের গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও গবেষণাটির পূর্বাভাস।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের দেহের ওজন তুলনামূলক বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে গরমের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা বেশি হতে পারে।

এছাড়া একটানা তাপপ্রবাহ শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন পর্যন্ত চিন্তা ও মনোযোগে প্রভাব থাকতে পারে।

গরমের দিনে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত।

সম্ভব হলে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা জটিল পরিকল্পনা কিছুটা ঠান্ডা পরিবেশে কিংবা গরম কমার পর করা ভালো।

পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভালো ঘুম এবং শীতল পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মস্তিষ্কের ওপর গরমের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথা

গরমকে আমরা সাধারণত শুধু শারীরিক অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখি। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর প্রভাব আমাদের চিন্তা, বিচার-বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।

তাই প্রচণ্ড গরমের দিনে যদি মনে হয় মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না, সেটি শুধু আপনার অনুভূতি নাও হতে পারে। অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে তাপমাত্রারই নীরব প্রভাব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি