খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিদিন ঘি-চা খেলে কী হয় জানেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন ঘি-চা খেলে কী হয় জানেন?

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। পেট ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি-এসব সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে বেশ কষ্টকর করে তোলে। মূলত অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে গেলে মলত্যাগ কঠিন হয়ে যায়, আর তখনই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।

এই সমস্যার একটি ঘরোয়া সমাধান হিসেবে অনেকেই বিশেষ এক ধরনের পানীয়ের কথা বলেন, এক কাপ লাল চায়ের সঙ্গে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খাওয়া। পুষ্টিবিদ ও ম্যাক্রোবায়োটিক প্রশিক্ষক শিল্পা অরোরা সামাজিক মাধ্যমে এই পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা অনেকের কাছে একটি প্রচলিত আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পিসিওডি, অনিয়মিত ঘুম, কম পানি পান করা, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব, ব্যায়ামের ঘাটতি বা অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাস ইত্যাদি। এসব কারণ অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এর ফলে শুধু পেটের অস্বস্তিই নয়, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা, ব্যথা এবং কখনও কখনও মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

ঘি সম্পর্কে বলা হয়, এতে বুটিরিক অ্যাসিড থাকে, যা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে এবং মল চলাচল সহজ করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি অন্ত্রকে কিছুটা লুব্রিকেট করতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে আরামদায়ক করতে পারে।

অন্যদিকে, লাল চা নিয়েও বলা হয় যে এতে থাকা ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান শরীরের স্নায়ু-সংকেত সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়া ও অন্ত্রের গতিবিধিকে কিছুটা উদ্দীপিত করতে ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে, ঘি ও লাল চা একসঙ্গে একটি ঘরোয়া উপায় হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরো এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এলাকার মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেবার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘রোগীরা এখানে কোনো সেবা পাচ্ছেন না। আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক।’

আরেক বাসিন্দা মাহবুবর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের দেয়াল ধসে পড়ছে। ভবনের ওপর এখন সাপের বসবাস। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো জায়গাটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।’

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুরের উপপরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় অনেক কেন্দ্রই বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশাখালী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হয়েছে এবং তিনি সেবা দিচ্ছেন। শিগগিরই একজন নার্স যোগ দেবেন। পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরের আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও তিনতলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অননুমোদিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঘটনায় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে নিজেদের এআই মডেলগুলো কীভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তা খতিয়ে দেখতে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওপেনএআই তাদের এআই মডেলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অননুমোদিত কার্যক্রমের বিষয়ে ১০০টির বেশি সংগঠনকে অবহিত করেছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যখন বাড়তি নজরদারি চলছে, তখনই এ তথ্য সামনে এলো।

৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের প্রকৃত পরিধি বোঝার জন্য প্রায় ৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ধরন, কারণ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এই পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তদন্তের আওতায় এআই মডেলগুলোর বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

‘রগ এজেন্ট’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর ‘রগ এজেন্ট’ কার্যক্রম হিসেবে হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনাটিকে চিহ্নিত করেছে।

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় তাদের মডেল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধও যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।

এসব ঘটনার পর গত কয়েক মাসে অননুমোদিত কার্যক্রম প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট

সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার কারণে ভুল নির্দেশনা, অতিরিক্ত অনুমতি কিংবা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার ত্রুটি থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো এআই এজেন্টকে ইন্টারনেট বা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাগিং ফেসের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে

ওপেনএআই জানিয়েছে, হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। পাশাপাশি এআই মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এসব ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা।

এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, অনুমতি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

সেন্টমার্টিনের অদূরে গভীর সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৬৫ যাত্রীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিন লাইটহাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায় মাছ ধরার ট্রলার ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’। বোটে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।

পরে নিয়মিত টহলে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটিকে উদ্ধার করে। নৌবাহিনী জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে বোটে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত তা নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং ৬৫ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার অধিকাংশ ব্যক্তিকে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের বোটে তোলা হয়।

উদ্ধারের পর ৬৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আটক ১১ জন এবং জব্দ করা বোটকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গভীর সাগর থেকে উদ্ধার করা ব্যক্তি ও আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হচ্ছে। তবে শুক্রবার সকালে তারা থানায় পৌঁছাননি।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানবপাচার, চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি