খুঁজুন
                               
, ,
           

গরম বাড়লেই কি কমে বুদ্ধি? যা বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
গরম বাড়লেই কি কমে বুদ্ধি? যা বলছে গবেষণা

প্রচণ্ড গরমের দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত

প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো, খুব সাধারণ একটি হিসাবও যেন ঠিকমতো মিলছে না। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বারবার দ্বিধায় পড়ছেন। অফিসের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু ক্লান্তি।

কিন্তু গবেষণা বলছে, বিষয়টি এর চেয়েও গভীর।

উচ্চ তাপমাত্রা শুধু শরীরকে নয়, মানুষের মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গরমে বসবাস করলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদেও দেখা দিতে পারে।

কেন গরমে ধীর হয়ে যায় মস্তিষ্ক?

মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীর তাপ কমানোর চেষ্টা করে, ফলে রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ ত্বকের দিকে চলে যায়। গবেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও শক্তি সরবরাহের পরিবর্তন ঘটে, যা চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।

এর সঙ্গে যোগ হয় গরমজনিত ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা। ফলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা আর না থাকার পার্থক্য

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা চালান গবেষক সেদেনো লরেন্ট ও তার সহকর্মীরা।

১২ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দুটি মানসিক দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একদল শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে থাকতেন, অন্যদল থাকতেন এমন ভবনে যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না।

ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ছিলেন না, তারা গাণিতিক পরীক্ষায় প্রতি মিনিটে কম সঠিক উত্তর দিয়েছেন। মনোযোগ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের পরীক্ষাতেও তারা তুলনামূলক ধীর ছিলেন।

শুধু সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও প্রভাব

এটি শুধু কয়েক ঘণ্টার সমস্যাই নয়।

২০২৪ সালে চীনের ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের ওপর আট বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব এলাকায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন বেশি, সেখানে মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমার প্রবণতা দেখা যায়।

গবেষকদের হিসাবে, ৩২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়লে গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ মানুষের গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও গবেষণাটির পূর্বাভাস।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের দেহের ওজন তুলনামূলক বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে গরমের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা বেশি হতে পারে।

এছাড়া একটানা তাপপ্রবাহ শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন পর্যন্ত চিন্তা ও মনোযোগে প্রভাব থাকতে পারে।

গরমের দিনে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত।

সম্ভব হলে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা জটিল পরিকল্পনা কিছুটা ঠান্ডা পরিবেশে কিংবা গরম কমার পর করা ভালো।

পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভালো ঘুম এবং শীতল পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মস্তিষ্কের ওপর গরমের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথা

গরমকে আমরা সাধারণত শুধু শারীরিক অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখি। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর প্রভাব আমাদের চিন্তা, বিচার-বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।

তাই প্রচণ্ড গরমের দিনে যদি মনে হয় মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না, সেটি শুধু আপনার অনুভূতি নাও হতে পারে। অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে তাপমাত্রারই নীরব প্রভাব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

ভারতে আশ্রিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ‘পর্যালোচনা করছে’ দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য কী? বর্তমানে কোনো অনুকূল পরিবেশ নেই বলে ভারতও কী মনে করে?

ওই সাংবাদিক আরও জানতে চান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার মামলার নথিসহ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংক্রান্ত সব নথি ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে কিনা।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, আমাদের হাইকমিশনার গতকাল (১০ আগস্ট) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যে অন্য দুটি বিষয় তুলেছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ এবং হাদির মামলা; সেগুলোর বিষয়ে বলব, হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমাদের দেশে যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠে সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে যখন কোনো নতুন তথ্য থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।’

উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে।’

কালের আলো/এসএকে

নেপালে ‘শিকার’-এর শুটিংয়ে অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
নেপালে ‘শিকার’-এর শুটিংয়ে অপু বিশ্বাস

একসময় ঈদের সিনেমা মানেই ছিল অপু বিশ্বাসের উপস্থিতি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন এই চিত্রনায়িকা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁর কাজের ব্যস্ততা। এখন নিয়মিত শুটিংয়ে দেখা না গেলেও নতুন সিনেমা নিয়ে আবারও ব্যস্ত হয়েছেন অপু বিশ্বাস।

সম্প্রতি নেপালে শুরু হয়েছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিং। হিমালয়ের দেশটির পর্যটননগরী পোখারার মনোরম পাহাড়ি পরিবেশে গত ৯ আগস্ট শুরু হয়েছে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ।

শুটিং শুরুর আগে আয়োজন করা হয় সিনেমাটির মহরত। নিজস্ব রীতি অনুসরণ করে সিনেমার মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন নতুন নায়ক মুর্তজা পলাশ। এরপর নারিকেল ভেঙে শুটিংয়ের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন কলকাতার অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য।

কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত ও রেজা ফিল্ম প্রযোজিত ‘শিকার’-এর প্রথম দিনের শুটিংয়ে অংশ নেন অপু বিশ্বাস, মুর্তজা পলাশ, বড়দা মিঠু, কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য।

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিল্পী ও কলাকুশলীদের সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। নেপালের বিভিন্ন মনোরম লোকেশন ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় এক মাস ধরে চলবে ‘শিকার’-এর শুটিং।

সিনেমাটি আগামী বছর ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুক্তির তারিখের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

‘শিকার’-এ অভিনয়ের সুযোগটি গল্পের কারণেই গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন অপু বিশ্বাস। তাঁর ভাষ্য, ‘যখন নির্মাতা গল্প নিয়ে আসেন, আমি তখনই রাজি হয়ে যাই। কারণ, সিনেমাটিতে আমার কাজের জায়গা আছে, অভিনয়ের জায়গা আছে। আর এই সিনেমার মাধ্যমে আরও একজন নতুন নায়ক মুর্তজা পলাশের অভিষেক হবে। এটা নিয়েও আমি অনেক বেশি এক্সাইটেড। আশা করি, গল্পটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

নাটকে একাধিকবার অভিনয় করলেও ‘শিকার’-এর মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে মুর্তজা পলাশের। সিনেমার চরিত্রের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতিও নিয়েছেন তিনি। নতুন এই নায়কের অভিষেকের পাশাপাশি অপুর সঙ্গে কলকাতার জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতিও সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

বড় পর্দায় অপুর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ট্র্যাপ’। দীন ইসলাম পরিচালিত থ্রিলারধর্মী সিনেমাটি ২০২৪ সালে মুক্তি পায়। এরপর নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে দেখা যায়নি তাঁকে।

তবে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বর্তমানে একাধিক সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘শিকার’-এর পাশাপাশি তাঁর হাতে রয়েছে ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’।

‘দুর্বার’ পরিচালনা করছেন কামরুল হাসান ফুয়াদ। এতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন সজল। অন্যদিকে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘সিক্রেট’-এ অপুর নায়ক আদর আজাদ।

ফলে ‘শিকার’-এর মাধ্যমে নতুন করে শুটিংয়ে ফেরার পাশাপাশি সামনে পরপর নতুন চরিত্র ও গল্প নিয়ে বড় পর্দায় হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অপু বিশ্বাস।

কালের আলো/এসএ

রাজশাহীতে একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে মা-ছেলে দু’জনই পেলেন জিপিএ-৫

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে মা-ছেলে দু’জনই পেলেন জিপিএ-৫

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাজিমাত করেছেন এক মা ও তার ছেলে। দু’জনই পেয়েছেন  অভাবনীয় সাফল্য । পেয়েছেন জিপিএ-৫। মা-ছেলের এ সাফল্যে এখন পরিবারজুড়ে আনন্দ।

তারা হলেন রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকার বাসিন্দা মোছা. সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ। তারা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এসএসসি’র ফল জানার পর তাদের বাড়িতে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। ফল প্রকাশের পর স্বজন ও পরিচিতজনরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সাদিয়া বেগমের স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। স্বামী-সংসার, সন্তান লালন-পালনসহ নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

জানা গেছে, ১৯ বছর আগে সাদিয়া বেগম বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এরপরে থেমে যায় তার পড়াশোনা। সংসার ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর বই-খাতার বাইরে ছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি টানটা রয়ে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত নতুন করে শুরু করেন শিক্ষাজীবন। সংসার সামলেছেন, দুই ছেলের পড়াশোনার খোঁজ রেখেছেন; এর পাশাপাশি নিজেও চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের সম্মতিতে সংসারের কাজের ফাঁকে চলে পড়াশোনা। সন্তানের পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার সময়ও বের করেছেন।

চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন সাদিয়া বেগম। তিনি রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ছেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। অর্থাৎ একই বছরে একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে মা ও ছেলে দু’জনই পেয়েছেন জিপিএ-৫।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সাদিয়া বেগম বলেন, পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক থাকলেও বিয়ের পর নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

পরিবারের সম্মতিতে চলতি বছর ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, সংসার সামলে ও দুই ছেলের পড়ালেখার খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি নিজে পড়ালেখা করে জিপিএ-৫ পেয়েছি। সঙ্গে ছেলেও পেয়েছে জিপিএ-৫। মা-ছেলের এমন সাফল্যে আমরা পুরো পরিবার আনন্দিত।

তানভীর বলে, আমি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান। মায়ের সঙ্গে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই জনই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের হয়! আমি সেই সৌভাগ্যবান।

মা-ছেলের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়াই। সঙ্গে তার মাকেও সহযোগিতা করছিলাম। মা-ছেলে দু’জনের এমন সাফল্যে আমি অনেক খুশি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি