খুঁজুন
                               
, ,
           

ধীরে ধীরে সরু হচ্ছে রক্তনালি, ঝুঁকিতে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক

লাইফ স্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
ধীরে ধীরে সরু হচ্ছে রক্তনালি, ঝুঁকিতে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক

ভ্যাসকুলার রোগ আসলে কী?

গত এক দশকে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অসংক্রামক রোগের (NCDs) প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সাধারণত মানুষ জানেন, এসব রোগ হার্ট, লিভার, চোখ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর আরেকটি গুরুতর পরিণতি ক্রমেই সামনে আসছে—রক্তনালির রোগ বা ভ্যাসকুলার ডিজ়িজের দ্রুত বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রক্তনালিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভ্যাসকুলার রোগের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

ভ্যাসকুলার রোগ আসলে কী?

ভ্যাসকুলার রোগ বলতে ধমনী ও শিরার এমন সব সমস্যাকে বোঝায়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর সবচেয়ে পরিচিত জটিলতা হলেও, এই রোগ কিডনি, চোখ, মস্তিষ্ক এবং পায়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তনালি সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। এর ফলে শরীরজুড়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ভ্যাসকুলার রোগীদের বড় একটি অংশের এক বা একাধিক অসংক্রামক রোগ থাকে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কিংবা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

ভ্যাসকুলার রোগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, অবশ ভাব, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের মতো উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান।

ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

কেন বাড়ছে এই সমস্যা?

চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা অভ্যাসও রক্তনালির ক্ষতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

কীভাবে কমবে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ ভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ত্যাগ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো—এসব অভ্যাস ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

সময়মতো সতর্কতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রক্তনালির রোগের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার ফিরতে হচ্ছে একেবারে খালি হাতে। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানে হেরে ব্রোঞ্জও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে তিনবার অংশ নিয়ে প্রতিবারই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতেছিল দলটি। পরের আসরগুলোতেও পদক নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইটাও জিততে পারেনি লিটন দাসের দল। এই ব্যর্থতার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আমরা খুবই লজ্জিত’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন বলেন, দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক। আমরা লজ্জিত এবং পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে অবশ্য ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ওই সময় তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫১ রান।কিন্তু শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলিং এলোমেলো হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।

ব্যাটিংয়েও চরম ব্যর্থতা

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনই ফেরেন শূন্য রানে।শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদ। তবে তাঁর এই ইনিংসও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

হারের কারণ জানালেন কোচ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন উইকেট ও বোলিংয়ের পাশাপাশি পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানোর বিষয়টি সামনে আনেন।তিনি বলেন, ম্যাচের উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি ওভার খুব খারাপ করেছে। বিশেষ করে দলের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ মূল বোলাররাই বেশি রান দিয়েছেন। ব্যাটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাওয়ার প্লেতে একাধিক উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্রিকেটারদের পাশে লিটন

দলের এমন ব্যর্থতার পরও সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা সবসময় দেশের হয়ে লড়াই করেন। এবার তারা ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি নিয়ে দল অবশ্যই লজ্জিত। লিটনের ভাষায়, পুরো দল হিসেবেই তারা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, এখন সেটিই দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের এবারের অভিযান তাই শেষ হলো কোনো পদক ছাড়াই। সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও হেরে দেশে ফিরছে খালিহাতে।

কালের আলো/এসএ

 

 

ভয়াবহ বন্যায় ডুবছে ব্যাংকক, ৫০ জেলায় দুর্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ বন্যায় ডুবছে ব্যাংকক, ৫০ জেলায় দুর্যোগ

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কোথাও রাস্তাঘাটের অস্তিত্ব নেই, আবার কোথাও আবাসিক ভবনের নিচতলা ও পার্ক করে রাখা গাড়ি ডুবে গেছে পানিতে। বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংককের ৫০টি জেলাতেই দুর্যোগ ঘোষণা করেছে থাই সরকার। বন্যার কারণে কয়েক হাজার মানুষ শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। মৃতদের অনেকে পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।

দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি

ব্যাংককের কয়েকটি এলাকায় মাত্র দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টি লন্ডনে প্রায় ছয় মাসে যে বৃষ্টি হয়, তার কাছাকাছি।

স্থানীয় ৭৩ বছর বয়সী বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুল বলেন, গত সপ্তাহের বৃষ্টি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টির মতো ছিল না। দিন-রাত একটানা বৃষ্টি হয়েছে এবং পানি ক্রমেই বাড়তে থেকেছে।

উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের খলং চান এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্স বন্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। বাদামি পানিতে ভবনগুলো ঘেরা। কোথাও পার্ক করা গাড়ির শুধু ছাদ দেখা যাচ্ছে। পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

সুলিমাস জানান, রোদ ওঠায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও পানিতে ভাসতে থাকা আবর্জনা ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিমানবন্দরেও বন্যার প্রভাব

বন্যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংককের প্রধান বিমানবন্দরেও। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কর্মস্থলে যেতে পারেননি। এতে বিপুলসংখ্যক লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।

বন্যার কারণে শহরের অনেক স্কুলও বন্ধ রয়েছে। যানজট ও জলাবদ্ধতার কারণে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারাও অনেক ক্ষেত্রে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

কোথাও ফোলানো প্লাস্টিকের পুল ব্যবহার করে মানুষ বাড়িতে যাতায়াত করছেন। আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

পানি নিষ্কাশন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

চাও ফ্রায়া নদীর বিস্তীর্ণ বন্যাপ্রবণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যাংকক। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণের ফলে অনেক খাল ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যাংককের বন্যা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেন, শহরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু এলাকায় এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু এবার কয়েকটি এলাকায় এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এক দফা বৃষ্টির পর আরেক দফা বৃষ্টির মধ্যে পানি সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময়ও পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, উত্তরের দিক থেকে নেমে আসা পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী সপ্তাহেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে বেশি পানি বাষ্পে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারছে। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী নিকোলাওস স্ক্লিরিস বলেন, মধ্য থাইল্যান্ডে অতিবৃষ্টির প্রবণতা ইতোমধ্যে কিছুটা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন জলবায়ু মডেলেও ভবিষ্যতে আরও বেশি ও তীব্র বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এই নির্দিষ্ট বৃষ্টিপাতের জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা এখনই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কপের্নিকাস ক্লাইমেট পালসের তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক উষ্ণ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি নিম্নচাপ কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম হয়ে ব্যাংককের ওপর আটকে যাওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবও রয়েছে। সাধারণত এল নিনোর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এর প্রভাবে কিছু এলাকায় চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনাও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারেও বন্যা ও ভূমিধস

একই আবহাওয়ার প্রভাবে পাশের দেশ মিয়ানমারেও আকস্মিক বন্যা ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কা দেত নে হেইন গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও একটি গ্রামের কাদার নিচে আটজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ব্যাংককে পুরো সক্ষমতায় পানি নিষ্কাশন পাম্প চালানো হচ্ছে। তবে শহরের সব এলাকা থেকে পানি পুরোপুরি সরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কালের আলো/এসএ

অন্তঃসত্ত্বা হয়েও শুটিং, দুর্গাপূজায় ফিরছেন সোহিনী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
অন্তঃসত্ত্বা হয়েও শুটিং, দুর্গাপূজায় ফিরছেন সোহিনী

২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সিনেমা ‘বহুরূপী’ দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল। সেই সিনেমার পরের গল্প নিয়ে এবার পর্দায় ফিরছেন নির্মাতা জুটি। নতুন কিস্তি ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-তে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন যীশু সেনগুপ্ত ও সোহিনী সরকার।

মুখোমুখি যীশু ও শিবপ্রসাদ

নতুন সিনেমায় গল্পের অন্যতম আকর্ষণ যীশু সেনগুপ্ত ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি লড়াই। শিবপ্রসাদের অভিনীত বিক্রম প্রামাণিকের বিপরীতে এবার দেখা যাবে যীশুকে। তাঁর চরিত্রের নাম ইন্সপেক্টর অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে সোহিনী সরকার অভিনয় করেছেন ঝিমলি চরিত্রে। যীশুর চরিত্র একজন দৃঢ়চেতা পুলিশ কর্মকর্তা, আর শিবপ্রসাদের বিক্রম এমন এক বহুরূপী ডাকাত, যে নিজের নিয়মে চলে। ফলে আইনের দুই প্রান্তে থাকা দুই চরিত্রের সংঘাতই সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

টিজার প্রকাশের সময় শিবপ্রসাদও জানিয়েছিলেন, যীশু ও তাঁর চরিত্রের মধ্যে রয়েছে তীব্র দ্বন্দ্ব। একদিকে আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা, অন্যদিকে নিজের মতো করে চলা এক ডাকাত—দুজনের এই সংঘাতকে ঘিরেই এগিয়েছে গল্পের বড় একটি অংশ।

অ্যাকশনের পাশাপাশি প্রেম

তবে শুধু অ্যাকশন কিংবা সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নয় সিনেমাটি। গল্পে রয়েছে প্রেমের আবহও। যীশু ও সোহিনীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রোমান্টিক সম্পর্ক।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ভুলতে পারবে না’ গানটি সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছে। যীশুর ভাষায়, গানটির মাধ্যমে সিনেমায় তৈরি করা জগতের একেবারে ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। আর সোহিনীর মতে, গানটি তাঁর চরিত্র ঝিমলির আবেগ ও যাত্রাকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই শুটিং

‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সোহিনীর ব্যক্তিজীবনেরও একটি বিশেষ সময়ের সাক্ষী। সিনেমাটির শুটিংয়ের পুরো সময় তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা।

অভিনেত্রী জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস চিকিৎসকের পরামর্শে বিষয়টি কাউকে জানাননি। এমনকি তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িও তখন জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হতো, শরীরে শক্তি থাকত না—তারপরও শুটিং চালিয়ে গেছেন তিনি।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কাজ করা নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও একমত নন সোহিনী। তাঁর মতে, গর্ভাবস্থাকে ঘিরে সমাজে অনেক ভয় ও ট্যাবু রয়েছে। তাই শুটিং বন্ধ না করে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এর মধ্যেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন অভিনেত্রী। ২০ সেপ্টেম্বর,২০২৬ মা হয়েছেন সোহিনী।

পর্দার রসায়নের বিচার দর্শকের

যীশু ও সোহিনীর নতুন জুটি নিয়ে অবশ্য আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চান না সোহিনী। পর্দায় তাঁদের রসায়ন কেমন হয়েছে, সেটির বিচার দর্শকরাই করবেন বলে মনে করেন তিনি।

তবে যীশুর সঙ্গে কাজ করার সময় বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁদের আগে থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় থাকায় কাজের ক্ষেত্রেও সেই পরিচিতি কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করেছে।

অন্যদিকে যীশুর কাছেও সিনেমাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘পোস্ত’ ও ‘বাবা বেবি ও’-এর পর আবারও শিবপ্রসাদ-নন্দিতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

শিবপ্রসাদের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন যীশু। তাঁর মতে, শিবপ্রসাদ এত ভালো অভিনেতা যে তিনি অভিনয়কে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিলে অন্য অনেক অভিনেতার জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যেত।

সব মিলিয়ে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র, অ্যাকশন-রোমান্স এবং যীশু-সোহিনীর নতুন জুটি—সবকিছু মিলিয়ে দুর্গাপূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’।

কালের আলো/এসএ