খুঁজুন
                               
, ,
           

অতিরিক্ত চিনি খেলে কি ক্ষত নিরাময় ধীর হয়ে যায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত চিনি খেলে কি ক্ষত নিরাময় ধীর হয়ে যায়?

আপনি হয়তো অনেককে বলতে শুনেছেন, “চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন, এতে আপনার ক্ষত দ্রুত সেরে উঠবে”। কিন্তু এর মধ্যে কি কোনো সত্যতা আছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে বেশ খানিকটা সত্যতা রয়েছে।

ক্ষত নিরাময়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর মতো একমাত্র কারণ চিনি নয়, কিন্তু যেহেতু রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বেড়ে গেলে তা ক্ষত নিরাময়কে বিলম্বিত করতে পারে, তাই এটি একটি কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ক্ষত নিরাময়কে ধীর করে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি তা বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় বা রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়।

ক্ষত নিরাময় কীভাবে কাজ করে?

ক্ষত নিরাময় কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়। এটি বেশ কয়েকটি বিষয়ের সম্মিলিত ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। সেগুলো হলো কার্যকরী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ভালো রক্ত ​​সরবরাহ এবং টিস্যু পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি। যখন এই বিষয়গুলোর কোনো একটিতে ব্যাঘাত ঘটে, তখন নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এমন একটি বিষয় যা এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

শরীরের নিরাময় ক্ষমতার ওপর চিনির প্রভাব

অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মাত্রা বাড়তে পারে। এই প্রদাহ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা সক্রিয়ভাবে টিস্যু মেরামতের কাজে বাধা দেয়। এটি এমন একটি চক্র তৈরি করে যা থেকে শরীরের পক্ষে নিজে থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।

যখন রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, যেমনটা ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তখন এটি ধীরে ধীরে রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এটি শরীরের যে অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি বহন করার জন্য রক্তনালীগুলোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। কিন্তু এটাই সব নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শ্বেত রক্তকণিকাও দুর্বল হয়ে পড়ে, যে কোষগুলোর ওপর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্ভর করে। এর ফলস্বরূপ ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগে, সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

বার্নস অ্যান্ড ট্রমা (Burns & Trauma) জার্নালে প্রকাশিত একটি ২০২৫ সালের পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্ষত নিরাময়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্লুকোজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীর রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে শক্তি জোগাতে, নতুন টিস্যু তৈরি করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করতে গ্লুকোজ ব্যবহার করে।

কিন্তু যখন গ্লুকোজ বিপাকে সমস্যা হয়, যেমনটা ডায়াবেটিসে হয়ে থাকে, তখন এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এটি নিরাময় প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং সংক্রমণ বা অঙ্গহানির মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এখানেই প্রেক্ষাপটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাক-সবজি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে থাকা চিনি আর ক্যান্ডি ও সফট ড্রিংকসে থাকা চিনি এক নয়। প্রাকৃতিক চিনির উৎসগুলো সর্বোত্তম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতে ব্যবহৃত হয়।

ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে আপনার যা খাওয়া উচিত

যদি আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, আঘাত বা কোনো অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে, তবে সঠিক টিস্যু মেরামতের জন্য প্রোটিন, গোটা শস্যের ভিটামিন ও খনিজ নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখতে হবে।

এছাড়া শস্যদানা, ফল ও শাক-সবজি খেতে হবে। প্রচুর তরল পান করতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতালা নামক এলকার গ্রিড সবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার গ্রিড সাবস্টেশনটির মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রাতে হঠাৎ করে ওই সাবস্টেশনটির ভেতরে একটি বিকট শব্দ হয়। এর পরপরই স্টেশনটির ৬ নম্বর ফিডারে আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট হলেও স্টেশনের ভিতরে থাকা অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ পুড়ে যাওয়াসহ কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, রাতে অফিসেই ছিলাম। হঠাৎ করে বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

আমরা কাজ শুরু করেছি এবং সকল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি। তবে যে যন্ত্রাংশটি পুড়েগেছে তা পটুয়াখালী থেকে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করতে না পারলেও আগামীকাল সকালের মধ্যে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না কেনো এ ঘটনা ঘটেছে৷

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি