লবঙ্গেই মিলতে পারে সুস্থ থাকার গোপন রহস্য
রান্নাঘরের পরিচিত মসলা লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে সকালে পরিমিত পরিমাণে, যেমন দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কিছু সুফল দিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মনে রাখতে হবে, লবঙ্গ কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।
লবঙ্গে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে?
ছোট্ট এই মসলায় রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ফাইবারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং ইউজেনল নামের একটি সক্রিয় যৌগ থাকে, যা লবঙ্গের অনেক সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।
দাঁতের ব্যথা কমাতে সহায়ক
লবঙ্গে থাকা ইউজেনল প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা উপশমে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দাঁতের ব্যথা ও মাড়ির অস্বস্তি কমাতে এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ কারণেই অনেক টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ ও ওরাল কেয়ার পণ্যে লবঙ্গ বা লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা হয়।
জয়েন্টের ব্যথা ও প্রদাহে উপকার পেতে পারেন
লবঙ্গে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথায় লবঙ্গ তেল মালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
সর্দি-কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস কিংবা সাইনোসাইটিসের মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় লবঙ্গ তেলের সুগন্ধ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে
বদহজম, গ্যাস, বমি বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো হজমজনিত সমস্যায় লবঙ্গ উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যানসার প্রতিরোধে গবেষণা চলছে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে থাকা ইউজেনল ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যাপ্ত মানবভিত্তিক গবেষণা হয়নি। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে লবঙ্গকে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
প্রাথমিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা খাদ্য পরিকল্পনার বিকল্প নয়।
আরও যেসব কাজে লবঙ্গ ব্যবহৃত হয়
লবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ম্যালেরিয়া ও কলেরার ওষুধ তৈরির গবেষণা ও প্রস্তুতিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া লবঙ্গ তেল প্রাকৃতিকভাবে মশা দূরে রাখতে কার্যকর বলে পরিচিত।
অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া বা বেশি পরিমাণে লবঙ্গ তেল ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যাদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয়, তাদের নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে, ওয়েবএমডি, হেলথলাইন
কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি





আপনার মতামত লিখুন
Array