খুঁজুন
                               
, ,
           

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের দিনটিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আগামীকাল বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপসহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পলাতক স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতা–কর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এই সব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে। ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনো ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।

কালের আলো/এসএকে

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নেএকোনা(কেন্দুয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘রাখি চারপাশ পরিষ্কার, করি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য নিজেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সড়ক ও আশপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা স্থান এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য উৎসগুলো পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে কেন্দুয়া পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন N1 Kendua। কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা, আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্য জোরদার করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে প্রকাশিত নতুন নীতিতে একদিকে আমদানিকারকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, অন্যদিকে পণ্যের উৎপত্তি, মান, পরীক্ষণ, সনদ ও বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পালনে আনা হয়েছে আরও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন নীতির সামগ্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্য শুধু আমদানির বাধা কমানো নয়; বরং ব্যবসার পরিবেশকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো।

মোটরসাইকেলে বড় পরিবর্তন
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি মোটরসাইকেল আমদানিতে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতে এ সীমা ছিল ১৬৫ সিসি। অর্থাৎ এক লাফে আমদানিযোগ্য মোটরসাইকেলের সিসি সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের মোটরসাইকেল বাজারে বড় ইঞ্জিনের মডেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। ভোক্তাদের সামনে যেমন নতুন মডেলের বিকল্প তৈরি হবে, তেমনি আমদানিকারকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এর প্রভাব শুধু বাজারে নতুন মডেল আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় সিসির মোটরসাইকেলের আমদানি বাড়লে সংশ্লিষ্ট শুল্ক, রাজস্ব, বাজার প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় সংযোজন বা উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এলসি ছাড়াই চুক্তিতে আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ। এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিটি লেনদেনের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ও ক্রেতার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ কিংবা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

মূল্যসীমা তুলে দেওয়ার ফলে এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নমনীয়তা বাড়বে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে দায়ও
তবে নীতির এই শিথিলতাকে শুধু ‘আমদানিতে ছাড়’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—ব্যবসা সহজ করার সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র ও তথ্যের দায়ও বাড়ানো হয়েছে। পণ্যের উৎপত্তি, মান, স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ, পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট সনদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের শুধু পণ্য আনার ব্যবস্থা করলেই হবে না; পণ্য কোথায় উৎপাদিত, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না—এসব তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে।

এতে একদিকে ভুয়া উৎপত্তি, ভুল ঘোষণা বা নিম্নমানের পণ্য আমদানির ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে প্রস্তুতিমূলক কাগজপত্র ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনায় দুর্বল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

‘পণ্যের দেশ’ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি পণ্যের Country of Origin বা উৎপত্তির দেশ নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো পণ্য এক দেশে তৈরি হয়ে অন্য দেশে সংযোজন, প্রক্রিয়াজাত কিংবা পুনঃরপ্তানি হলে প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নতুন আমদানি নীতিতে এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য উৎপত্তি সনদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠবে।

এটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি যাচাইয়ের প্রয়োজনও বাড়বে। সঠিক নথিপত্র না থাকলে বিশেষ শুল্ক সুবিধা কিংবা বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মানের প্রশ্নে ছাড় নয়
আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমদানি করা পণ্যের মান নিশ্চিত করাও ততটাই জরুরি। নতুন নীতিতে পণ্যের স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ ও পরিদর্শনের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি Technical Barriers to Trade (TBT), Codex Alimentarius এবং বিএসটিআই-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বিশেষ করে খাদ্য, ভোগ্যপণ্য ও মাননিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের শুধু আমদানির অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি দেখলেই চলবে না; পণ্যের মান ও প্রয়োজনীয় সনদের বিষয়টিও আগেই নিশ্চিত করতে হবে।

ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইতিবাচক হতে পারে। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলেও মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে বাজারে নিম্নমানের বা অনিরাপদ পণ্যের প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। নতুন নীতির কাঠামো সেই জায়গায় একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।

বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা, তবে শর্তসাপেক্ষ
নতুন নীতিতে এফটিএ, সিইপিএ, ইপিএ, পিটিএ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাও। কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে শুধু চুক্তি থাকলেই হবে না; পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম, প্রয়োজনীয় সনদ এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন নীতির বার্তা অনেকটা এমন—আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা আরও খোলা হবে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের নিয়মও স্পষ্টভাবে মানতে হবে।

মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
নতুন আদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আমদানিকে শুধু ভোগের সঙ্গে না দেখে উৎপাদন ও রপ্তানির সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দ্রুত ও সহজে কাঁচামাল সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের জন্য আসল পরীক্ষা বাস্তবায়নে
নতুন আমদানি নীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন। কাগজে নিয়ম সহজ হলেও মাঠপর্যায়ে যদি একই ধরনের তথ্য বারবার চাওয়া হয়, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা থাকে কিংবা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়, তাহলে নীতির কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাবেন না। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদেরও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কমপ্লায়েন্স, তথ্য সংরক্ষণ, উৎপত্তি সনদ, মান যাচাই ও সঠিক নথিপত্রে। অর্থাৎ নতুন নীতিতে ‘সহজ আমদানি’ মানেই ‘কম দায়িত্ব’ নয়।

সব মিলিয়ে আমদানি নীতি ২০২৬–২০২৯ বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোটরসাইকেল আমদানির সীমা বাড়ানো কিংবা চুক্তিভিত্তিক আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনতে পারে। একই সঙ্গে উৎপত্তি, মান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির শর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে আমদানি ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—নীতির সুবিধা যেন কাগজে আটকে না থাকে। আমদানি প্রক্রিয়া সত্যিই দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা গেলে নতুন নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর বাস্তবায়নে জটিলতা থেকেই গেলে নতুন নিয়মও পুরোনো আমলাতান্ত্রিক বাধার কাছে তার কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা হারাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু রিপোর্ট ও কাগুজে তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীর প্রকৃত উপস্থিতি, শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা সরাসরি যাচাই করা হবে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। কাগজে ভালো রিপোর্ট নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব শিখনফলই হবে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহীর পিটিআই অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের আটটি বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামত গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য বাথরুম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও আসবাবসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কাগুজে রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি উল্লেখ বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষা পাবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ