খুঁজুন
                               
, ,
           

সংসদে আফরোজা খানম

পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, পর্যটন খাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার  (১৮ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে পর্যটন শিল্প অন্যতম। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন শিল্প এখনো অনেকটা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না?

জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যক্রম নিয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।

পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা পর্যটন মন্ত্রীর লিখিত জবাব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো :

দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার
দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে আসছে। সোর্স মার্কেটসমূহে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো ও বিটুবি সেশন আয়োজন, সোর্স মার্কেটের ট্যুর অপারেটর ট্রাভেল, এজেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন, বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রচার, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রচার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সোর্স মার্কেটে প্রচার কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর এ সব কার্যক্রমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশন কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে।

টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), ভিডিও, ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন : টিভিসি, ডকুমেন্টারি, ফটো প্রস্তুতের কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর ২৮টি ৩-৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখানে থিমভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ভিত্তিক কার্যক্রম-এর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০ এর অধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করেছে যা বিউটিফুল বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ২০০টি ফটো ও ২ থেকে ৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৬০টি বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি সংগ্রহ করেছে যা প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনে ডিজিটাল মার্কেটিং
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন : ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (পূর্বতন টুইটার), লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রামে ফটো ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রমোশনাল ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন
বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল রাইটার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হচ্ছে।

হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার পণ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিটুবি সেশন আয়োজন
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর নিয়ে বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের ৯৭ জন ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশের ১২৫ জন ট্যুর অপারেটর এবং হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও টুরিস্ট ভেসেলের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও পর্যটন আকর্ষণ আগত ট্যুর অপারেটরদের নিকট তুলে ধরে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসসমূহের মাধ্যমে পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহ তুলে ধরতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ, পণ্য ও সেবা বিষয়ক লিফলেট, ব্রশিউর, টুরিস্ট ম্যাপ, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ব্রান্ডবুক ও টিভিসিসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পর্যটকদের নিকট দেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিষয়ক তথ্য দেওয়া ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অফিস বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নামক একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স বা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে ও দোভাষী হিসেবে দক্ষতা উন্নয়নে গাইডদের বিদেশি ভাষার ওপর এবং সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন শিল্পের (ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিক) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীজন পরিচিতিমূলক সভা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ইন্টার্নশিপ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর, সিবিটি কর্মী, হোমস্টের পরিবার, ইউএন ভলেন্টিয়ারদের সেবা দেওয়া ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আজকের এ বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, আমরা এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছি। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে।

তিনি আরও বলেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখানে গড়ে উঠবে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, বিভিন্ন সেবাখাত। কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

কালের আলো/এসএকে

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

রংপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর টার্মিনাল মৎস আড়ত এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। বিএনপি একবার নয়, পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সে রকমভাবে গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির সাহেব তাদের দলের গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়বেন। তাদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটি তারাই বিবেচনা করবেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে বিআরডিবির সুফলভোগীদের মধ্যে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’মুক্ত টুথপেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
সহজে চিনে নিন ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’মুক্ত টুথপেস্ট

Oplus_131072

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তবে পরীক্ষায় ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ইএসডিও জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানিকৃত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)-তে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি কণা পাওয়া গেছে।

এছাড়া পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি, সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এ ৮০টি এবং আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি

ইএসডিওর গবেষণা অনুযায়ী, নিচের ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি—

জেনফ্রেশ (দেশীয় ব্র্যান্ড)

প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)

ক্লোজ-আপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি

প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার (ভারত)

সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল (ভারত)

কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ (ভারত)

কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট (ভারত)

কোডোমো অরেঞ্জ (থাইল্যান্ড)।

ইএসডিও জানিয়েছে, এ গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা এবং লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির বৈজ্ঞানিক চিত্র তুলে ধরাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।

সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এসএকে