খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (EARN) প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের আওতায় আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

এতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই- ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন নয় লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষিণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত আর্ন প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট (Not in Education, Employment or Training) । প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে, যা দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, আর্ন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এই ধরণের নিষ্ক্রিয় যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ এবং এই হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই নিষ্ক্রিয় যুব সমাজ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয় যুব সমাজকে কর্মমুখী করা ও এদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হলো আর্ন।

বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক (Quality and Cost Based Selection-QCBS) দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪০১টি প্রতিষ্ঠান (Single Entity and Joint Venture) Expression of Interest (EoI) দাখিল করেছিল। যার মধ্যে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে  সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব (RFP) দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করে প্রতিটি প্যাকেজের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের চুড়ান্ত মুল্যায়ন করা হয় এবং সর্বাধিক সমন্বিত নম্বরপ্রাপ্ত এনজিও’র সাথে সমঝোতাপূর্বক খসড়া চুক্তি করা হয়।  ক্রয় প্রস্তাবগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো ব্র্যাক , সেভ দ্যি চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

EARN প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান,  এই প্রকল্প কোনো সাধারণ ‘প্রশিক্ষণ/দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প নয় বরং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রম। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি যুবদের জন্য সমন্বিত (Holistic) সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতমুখী খাতসমূহ বিকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

EARN প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা।  প্রকল্পটি সেইসব যুবক ও যুব নারীর জন্য কাজ করবে, যারা সাধারণত আনুষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কারণ অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ যুব সমাজ এই সকল প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ যুব সহায়তা প্রকল্প, যা যুবকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এ প্রকল্পটি শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয় বরং যুবকদের প্রকৃত প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক, জাতীয় ও বৈশ্বিক শ্রম বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী সহায়তা করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অনেক যুব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা, সিড ফান্ডের অভাব, ইন্টার্নশিপ ও অন্যান্য সহায়তার অভাবে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে না। এই প্রকল্প সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কাজ করবে।

চারটি কম্পোনেন্টে সম্পাদন হবে EARN প্রকল্পের কাজ। কম্পোনেন্ট ১: বিকল্প শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা। কম্পোনেন্ট ২: স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা প্রদান। কম্পোনেন্ট ৩: গ্রামীণ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় যুবদের বিশেষ করে যুব নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কম্পোনেন্ট ৪: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের মান উপযোগী করা হবে, আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যথাযথ সনদ প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণকে একই উন্নয়ন কাঠামোয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
  • ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার, উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করতে চাই যা সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’

জলবায়ু অর্থায়নে জনস্বার্থ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং অর্থায়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সংলাপে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সুশীল সমাজের সুপারিশ এবং জনস্বার্থকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থের সংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অর্থের ব্যবহারও হতে হবে পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করলে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জলবায়ু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার ওপর জোর
বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মঈন খান জাতিসংঘে পরিবেশবিষয়ক তাঁর ৩৫ বছর আগের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার মধ্যে দূষণকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিও ছিল। বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ আমরা অনুভব করছি যে, ৩৫ বছর আগে আমরা জাতিসংঘে যেসব পরিবেশগত শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলাম, আজও আমরা সেগুলোই পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদের দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের সমন্বয় বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ
উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জনগণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্মুক্ত মনোভাবের উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর উদাহরণ এ দেশের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে পরামর্শ গ্রহণে সরকারের উন্মুক্ত থাকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

ঋণের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল বিবেচনা
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ঋণ গ্রহণ নিজেই বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। তাঁর মতে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করা একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ এখানে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্যে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগে অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতার ভূমিকা তুলে ধরে ড. মঈন খান নেপালের একটি ঐতিহাসিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি দেখান, জনসচেতনতা ও পরিবেশগত আন্দোলন প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোকে শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত আলোচনা বা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংলাপে ড. মঈন খানের বক্তব্যে জলবায়ু অর্থায়ন, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।

এর আগে প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতারা।

তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
  • দোতলা সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • সুরক্ষা দেয়াল, শাটারিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে