খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শিল্প খাত বাঁচাতে গভর্নরের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
শিল্প খাত বাঁচাতে গভর্নরের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

উচ্চ সুদহার, গ্যাস সংকট, ডলারের চাপ ও কমে যাওয়া বাজারচাহিদার কারণে দেশের উৎপাদন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানায় নতুন করে অর্থায়নের বদলে যেসব কারখানা এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে সহায়তা দিলে শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ী নেতারা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান ব্যবসায়ী নেতা ও বিআইসি সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, শিল্প খাত সচল রাখতে কার্যকর মূলধন সহায়তা, ঋণের সুদহার কমানো, পেনাল ইন্টারেস্ট হ্রাস এবং বিদেশি রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইন ও জসীম উদ্দীন, বিসিআইর সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বিসিএমইএর চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএমএএমএর সভাপতি মতিউর রহমান, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং বিসিআইর সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তীসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময় থেকেই শিল্প খাতে কার্যকর মূলধনের সংকট তৈরি হয়েছে। পরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে উৎপাদন খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকারও মনে করে, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে শিল্প খাত টিকিয়ে রাখতে হবে। সেই বিবেচনা থেকেই বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা এলসি সীমা–সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর দাবি জানান। তাঁদের মতে, যেসব এলসি সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলো আলাদাভাবে ব্লক করে মূল সীমা সচল রাখলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদেশি তহবিল ও রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে কম সুদে অর্থায়ন পাওয়া যায়।

সুদহার প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় ৮ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নয়। এরপরও অতিরিক্ত স্প্রেড যোগ করে ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে নেওয়া হচ্ছে। সরকার চাইলে এই স্প্রেড কমিয়ে শিল্প খাতকে স্বস্তি দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার পর অতিরিক্ত পেনাল ইন্টারেস্ট আরোপ শিল্প খাতের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। শিল্পকারখানাকে শাস্তি না দিয়ে কীভাবে তারা ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবে, সেই পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

সিআইবি রিপোর্টে ‘গ্রুপ কনসেপ্ট’ নিয়েও আপত্তি তোলেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, একই পরিচালক থাকার কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে গ্রুপ হিসেবে দেখানো হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানও নেতিবাচক সিআইবি রিপোর্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান তাঁরা।

এমএসএমই খাত নিয়েও গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পারভেজ। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অনাগ্রহী। জটিল কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চালু এবং স্বল্প সুদে ঋণসুবিধা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে শুনেছে। গভর্নর জানিয়েছেন, কার্যকর মূলধন, বিদেশি রিফাইন্যান্সিং ও পেনাল ইন্টারেস্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে এবং শিগগিরই কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতা বলেন, একটি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সেটি পুনরায় সচল করা অত্যন্ত কঠিন। তাই যেসব কারখানা এখনো চালু আছে, সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকট, গ্যাসের মূল্য ২৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে। শিল্প শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি জাতীয় সম্পদ। তাই সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।

তহবিল সহায়তা প্রসঙ্গে পারভেজ জানান, রপ্তানি খাতের ক্যাশ ইনসেনটিভের অর্থ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে গভর্নর জানিয়েছেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন-সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

নামমাত্র খরচে বিটিভিতে বিশ্বকাপ, স্বত্ব বেচেই উঠে গেছে সম্প্রচার ব্যয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
নামমাত্র খরচে বিটিভিতে বিশ্বকাপ, স্বত্ব বেচেই উঠে গেছে সম্প্রচার ব্যয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য ফিফার সঙ্গে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, টেলিকম অপারেটর, স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ওটিটি প্লাটফর্মের কাছে সম্প্রচারস্বত্ব ও বিজ্ঞাপন বিক্রির মাধ্যমে প্রায় পুরো অর্থ উঠে এসেছে।

ফলে নামমাত্র খরচে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার করতে পারবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ফিফার সঙ্গে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং যৌক্তিক মূল্যে চুক্তি স্বাক্ষর করার আহ্বান জানাই। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ভ্যাট এবং আয়করসহ মোট মূল্য দাড়াঁবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।

স্বত্ব বিক্রিতেই সম্প্রচার ব্যয় উঠে এসেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য আনন্দের বিষয় হলো এই টাকা বিটিভিকে পরিশোধ করতে হবে না।

আমরা টেলকো, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ওটিটি প্লাটফর্মের কাছে নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাডভারটাইজমেন্ট এবং রাইটস বিক্রি করে প্রায় সব টাকা উঠিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জ্ঞান ও বিজ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি: প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
জ্ঞান ও বিজ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি: প্রিন্স

Oplus_131072

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও বিজ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। যে দেশ গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যায়, সেই দেশই বিশ্ব নেতৃত্ব দেয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ময়মনসিংহে বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল।

এ সময় প্রিন্স বলেন, জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের আগ্রহ সৃষ্টি করা। বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আজ একে অপরের পরিপূরক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ ডাটা ও বায়োটেকনোলজির যুগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তির উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে খুদে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেন।

প্রিন্স আরও বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বিশ্বকে পথ দেখানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তরুণ শিক্ষার্থী ও খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের কৌতূহল, স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের সাহস রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক ড. মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন্নাহার এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা।

এ ছাড়া খুদে বিজ্ঞানী ও তরুণ গবেষকরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পগুলোর সম্ভাবনা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/এসএকে

ডা. শফিকুর রহমান

সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো সরকারের দেওয়া বাজেটই কার্যকর হবে না। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের আলোকে কেমন বাজেট হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। এটি কোনো চূড়ান্ত বাজেট নয়, বরং বাজেটের পূর্বধারণা বা প্রস্তাবনা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশা করে আসছে। কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনগণ হতাশ হয়েছে এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বীমা ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংকটে রয়েছে, আর ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের অর্থনীতি আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।

বাজেট প্রস্তাবনার লক্ষ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো দলীয় বাজেট নয়; দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইলে এখান থেকে ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া কমবে এবং বছরের শেষ দিকে এডিপি ব্যয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

সম্পূরক বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে সংসদীয় পর্যালোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বরং নিয়ম অনুযায়ী আগেই তা সংসদে আনা হলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান কর আদায় ব্যবস্থায় নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় কর দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েন। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরাও আরও উৎসাহ নিয়ে কর প্রদান করবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য একটি জনবান্ধব বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে জনগণের মতামত ও সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে। কারণ গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়েই আরও উন্নত ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে মিলেমিশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন