খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

অন্ধকার রাত। রাজধানীর উপকণ্ঠের কোনো এক নির্জন গোরস্তান। মাটির গভীরে সবেমাত্র দাফন করা হয়েছে এক ব্যক্তির লাশ। কিন্তু চিরনিন্দ্রায় শায়িত ওই লাশ তুলতে ওতপেতে আছে একদল ‘লাশচোর’। শাবলের কোপে মাটি সরে যায়, কাফন ছিঁড়ে বের করে আনা হয় নিথর দেহ। এরপর শুরু হয় বীভৎসতা। মাংস অ্যাসিডে ঝলসে ও রাসায়নিক দিয়ে পুড়িয়ে হাড়গুলো আলাদা করা হয়। এ হাড়গুলোই কয়েক হাত বদল হয়ে যখন ধবধবে সাদা কঙ্কাল হিসেবে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পৌঁছায়, তখন এর দাম গিয়ে ঠেকে ৩০-৪০ হাজার টাকায়।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি সিমুলেশনের মাধ্যমে মানবদেহের নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করছে, তখন বাংলাদেশের ১০ হাজার নবীন চিকিৎসকের পড়াশোনার হাতেখড়ি হচ্ছে কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড় দিয়ে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যুগের পর যুগ ধরে চলা অমানবিক ও বীভৎস এ ‘কঙ্কাল বাণিজ্য’ এখন কয়েক কোটি টাকার এক সুসংগঠিত মাফিয়া সিন্ডিকেট

সদ্য মৃত প্রিয়জনকে পরম মমতায় যখন স্বজনরা কবরে শায়িত করেন, তখন তারা কল্পনাও করতে পারেন না যে, অচিরেই নিথর দেহটি পরিণত হতে পারে পণ্য বা ব্যবসায়িক হাতিয়ারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার নতুন মেডিকেল শিক্ষার্থীর

অ্যানাটমি শিক্ষার অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল বা ‘হিউম্যান স্কেলেটন’। কিন্তু এই কঙ্কাল সংগ্রহের কোনো বৈধ বা রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া না থাকায় গড়ে উঠেছে ভয়াবহ ও অমানবিক এক ‘লাশ চুরি’ সিন্ডিকেট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও একটি প্রাচীন ও অমানবিক প্রথা আঁকড়ে ধরে রাখার এ জেদ কেবল লাশের অবমাননাই করছে না; বরং হবু চিকিৎসকদের শিক্ষার শুরুতেই এক অনৈতিক বাণিজ্যের অংশীদার করে তুলছে।

 

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ আমলে মেডিকেল কলেজগুলোয় এই কঙ্কাল বাণিজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে। মেডিকেল কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতারা এ ব্যবসাকে কোটি টাকা আয়ের উৎস বানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) শিক্ষার্থী ছিলেন মুর্তজা শাহরিয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, “তৎকালীন মিটফোর্ড ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হাসান আরিফ ছিলেন এই কঙ্কাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। কঙ্কাল বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় ‘মাফিয়া’ ছিলেন একই মেডিকেল কলেজের তৎকালীন শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা মজনু মিয়া। শেরপুর নিবাসী ছাত্রলীগের ওই নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল কঙ্কাল ডিস্ট্রিবিউশনের বিশাল নেটওয়ার্ক। এ সিন্ডিকেটের তিনটি ভাগ ছিলÑএকদল কবর থেকে লাশ সরাত, একদল লাশ গলিয়ে হাড় আলাদা করত আর ছাত্রনেতারা ছিল ‘ডিস্ট্রিবিউটর’।”

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর কঙ্কাল বাণিজ্য সিন্ডিকেটে জড়িত মিটফোর্ড হাসপাতালের ওই ছাত্রলীগ নেতারাও আত্মগোপনে চলে যান। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও অমানবিক প্রথাটি আজও থামেনি; কেবল হাতবদল হয়েছে কঙ্কাল বাণিজ্যের।

চলতি বছরের মার্চে রাজধানীর উত্তরায় একটি ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। এতে স্পষ্ট হয়, এই ব্যবসা এখন অনলাইন গ্রুপ ও বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে কাফরুল থেকে ৩৫টি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ২০২২ সালে কঙ্কাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জড়িত থাকার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ এ সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘদিনের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষে এ হাড়গুলো অনেক সময় প্রোপার ডিসপোজাল হয় না; নর্দমা বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, যা লাশের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই হাড় কিনতে বাধ্য হন। কারণ, অ্যানাটমি ক্লাস এবং আইটেম পরীক্ষায় হাড় সামনে নিয়ে ডেমোনস্ট্রেশন না দিলে অনেক শিক্ষক ভালোভাবে নেন না।চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই যুগে মানুষের কঙ্কাল নিয়ে পড়াশোনার ধারণাটি বিশ্বজুড়ে আমূল বদলে গেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে উন্নত দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে মানবদেহের জটিলতম স্নায়ুতন্ত্র ব্যবচ্ছেদ করছে। অথচ বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এখনো কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড়ের ওপর নির্ভরশীল।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে ‘কমপ্লিট অ্যানাটমি’র মতো বিশ্বখ্যাত থ্রিডি অ্যাপ্লিকেশনগুলো অ্যানাটমি শিক্ষার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। একটি স্মার্টফোন বা ট্যাবের পর্দায় মানুষের হাড়ের প্রতিটি খাঁজ, সূক্ষ্ম ছিদ্র এবং লিগামেন্টের অবস্থান অনেক বেশি নিখুঁতভাবে জুম করে দেখা সম্ভব। অথচ বাংলাদেশে অ্যানাটমি বিভাগগুলো আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি অনুকরণ না করে অতীতের প্রথা মেনে চলায় এই সিন্ডিকেট আজও টিকে আছে। তাদের যুক্তি, ‘আসল হাড় স্পর্শ না করলে শিক্ষা পূর্ণ হয় না।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে হাড়ের ভেতরের গঠনও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব, সেখানে কেবল স্পর্শের দোহাই দিয়ে লাশ চুরির মতো জঘন্য অপরাধকে পরোক্ষভাবে মদত দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সামান্য পরিবর্তনই পারে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে চুরিকৃত হাড়ের বদলে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিতে।মেডিকেল শিক্ষার্থীরা জানান, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন আর ‘আসল হাড়’-নির্ভর নয়। চীন, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় এখন ৯৬% থেকে ৯৯% নির্ভুল ‘অ্যানাটমিক্যালি অ্যাকুরেট’ প্লাস্টিক কঙ্কাল মডেল ব্যবহৃত হয়, যা টেকসই এবং সম্পূর্ণ আইনসম্মত। পাশের দেশ ভারতেও প্লাস্টিক মডেল ও স্টিমুলেশন অ্যাপের ব্যবহার এখন প্রধান মাধ্যম। অথচ বাংলাদেশে চিত্রটি একেবারেই উল্টো। এখানে একজন নবীন শিক্ষার্থীকে একটি চুরিকৃত কঙ্কালের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল অ্যাপ সাবস্ক্রিপশনের বার্ষিক খরচ মাত্র ছয় থেকে আট হাজার টাকা। উন্নত বিশ্বে কেবল যারা স্বেচ্ছায় মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন, তাদের হাড়ই অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে মেডিকেল মিউজিয়ামে রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে লাশ চুরির বাজারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি যেখানে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, সেখানে প্রশাসনের এ ধরনের স্থবিরতা কেবল লাশের অবমাননাই নয়; বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানবিক দর্শনের সঙ্গেও চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ইরফান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ১১ হাজার কঙ্কাল স্বাভাবিক উপায়ে সংগ্রহ করা অসম্ভব। আর এ সুযোগেই একটি চক্র কবর থেকে লাশ চুরির মতো অপরাধ করে।’কঙ্কাল কেনা বা রাখার অধিকার কেবল মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বা ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাঁচটি করে কঙ্কালের সেট রাখে, তবে তা দিয়ে অনায়াসে ১০-১৫ বছর চালানো সম্ভব। এতে প্রতি বছর নতুন কঙ্কালের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষার্থীরা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মডেল বা সিমুলেশন মডেল কিনে ব্যক্তিগত পড়াশোনা করতে পারে। আর যখন আসল হাড় দেখার প্রয়োজন হবে, তখন তারা কলেজের ল্যাব বা লাইব্রেরিতে থাকা ‘বোনস ব্যাংক’ থেকে সেটি ব্যবহার করবে।”

চিকিৎসকদের অনেকে বলছেন, লাশ পাহারা দিয়ে এই চুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। সমাধান লুকিয়ে আছে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসি যদি ঘোষণা করেÑমেডিকেল পরীক্ষায় ‘আসল হাড়’ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এর বদলে থ্রিডি স্টিমুলেশন বা প্লাস্টিক মডেল ব্যবহার হবে, তাহলেই লাশ চুরির এই কোটি টাকার মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে পড়বে।

কালের আলো/এসআইপি

মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মাদক কারবারীরা দেশ,জাতি ও সমাজের শত্রু : ভূমিমন্ত্রী

মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে দেশের অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে মন্তব্য করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক কারবারীরা দেশ, জাতি ও সমাজের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার ২৬ জুন  রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বাইরে থেকে মাদক আসে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়ে থাকে। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অনেক মাদক কারবারী অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। যাদের একসময় কিছুই ছিল না, তারাও এখন বিপুল সম্পদের মালিক। এসব কারবারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

শুধু মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জামিন পেয়ে তারা যাতে আবার মাদক ব্যবসায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের চোখের সামনেই অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা গেছে, যাদের জীবন মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত হয়েছে। কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করারও আহ্বান জানান তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সমাজে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান নেই।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
আজিজ সুপার মার্কেটের কক্ষে পড়ে ছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলার একটি কক্ষ থেকে ফারা ফেরদৌস (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৪টার দিকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক।

পুলিশ জানায়, কক্ষের ভেতরে খাটের ওপর বসা অবস্থায় টেবিলে মাথা রাখা অবস্থায় চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহটি ফুলে-পচে যাওয়ায় শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারা ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএসের একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ে তৃতীয় বর্ষের কোর্স করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছোট বোনও প্রথম বর্ষে অন্য একটি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ জুন ছোট বোনের সঙ্গে ফারা ফেরদৌসের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে কক্ষের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ছোট বোনের উপস্থিতিতে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

ফারা ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুর রশিদের মেয়ে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলায় একাই বসবাস করতেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান।

এর আগে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে বেইজিং ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি সিনিয়র নেতা, মন্ত্রী, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং দেশে ফেরা নিয়ে কোনো শোডাউন বা র‌্যালি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

দালিয়ান থেকে বুধবার দুপুরে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এছাড়া বেইজিংয়ে বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।

গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/এএএন