খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

এবারের ঈদযাত্রায় শতাধিক কোচ সংযুক্ত হচ্ছে

সৈয়দপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
এবারের ঈদযাত্রায় শতাধিক  কোচ সংযুক্ত  হচ্ছে

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে লাখো মানুষ। ঈদযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে বাড়তি শতাধিক কোচ। বাড়তি কোচের জোগান দিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করে পুরাতন কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।

প্রয়োজনের মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতা, উপকরণ সরবরাহসহ নানা সমস্যা নিয়েও এবারের ঈদযাত্রায় ১২৭টি কোচ সংযুক্ত করতে যাচ্ছে কারখানাটি। ইতোমধ্যে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ের কাছে ১০৩টি কোচ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নানা সংকটের মধ্যেও চরম কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের।

মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভিন্ন শপে ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করছেন তারা। প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবল সংকট থাকলেও ঈদে যাত্রীসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত শ্রম ও সময় দিয়ে তারা কোচগুলো দ্রুত প্রস্তুতের কাজ কারখানার শ্রমিক শিরীন সুলতানা বলেন, আমাদের ঈদের সময়ে বাড়তি কাজ করতে হয়। আমরা শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করছি, তবে আমাদের শ্রমে ঈদে দূরের মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাবে এতে আমরা খুশী।

কারখানার শিডিউল শপের প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ১২৭টি কোচ সচল করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বাড়তি কোচ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ঈদযাত্রায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হচ্ছে ১২৭টি কোচ। ইতোমধ্যে ১০৩ টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলো আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/এসআইপি

হাবিবসহ ৫ পুলিশের মানবতাবিরোধী মামলার রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
হাবিবসহ ৫ পুলিশের মানবতাবিরোধী মামলার রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে রোববার (২৮ জুন)। রায়ের এ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

তিনি বলেন, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায় ঘোষণা হবে ২৮ জুন। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ জন।

এর আগে, গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন প্রথমেই রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

কালের আলো/এসএকে

ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আ. লীগের পলাতক সাবেক এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আ. লীগের পলাতক সাবেক এমপি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলী রাজ্য ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের ইউটিউব চ্যানেলে তার ক্লাস নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

গত বৃহস্পতিবার ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিক এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল বোর্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বা টনসিল সংক্রান্ত চিকিৎসাবিষয়ক পাঠদান করছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

তবে তিনি ঠিক কতদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন বা কবে সেখানে যোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও জানায়নি।

প্রসঙ্গত, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত স্বনামধন্য নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী ও এমপির মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতদিন তার সঠিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, ত্রিপুরার এই মেডিকেল কলেজের ভিডিওটি সামনে আসার পর তিনি যে বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অর্থমন্ত্রী দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট দাঁড় করিয়েছেন: আলতাফ হোসেন চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
অর্থমন্ত্রী দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট দাঁড় করিয়েছেন: আলতাফ হোসেন চৌধুরী

অর্থমন্ত্রী দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতির উপর ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতা উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ করে চায়নার কথা বলছি আমি। হিজ চায়না ভিজিট, বাই অল স্ট্যান্ডার্ড ইজ আ হাই ভোল্টেজ ভিজিট এবং ওখানে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে, বিশেষ করে মিস্টার শি জিনপিং-এর সঙ্গে ওনার যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, যা আমরা টিভিতে দেখেছি, ট্রুলি ড্যাজলিং ডিসকাশন। এবং সেজন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে, এই হাউজের পক্ষ থেকে, ওনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিচ্ছি, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং উই গিভ হিম এ হিরোস ওয়েলকাম। এদেশের জনগণের মধ্যে যারা সবচাইতে বেশি খুশি হয়েছে, তার মধ্যে আমি একজন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সংসদ হলো সেই সংসদ, অনন্য সংসদ, যেখানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে, এখানে এমন কেউ নেই যে অত্যাচারিত হয় নাই, নির্যাতিত হয় নাই। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট মামলা, গ্রেপ্তার, হাজত, কারাবাস, গুম, আয়নাঘর ও ফাঁসির আসামি হয়ে আমরা এখানে আসছি। এবং এখানে যারা আছেন আমার মনে হয়, বাংলাদেশের জনগণের কাছে তারা সবাই হিরো। ভালো করে যদি আমরা চারদিকে তাকাই, তাহলে বলতে পারি যে এই হাউজ এখন… ইটস আ গ্যাদারিং অব ঈগলস। এবং এই দেশ, বাংলাদেশ, যাকে ট্রুলি বলা যায়, সেন্টার অব গ্রাভিটি অব সাউথ এশিয়া। এই সরকারের বয়স রাফলি চার মাস। এই চার মাসে, যে কথায় কথায় বলে… নখের কালি শুকায় নাই। নখের কালি শুকানোর আগেই এই সরকার কাবিখা, কাবিটা, টিআর, ভিজিএফ-এর বরাদ্দ দিয়েছেন। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডার জন্য অর্থ, ইমাম, মোয়াজ্জেম, ঠাকুর, পাদ্রী, ভান্তের জন্য ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, তারপরে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, শাড়ি, টিউবওয়েল, যা গত পাঁচ-পঞ্চাশ বছরে কোনো সরকার দেয় নাই অথবা দিতে পারে নাই।

তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি আমাদের ব্রিলিয়ান্ট ফাইন্যান্স মিনিস্টারকে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে, যিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দ্বারা টোটালি ডেস্ট্রয়েড এবং বিধ্বস্ত… অর্থনীতির উপর দাঁড় করিয়েছেন এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার দুঃসাহসী, গগনস্পর্শী বাজেট। আপনাকে ধন্যবাদ।

এই সময়ের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছিল। আমেরিকা, ইসরাইল, ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছিল। এই ধ্বংসলীলা চলা সত্ত্বেও, এই সময়োপযোগী, যুগান্তকারী, দুঃসাহসিক বাজেট দেওয়ার জন্য, অর্থমন্ত্রীকে স্যালুট।

কালের আলো/এসএকে