খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম।

আজ (বৃহস্পতিবার) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এ অনুষ্ঠিত “কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বাজারমূল্য কমে যায়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কোরবানির সময় দক্ষ জনবল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে চামড়ার গুণগত মান উন্নত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও স্বল্পমেয়াদি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করবে, যাতে কোরবানির সময় দক্ষতার অভাব না থাকে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানির চামড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদ্রাসায় দান করা হয়। এ বাস্তবতায় চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহসহ সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সঠিকভাবে চর্বি পরিষ্কার, লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান আরও বাড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন-এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান।

কালের আলো/এসএকে

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সচিবালয়ে চলমান মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যাবেন তিনি। রাত ৯টায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ওই বৈঠক।

আজ রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইতালিতে নিজেকে ‌‘চা-ওয়ালা’ বললেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
ইতালিতে নিজেকে ‌‘চা-ওয়ালা’ বললেন মোদি

ইতালির রাজধানী রোমে এক ভাষণে নিজেকে চা ওয়ালা হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বুধবার (২০ মে) রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখানে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তমোদি বলেন, ‘আগামীকাল আপনারা চা দিবস উদযাপন করবেন। তাই এক দিন আগেই একজন চা বিক্রেতা আজ আপনাদের মাঝে এসেছেন।’

মূলত দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে এবং তার তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসার বিষয়টি তুলে ধরতে এই প্রসঙ্গটি ব্যবহার করেন মোদি। তার এ বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয় এবং তারা করতালির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান।

এসময় তিনি ভারতের চায়ের প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘ভারতের চায়ের বৈচিত্র্য যেমন বিস্তৃত, তেমনি এর শক্তিও অনেক বড়’।

গত ১৫ মে শুরু হওয়া পাঁচ দেশের সফরের অংশ হিসেবে মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি সফর করেন।

উল্লেখ্য, মোদি যখন ছোট ছিলেন তখন তিনি গুজরাটের এক রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন। এরপর উগ্রপন্থি হিন্দু সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে আসেন। যদিও মোদির সমর্থকেরা প্রায়শই এই ‘চা ওয়ালা’ পরিচয়কে তার সাধারণ জীবনযাত্রার এক অনুপ্রেরণামূলক প্রতীক হিসেবে দেখেন। তবে তার এই পরিচয়টি ভারতে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং বিরোধী দলের নেতারা নিয়মিতভাবে মোদিকে চা ওয়ালা  আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ করে থাকে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অধস্তনের ওপর দোষ চাপানো কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি নৌ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
অধস্তনের ওপর দোষ চাপানো কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি নৌ প্রতিমন্ত্রীর

Oplus_131072

অব্যবস্থাপনা বা ব্যর্থতার দায় নিচের স্তরের কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, নিচের স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এখন থেকে যেই ওয়ার্কিং স্টেশনে যিনি প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন, সেখানে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা কিংবা জটিলতা তৈরি হলে তাকেই প্রথমে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী রোববার থেকে ঈদযাত্রার চাপ বাড়বে। ছোটখাটো কিছু বিষয় আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস ছুটি শুরু হলে ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ নম্বর ও ২ নম্বর ঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু যানবাহন নয়, সাধারণ মানুষকেও ফেরির মাধ্যমে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্পিডবোট চলাচলের বিষয়েও সরকার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাটুরিয়া এলাকায় চলাচলকারী স্পিডবোটগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ফেরিগুলোতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে