ট্রাফিক পুলিশের এক ঈদ কাটে পরিবারে, আরেক ঈদ জনগণের সঙ্গে
হাতের ইশারায় সড়কের যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য
দুপুর তিনটা নির্ধারিত সময় পর পর লাল-সবুজ বাতি জ্বলে চলছে বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে। তখনও তপ্ত রোদে ছাতা মাথায় দিয়ে সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে নজরদারি করছেন ট্রাফিক কনস্টেবল আরিফ।
গত ঈদুল ফিতরে ছুটি কাটানোয় এবার ডিউটি করতে হচ্ছে তাকে। পরিবার রেখে ঈদের দিন ডিউটি করতে খারাপ লাগলেও মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। শুধু আরিফ না, ট্রাফিকের দ্বায়িত্ব পালন করা সবারই ঈদের আনন্দ কেটেছে সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ঘুরে ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করছেন কনস্টেবল আরিফ। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গত ঈদে ছুটি কাটিয়েছিলাম, এই ঈদে ডিউটি করছি।
আমাদের এক ঈদ মানে ডিউটি, আরেক ঈদ পরিবারের সঙ্গে। ঈদের মধ্যে ডিউটি করতে এখন আর খারাপ লাগে না। তারপরও বাড়িতে দুইটা ছেলে আছে, পরিবার আছে— তাদের নিয়ে ঈদ করাটা অন্যরকম আনন্দ।
আরিফ আরও বলেন, সকালে উঠে নামাজ পড়েছি। তারপর সেমাই খেলাম। এছাড়াও যেসব খাবার দিয়েছে অফিস থেকে, সবই ভালো ছিল। খাবার ভালো দিয়েছে।
পরিবার ছাড়া ঈদ করতে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবার ছাড়া ঈদ করতে সবারই তো কষ্ট হয়। দুইটা ছেলেকে রেখে আলাদা ঈদ করাতো একটু কষ্ট হবেই। তারপরও মেনে নিতে হবে। গত ঈদে আমি গেছি, এই ঈদে আরেকজনকে সুযোগ দেওয়া লাগবে।
জিয়া উদ্যান সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আব্বাস বলেন, আমাদের এক ঈদে ডিউটি করতে হয়, আরেক ঈদে ছুটি কাটাতে পারি। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ডিউটির মধ্যে ঈদ কাটাতে ভালোই লাগে। তবে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দটা আলাদা।
তেজগাঁও বিভাগের শেরেবাংলা জোনের বিজয় সরণিতে দ্বায়িত্বরত সার্জেন্ট শান্তনু বড়ুয়া বলেন, আমরা সাধারণত ঈদে ছুটি পাই না। পূজার সময় ছুটি নেই। দুই ঈদেই ডিউটি করি। তাছাড়া অন্যরা এক ঈদে ছুটি কাটায়, আর আরেক ঈদে ডিউটি করতে হয়। এক ঈদ পরিবার, আরেক ঈদ জনগণের সঙ্গে।
ঈদের দিনের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের প্রতিটা ট্রাফিক সদস্যের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন থাকে। আমাদের ডিসি তেজগাঁও বিভাগ থেকে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
আমাদের যেসব সহকারী পুলিশ কমিশনারের অফিস আছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই অফিস থেকে আমরা আমাদের প্রতিটা সদস্যের জন্য খাবার সংগ্রহ করি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array