খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হামের টিকা দেওয়ায় গাফিলতি তদন্তের দরকার নেই: জিয়াউদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
হামের টিকা দেওয়ায় গাফিলতি তদন্তের দরকার নেই: জিয়াউদ্দিন হায়দার

হামের টিকা দেওয়ার গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের দরকার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ সহকারী এ কথা জানান।

পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ‌৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হামে শিশু মৃত্যু নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি না জানতে চাইলে- বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এখানে তদন্তের কি আছে? আমরা তো জানি যে অপারেশনাল প্ল্যান বাদ দিয়ে এটাকে ডিপিপিতে মাইগ্রেট করা হয়েছে। তখন হয়তো ধারণা করা হয়েছিল যে ডিপিপিগুলোকে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তারা অ্যাপ্রুভ করতে পারবে এবং টাকা অ্যাভেইলেবল হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো যে, এক বছরেও অনেক ডিপিপি প্রিপারেশন সম্ভব হয়নি এবং সেগুলোকে একনেকে অ্যাপ্রুভাল, প্রজেক্ট অফিস তৈরি করা, হ্যাঁ, সেগুলো করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘যার ফলে আপনার যে স্বাভাবিক যে ফান্ড ফ্লো ওপির মাধ্যমে হচ্ছিল, সেইটা আমি বন্ধ করলাম উইদাউট ওপেনিং আপ নিউ ফান্ড ফ্লো। এবং এই যে আপনার ঘাটতি, এই ঘাটতির বোঝা তো আমরা জাতি হিসেবে এখনো বহন করছি।’

‘আমাদের ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিভিন্ন জায়গাতে স্টক আউট, সেগুলো আমরা কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্রয় করতে পারি, সেগুলো নিয়ে মন্ত্রীসহ সবাই কাজ করছে। এই যে আজ আমি কথা বলছি, মন্ত্রী আপনার কোপেনহেগেন আপনার ডেনমার্কের ইউনিসেফের যে সাপ্লাই ডিভিশনের হেডকোয়ার্টার সেখানে তিনি যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য; যাতে করে আমাদের অন্যান্য যে এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট, সেগুলোও দ্রুত কেনা যায় এবং ঘাটতি পূরণ করা যায়—এজন্য আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি।’

আগের সরকারের কোনো গাফিলতি কি আপনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দেখেন না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, গাফিলতি তো আছেই। আমরা তো এটা বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই তো ২০২৪-২৫-এর যে টিকার রাউন্ড, সে টিকার রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। হ্যাঁ, ভ্যাকসিনের কোনো প্রকিউরমেন্ট হয়নি। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের এই যে কন্ট্রাসেপ্টিভ প্রোডাক্ট, এগুলো প্রকিউরমেন্ট হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি। এটার জন্য কোনো তদন্ত করার দরকার নেই।’

হামের টিকা দেওয়ার এক মাস পরও কেন এখনো শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে? এ বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, ‘যে ন্যাশনাল ক্যাম্পেইনটা আমরা করলাম, ইমার্জেন্সি ক্যাম্পেইন ভ্যাক্সিনেশনের, এর টার্গেট গ্রুপ ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চারা। তো এখানে আমাকে দেখতে হবে যে যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে তারা কি এই এজ গ্রুপের নাকি ৫ বছর বয়সের চাইতে বেশি বয়স? কারণ বেশি বয়সের বাচ্চাদের হামের টিকা এখনো দেওয়া হয়নি। এই মাসের শেষেই রেগুলার রাউন্ড শুরু হওয়ার কথা। তখন অন্য বাচ্চারাও, আমার মনে হয় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা হামের হামের টিকা পাবে।’

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘তো আমাদের এই একটা জিনিস দেখার আছে। আর দুই-একজন বাচ্চাতো মিসআউট থাকতেই পারে। আর হামের সংক্রমণ ক্ষমতা কিন্তু কোভিডের চাইতে প্রায় ৯ গুণ বেশি। এটা অনেক বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা। হাম হলে পরে একটা পরিবারে তাকে কতটুকু আইসোলেটেড করা হচ্ছে, অন্যান্য বাচ্চাদের কাছ থেকে আইসোলেটেড করা হচ্ছে, হ্যাঁ, বা হাসপাতালেও আইসোলেশন কতটুকু কাজ করছে, এইটাও আমাদের আমার মনে হয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখার ব্যাপার আছে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

যমুনায় পানি বাড়তেই বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
যমুনায় পানি বাড়তেই বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করছে

উজানের ঢল এবং অভ্যন্তরীণ টানা ভারী বর্ষণের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে বিপৎসীমা অতিক্রম করার মতো কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা। গত তিনদিনে যমুনার পানি কাজীপুর পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ২ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচে রয়েছে যমুনার পানি।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, উজানের পানির চাপের কারণে গত কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই, কারণ এই দফায় পানি বিপৎসীমা পার হওয়ার সম্ভাবনা কম।

পাউবোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত যমুনার পানি অন্তত পাঁচবার ওঠা-নামা করেছে। পানির এই ঘন ঘন ওঠা-নামার ফলেই চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনে চর সলিমাবাদ এলাকার পাঁচ থেকে ছয়টি ঘরবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে। আকস্মিক এই ভাঙনের মুখে পড়ে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় মোবারক হোসেন বলেন, গত ৪ জুন মাত্র এক দিনের ব্যবধানে যমুনা আমার ঘরটা গিলে খেলো। ঘরের কোনো জিনিসপত্র পর্যন্ত বের করার সময় পাইনি।

চৌহালী উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মওদুদ আহমেদ সবুজ বলেন, চর সলিমাবাদ পয়েন্টের প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। চর সলিমাবাদ এলাকায় নতুন একটি চর জেগে ওঠার কারণে নদীর মূল স্রোতটি সরাসরি তীরে এসে আঘাত করছে। আর এই কারণেই সেখানে আকস্মিক ও তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাঙন ঠেকাতে পাউবো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এরইমধ্যে চর সলিমাবাদ পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছি যাতে ভাঙন আর অগ্রসর হতে না পারে।

এদিকে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী প্রতিরক্ষামূলক কাজের দিকনির্দেশনা দিতে বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত চর এলাকা পরিদর্শন করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজার-ভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।

বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে মাঝখানে কেউ না থেকে সরাসরি গৃহিণীর বা পরিবারের যোগ্য সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ঘরের কাজ করা মহিলাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সমাজে সহনশীলতা বাড়াতে এবং পরিবারগুলোকে সচল করতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জিডিপি অনুপাতে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকার শুরুতে ‘প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার’ বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

কালের আলো/এসএকে

আমলা নয়, ট্যাক্স নীতি তৈরিতে দক্ষদের যুক্ত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
আমলা নয়, ট্যাক্স নীতি তৈরিতে দক্ষদের যুক্ত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সমস্যা নীতিমালা প্রণয়ন। এ কারণে করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমলাদের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও কর বিশেষজ্ঞদের (ট্যাক্স এক্সপার্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে কর ব্যবস্থার অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীতিনির্ধারণ। নীতিনির্ধারণ সঠিকভাবে করা গেলে ৫০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আমরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের চাই, আমলাদের নয়। আমলাদের কাজ হলো নীতি বাস্তবায়ন করা।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডি-রেগুলেশন বাস্তবায়ন এবং ব্যবসার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। দেশের জন্য যারা কাজ করবে না, তাদের আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই আমাদের দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অতিনিয়ন্ত্রিত (ওভার-রেগুলেটেড) দেশ। ব্যবসায়ীদের প্রতিটি ধাপে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা কাজ করছি। কোথাও ডি-রেগুলেশনের ব্যত্যয় ঘটলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের জানান। টাস্কফোর্স বিষয়টি দেখবে।

কর ফাঁকির সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কর না দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অসংখ্য দোকান ও রেস্তোরাঁ মালিক এখনো করজালের বাইরে রয়েছেন। আমরা কাউকে চাপ দিতে চাই না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বছরে মাত্র ২ হাজার টাকা ফ্ল্যাট রেট কর দিয়েই করের আওতায় আসতে পারবেন। কোনো ধরনের ফরম পূরণের ঝামেলাও থাকবে না। মানুষের মন থেকে করভীতি দূর করতে হবে।

শিল্প ও রপ্তানি বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, সব ধরনের রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণের জন্য বন্ড সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলসি বাধ্যতামূলক না করে সরাসরি রেমিট্যান্স বা টিটির (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) মাধ্যমে বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবসার খরচ কমবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি প্রকল্পের প্রস্তুতি নিতেই যদি দুই বছর সময় লেগে যায়, তাহলে সেই প্রকল্পের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়। এর উচ্চ ব্যয় দেশের মানুষকেই বহন করতে হয়। আমরা এখন সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ এবং বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এনামুল হক।

কালের আলো/এসআর/এএএন