খুঁজুন
                               
, ,
           

ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজার-ভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।

বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে মাঝখানে কেউ না থেকে সরাসরি গৃহিণীর বা পরিবারের যোগ্য সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ঘরের কাজ করা মহিলাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সমাজে সহনশীলতা বাড়াতে এবং পরিবারগুলোকে সচল করতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জিডিপি অনুপাতে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকার শুরুতে ‘প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার’ বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

কালের আলো/এসএকে

জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের একটি চায়ের দোকানের পাশে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তা ক্যাম্পাসের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলা করতে দেখা যায়।

আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের মাদুদ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ইমনের নাম জানা গেছে। তবে আহতের সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই গ্রুপের নাম তিনি জানেন না। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন।

কালের আলো/এসএ

‘আপা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাটা আরেকটু বাড়ান’, হাসিনাকে বলেছিলেন ভিসি কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
‘আপা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাটা আরেকটু বাড়ান’, হাসিনাকে বলেছিলেন ভিসি কামাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথোপকথনের একটি লিখিত অনুলিপি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই মামলায় পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামাল শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। প্রায় তিন মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে তিনি ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

অভিযোগে থাকা ফোনালাপের অনুলিপি অনুযায়ী, মাকসুদ কামাল বলেন, বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্য ও মল চত্বরে জড়ো হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেকোনো সময় তাঁর বাসায়ও হামলা হতে পারে।

জবাবে শেখ হাসিনা তাঁর বাসার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা জানান। কথোপকথনের একপর্যায়ে মাকসুদ কামাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন শেখ হাসিনা ক্যাম্পাসে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান—এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোনালাপে মাকসুদ কামাল আরও বলেন, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে তিনি নিজের বাসায় ডেকে এনেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে হলগুলোতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখার কথা বলেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হওয়ার কথাও জানান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে মাকসুদ কামালের আলোচনা হয়। মাকসুদ কামাল আন্দোলন শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কারের কথা বলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় মাকসুদ কামাল ছাড়াও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে ফোনালাপের বিষয়বস্তু ও এতে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এখনো বাকি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানান তারা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ রাখার দাবি জানান এবং ক্যাম্পাসের আশপাশে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করেন।

কর্মসূচিতে জবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএ