খুঁজুন
                               
, ,
           

ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজার-ভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।

বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে মাঝখানে কেউ না থেকে সরাসরি গৃহিণীর বা পরিবারের যোগ্য সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ঘরের কাজ করা মহিলাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সমাজে সহনশীলতা বাড়াতে এবং পরিবারগুলোকে সচল করতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জিডিপি অনুপাতে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকার শুরুতে ‘প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার’ বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

কালের আলো/এসএকে

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে হলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুটি ইউনিটের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রকল্পটির সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ইউনিট চালুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাব্য সময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, নতুন ধারণা তৈরি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্যকে বাজারজাত করা এবং সেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ এবং মো. আব্দুল গফুর অংশ নেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিতি পর্ব এবং পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্‌দীন এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালেও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যসহ জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর-উত্তরায় যান চলাচলে বিঘ্ন

বৃহস্পতিবার উত্তরার একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ এবং দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যানজট এড়াতে তিনি ভোরেই রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছেন। কখন সড়ক ছাড়বে এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

রাইদা পরিবহনের যাত্রী শেহজাদ আহমেদ বলেন, বাড্ডায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছেন। কত দূর যেতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী আবারও আন্দোলন

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বুধবারের কর্মসূচি সম্পর্কে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্‌দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর ঘোষণা

বুধবার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছিলেন, সেদিনের কর্মসূচি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার আবারও তাঁরা সড়কে নামবেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের ভাষ্য, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

মালয়েশিয়ায় প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।

তিনি বলেন, “স্যার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। এখন অনেকটাই সুস্থ।”

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেন তিনি। সর্বশেষ ফলোআপ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি