খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, ছাড়াল সাড়ে ১২ হাজার কোটি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, ছাড়াল সাড়ে ১২ হাজার কোটি

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ক্রমেই টাকার পাহাড় গড়ছেন বাংলাদেশিরা। সেখানে বাংলাদেশিদের আমানত ছাড়িয়েছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ, জমা পড়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক- সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে এটি ছিলো ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি টাকার হিসাবে আট হাজার ৮৪৩ কোটির বেশি। অর্থাৎ, এই সময়ে অর্থ বেড়েছে তিন হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাংলাদেশি আমানত। এরপরের দুবছর নজিরবিহীন হারে টাকা তুলে নেয় বাংলাদেশিরা। ফলে ২০২৩ সালে আমানত কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হঠাৎ এই উলম্ফনের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব:
বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুথানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়েন। তাঁদের অনেকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসব কারণে তাঁদের অনেকে বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার বিগত সরকারের সময়ে বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্রে। পাচার হওয়া অর্থও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগ আছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহদাত হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে স্বাধীন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেছেন।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সে সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।

এখন যেই দল ঋণ খেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে দায় চাপায়, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণ খেলাফীদের সংসদ বলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি টু থার্ড মেজরিটি করেছে,  তারা ঋণ খেলাফীদের সংসদ নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলতেছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণ খেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, এই সংসদে তাহলে স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব?

তার আগে গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য  ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।’

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাট করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে– ‘ঋণ খেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে— ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণ খেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া প্রাইভেটকার চালক বাবুল হত্যা মামলায় দেশ টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরিফ হাসানকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মো. আরিফ হাসান এরই মধ্যে একাধিক মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, তিনি এই হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় ‘মূল অর্থ জোগানদাতা’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাহমিনা সুলতানা আবেদনটির বিরোধিতা করে বলেন, আরিফ হাসান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা থাকলেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং হার্টে রিং পরানো রয়েছে। একই দিনে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন প্রাইভেটকার চালক বাবুল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২২ জুলাই নিহত বাবুলের স্ত্রী বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ