খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঢাকার দুই সিটিতে ২৪ ঘণ্টায় অপসারণ হয়নি কোরবানির বর্জ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
ঢাকার দুই সিটিতে ২৪ ঘণ্টায় অপসারণ হয়নি কোরবানির বর্জ্য

১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণের আগাম ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে পারেনি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। ২৪ ঘণ্টা পরও রাজধানীর যেখানে সেখানে কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে আছে।

প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভাল হলেও অলিগলির অবস্থা খারাপ। ঈদের দিনের বর্জ্যই রয়ে গেছে বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া আজ শুক্রবারও রাজধানীতে পশু কোরবানি করছেন অনেকে।

আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানেই কোরবানির পশুর বর্জ্য সরানো হয়নি। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ।

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ঈদের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাজ শুরুর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করা হবে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করা হবে।

তবে আজ দুই সিটির বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে যেসব স্থানে অস্থায়ী পশুহাট বসেছিল, সেসব স্থানেও বর্জ্য রয়ে গেছে।

রাজধানীর রোকেয়া সরণির পীরেরবাগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তেজতুরিবাজারের বিভিন্ন স্থানেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, মিরপুর-১০ গোলচত্বর–সংলগ্ন সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে, বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর এলাকা, শাহজাদপুর লেকভিউ সড়কে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে তুলনামূলক বেশি। জিগাতলা, হাজারীবাগ মনেশ্বর রোড, গণকটুলী সিটি কলোনি এলাকা, বিজিবি ১ নম্বর গেটসংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার, চকবাজারের নূর ফাতাহ লেন, বকশীবাজারের অরফানেজ রোড,

বকশীবাজার সিটি করপোরেশন মার্কেট, আগা সাদেক রোডের বাংলাদেশ মাঠ এবং নাজিরাবাজারের কাজী আলাউদ্দীন রোড এলাকায়ও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

অনেক জায়গায় পশুর লেজ, খুর, আংশিক চামড়া, মাড়ি, শিং, ভুঁড়ির বর্জ্য ও খুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও পশুর রক্তও জমে থাকতে দেখা যায়।

পূর্ব রামপুরার প্রায় প্রতিটি বাসার সামনে পশুর নাড়িভুঁড়ি, রক্তমাখা মাটি ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পূর্ব রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বলেছিল রাতের মধ্যেই সব বর্জ্য পরিষ্কার করবে। কিন্তু রাত গড়িয়ে সকাল হয়েছে, ময়লা তো কমতে দেখছি না। কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছে না।’

এদিকে গতকাল রাতে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি ওয়ার্ড—৮, ১১, ১৮ ও ৫৩ নম্বরে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ডিএসসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার: লক্ষ্যমাত্রা ১১,৭৭৬ টন

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। ঈদের দিন (২৮ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্প করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

চীন সরকারের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

সফর উপলক্ষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় সফর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী চায়না মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে ৮-১১ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘পঞ্চম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া সফরকালে চীনের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সফরের মাধ্যমে তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

কালের আলো/এসএকে

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

ভাতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিল ও বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

রোববার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মবিরতি শুরু করেন ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল করা এবং বিসিএস চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’। এরপর থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে মর্মে কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো মন্ত্রণালয়কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আজ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিশির মনির নিজেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আজীবন তাদের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের কোনো সদস্য বাবা, মা, ভাই, বোন কিংবা সন্তান যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তারা ওষুধ ছাড়া সব রোগের জন্য বিনামূল্যে এখানে চিকিৎসা পাবেন।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদ্-দ্বীন পরিচালিত যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।

তবে আদ্-দ্বীন পরিচালিত মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল পেশাগত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি, উল্লেখযোগ্য টিউশন ফি মওকুফ অথবা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সহানুভূতির ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের উপযুক্ত কোনো সদস্য আগ্রহী হলে হাসপাতালের যোগ্যতাসম্পন্ন পদে চাকরির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ও সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং কারণ দর্শানো প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জবাব আগামীকাল (রোববার) বিকেল ৫টার মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তবে নোটিশে ‘জবাব সন্তোষজনক না হলে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে হবে। তার মতে, এ ধরনের নোটিশ সম্পূর্ণ ‘আন ল ফুল’ তথা বেআইনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম নিয়ে শিশির মনির বলেন, শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের মাত্রা কত ছিল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। একইভাবে কতটুকু অক্সিজেন থাকলে শিশুদের মৃত্যু ঘটত না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুর ঘটনা, গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তা এবং বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শিশির মনির প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও এক ভুক্তভোগী পরিবারকে কথা বলার সুযোগ দেন।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে বিবেচনায় নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন পরিবেশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ সময় মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক। তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হোক, তা আমরা চাই না। এর আগেও আমার দুই সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছে এবং তারা সুস্থ ছিল। আমাদের সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এজন্য আমরা মামলা চালিয়ে যাব।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সম্ভবত ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজনীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।

প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনের আওতায় যতটা কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটাই হব। এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি