খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় বাড়ানোর পক্ষে জাতিসংঘ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় বাড়ানোর পক্ষে জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। সংস্থাটি বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী প্রস্তুতির মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে।

সোমবার (২ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছেন। কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সময় বৃদ্ধি করলে তা যথাযথ হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠান।

সিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্যমেয়াদে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুবই কম। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি মনে করে, প্রস্তুতির সময় বাড়ানো হলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সিডিপি।

এ ছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার মতো সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

সরকার সিডিপির এই মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চলমান সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সফল ও টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীন-মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
‘প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীন-মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব আনার জন্য দাঁড়িয়েছি। বিগ ত কয়েক বছর ফ্যাসিবাদী সরকার ছিল। গত চার মাসে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন এবং মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি অনেকগুলো চুক্তি করেছেন। দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বের পর আমাদের নেতা বৈশ্বিকভাবে সমাদৃত হয়েছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিদেশ সফরে আমাদের নেতা কিছু খারাপ দৃষ্টান্ত এড়িয়ে চলেছেন। আপনারা দেখবেন, আগের প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশ সফরের আগে ও পরে বিরাট সংবর্ধনা দেওয়া হতো। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বিদেশ সফরের আগে ও পরে কোনো ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া যাবে না। তিনি নিজেই ফোন করে তা নিষেধ করেছেন। তার বিদেশ সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সফরের ফলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবিত করা, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেখানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বড় অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে ১৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে চীন সহযোগিতা করবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও চীন উদ্যোগ নেবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই প্রয়াত বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে যান তিনি। এ সময় বাবা-মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের সরকারি বিদেশ সফর শেষে গতকাল ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে যদি ভালো কিছু অর্জন হয়ে থাকে— এটি বাংলাদেশের অর্জন, দেশের মানুষের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসব কথা বলে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এই সংসদের পক্ষ থেকে, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং আন্তরিকভাবে সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখানে মূল বিষয় যেটি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য।

আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’। যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি, আমার অবস্থান থেকে আমি আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত কোন বিষয় নেই। যদি কিছু অর্জন হয়ে থাকে, ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে— এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি দেশের মানুষের অর্জন।

তারেক রহমান আরও বলেন, যেহেতু সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা- উনিও উৎসাহ প্রদান করেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য— সেজন্য আবারো আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

কালের আলো/এসআর/এএএন