খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় বাড়ানোর পক্ষে জাতিসংঘ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় বাড়ানোর পক্ষে জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। সংস্থাটি বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী প্রস্তুতির মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে।

সোমবার (২ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছেন। কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সময় বৃদ্ধি করলে তা যথাযথ হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠান।

সিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্যমেয়াদে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুবই কম। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি মনে করে, প্রস্তুতির সময় বাড়ানো হলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সিডিপি।

এ ছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার মতো সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

সরকার সিডিপির এই মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চলমান সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সফল ও টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হরমুজে ১০৭ দিন ধরে আটকা ৫৬২ ভারতীয় নাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
হরমুজে ১০৭ দিন ধরে আটকা ৫৬২ ভারতীয় নাবিক

Oplus_131072

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে ১০৭ দিন ধরে আটকা রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ। এই জাহাজগুলোতে অন্তত ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক আছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ সংকট। ইতোমধ্যে আটকে পড়া জাহাজে অসুস্থ হয়ে নিশান্ত উরথানাথন নামে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ‘এমটি সেলেস্টিয়াল’ নামের ভারতীয় এক জাহাজে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির মরদেহ শিগগিরই ভারতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

নিশান্ত উরথানাথনের এই করুণ মৃত্যুতে তীব্র ভয় ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সাগরে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলোর নাবিকদের মধ্যে। এ অবস্থায় ওমানের রাজধানী মাস্কটে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুর্ভাগ্যবশত মারা যাওয়া নিশান্ত উরথানাথনের পরিবারের পাশাপাশি জাহাজের ক্রু সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌‌নিশান্ত উরথানাথনের মৃতদেহ জাহাজ থেকে নামানো এবং যত দ্রুত সম্ভব ভারতে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে ওমানের দুকম বন্দরে রয়েছে ভারতীয় পতাকাবাহী এমটি সেলেস্টিয়াল জাহাজ। ভারতীয় দূতাবাস বলেছে, জাহাজটির ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সঙ্গেও ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ চলছে।

ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী অন্তত ১৩টি পণ্যবাহী জাহাজে থাকা ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক প্রায় ১০৭ দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৩২৯ জন নাবিক প্রণালির পশ্চিমে এবং ২৩৩ জন নাবিক প্রণালির পূর্ব দিকে ওমান উপসাগরে আটকা আছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই ৫৬২ জন নাবিক হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়তে থাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা ভর করেছে তাদের মধ্যে।

এদিকে রোববার ভারতের পতাকাবাহী ‘বিরাট ১’ নামের একটি পালতোলা জাহাজে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। ওমানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ওমান উপকূলে ওই জাহাজটিকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাহাজটিতে ১৪ জন ভারতীয় ক্রু ছিলেন। ওমান কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা জাহাজগুলোর সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিরাট ১’ জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর ক্রু সদস্যরা নিরাপদে উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নেন। ওমানি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এবং কাছাকাছি থাকা জাহাজগুলোর অংশগ্রহণে বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

কালের আলো/এসএকে

অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ বা প্ররোচনা ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের একজন বাঙালি মেজর একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেবল নিজের সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট ও দেশবাসীর সামনে সংকটকালীন সময়ের সমাধানের পুরুষ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত তারা জানেন, ২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকতো। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসতো, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসতো না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার মনোজগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করেছে তিনি একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সকল ভিন্ন মতের জন্য সমালোচনা করার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া বঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে এনে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি চতুর্থ সংশোধনীর সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কবর দেওয়া পার্লামেন্টকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তার রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতাই জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেন না, যদি না তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করেন। শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে-সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম।

কালের আলো/এসএকে

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

গাজার বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। উদ্ধারকাজের ধীরগতি এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এই মরদেহগুলো হয়তো আর কখনোই শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জেরুজালেমে আইসিআরসি-এর মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, কোনও সন্দেহ নেই যে এই মরদেহগুলো শীঘ্রই শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ যত বেশি সময় থাকবে, তা তত দ্রুত পচনের উন্নত স্তরে পৌঁছাবে, এমনকি তা কেবল কঙ্কালে পরিণত হতে পারে। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিচয় নিশ্চিত করার মতো পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি হারাবেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজার আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই ধ্বংসস্তূপের নিচে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বেলচা, কোদাল, হাতগাড়ি এবং খালি হাতেই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বুলডোজার ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, লাশ উদ্ধারের যন্ত্রপাতি গাজায় আনার কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

গাজার ফরেনসি মেডিসিন ডিরেক্টর ড. আহমেদ দাহির এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমরা দেখেছি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া একজন ব্যক্তির দেহ পুরোপুরি

কঙ্কালে পরিণত হয়েছে এবং বন্যপ্রাণী তা খুবলে খেয়েছে। সাধারণ অবস্থায় পরিবেশগত কারণে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগার কথা।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে ডিএনএ পরীক্ষার যন্ত্রপাতির অভাব। ইসরায়েল গাজায় ডিএনএ পরীক্ষার কোনও সামগ্রী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বুলডোজারগুলো বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও ধ্বংসস্তূপ ওলটপালট করায় মরদেহগুলো তাদের মূল স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

লাশ শনাক্ত করতে না পারা কেবল মৃতদের মর্যাদার বিষয় নয়, এটি জীবিতদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলছেন অ্যাম্বিগুয়াস লস বা অমিমাংসিত শোক, যা গাজার মানুষের মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা, ট্রমা ও মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

৭ অক্টোবর ২০২৩-এ নিখোঁজ হওয়া ৪-০ বছর বয়সী সামেহ-এর ভাই সায়েদ আল-ইয়াজজি বলেন, দুই বছর ধরে আমরা জানি না সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। তার স্ত্রী বারবার মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন। কোনও খবর না পেয়ে আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো সংরক্ষণের জন্য দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বিশেষ কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি কবরের একটি নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং নথিপত্র রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন ডিএনএ বা অন্য উপায়ে স্বজনরা তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে পান।

গাজার কবরস্থান বিভাগের পরিচালক জিয়াদ ওবেদ বলেন, এই কবরস্থানে অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা এখন ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের বয়স এখন প্রায় তিন বছর হতে চলল, আর কিছু লাশ এখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দাফন করা রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি