খুঁজুন
                               
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
দেশের প্রত্যেক নাগরিককে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।

কালের আলো/এসএকে

তীব্র গরমে বমির সমস্যা, করণীয় কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে বমির সমস্যা, করণীয় কী?

গরমে পুড়ছে শহর-বন্দর-গ্রাম। ভোরের আলো ফুটতেই তাপমাত্রা ভোগাচ্ছে সবাইকে। বেলা যত বাড়ছে, তত বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বস্তি। এই গরমে বেহাল দশা হচ্ছে শরীরের। দেখা দিচ্ছে একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতা। দাবদাহের কারণে অনেকের বমির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন? কীভাবে মিলবে মুক্তি? চলুন জানা যাক-

গরমে বমি হচ্ছে কেন?
এর একাধিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ অত্যধিক গরম। এই গরমে হিট এক্সহউশনের কারণে অনেকেরই বমি শুরু হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে বমির পাশাপাশি মাথা ঘোরাতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

এছাড়া গরমের সময় পানিতে বা খাবারে অনেক জীবাণু ঘুরে বেড়ায়। সেই খাবার বা পানি খেলেও শরীরের হাল বিগড়ে যেতে পারে। পেট খারাপ হতে পারে। পাশাপাশি হতে পারে বমি।

গরমে বমির সমস্যা থেকে বাঁচতে করণীয়
অত্যধিক গরমের জন্য সমস্যা হলে সতর্ক হতে হবে। সবার আগে রোদ থেকে সরে আসতে হবে। একটা ঠান্ডা জায়গায় বসতে হবে। তাহলেই কাজ হবে। এরপর ধীরে ধীরে ওআরএস পান করুন। এই পানীয় খেলেই কিছুটা রেহাই পাবেন। ধীরে ধীরে বমি বমি ভাব কমে যাবে।

আর বমির পাশাপাশি যদি পেট খারাপের সমস্যা থাকে তাহলে প্রথমে ওআরএস খান। এক্ষেত্রে একটা গোটা প্যাকেট ওআরএস এক লিটার পানিতে গুলে নিন। তারপর ধীরে ধীরে খান।

কোন ওষুধ কার্যকরী?
এই সমস্যায় ওনডেম জাতীয় ওষুধ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি খেলেই দ্রুত বমির সমস্যা কমতে পারে। যদিও অনেক সময় ওনডেম খাওয়ার পরও বমি হয়। তখন ওষুধও বমির সঙ্গে উঠে আসে। এক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে বমি হলে আবার ওষুধটা খেতে হবে। নইলে বমি কমবে না।

তবে ওষুধ খাওয়ার পরও যদি বমি না কমে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিনি প্রয়োজন বুঝে ইনজেকশন দিতে পারেন। সেটা নিলেই শরীর সুস্থ থাকবে। তবে ভুল করেও গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

গরমে বমি হলে কয়েকটা দিন একটু হালকা খাবার খান। তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এতেও স্বস্তি মিলবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

কলকাতার মেয়রের পদ ছাড়লেন মমতা-ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
কলকাতার মেয়রের পদ ছাড়লেন মমতা-ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সহযোগী ফিরহাদ হাকিম। কয়েক সপ্তাহ আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার সেই আবেদনই শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর করেছেন মমতা।

দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলকাতা পৌরসভায় কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তার অভিযোগ, প্রশাসনিক নানা জটিলতা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিকবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই প্রেক্ষিতেই তার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছেয় সম্মতি জানিয়েছেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে কালীঘাটে মমতার বাড়িতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ এই বিষয়ে জানান।

তিনি বলেন, ‘ফিরহাদ হাকিম আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শেষের দিন আমিও ছিলাম, আমার সঙ্গেও কথা হয়। শেষে আমাদের দলনেত্রী সবদিক বিবেচনা করে এই ইস্তফার ব্যাপারে সম্মতি দেন। কারণ তিনি চাননি, ফিরহাদ হাকিমের কোনও অমর্যাদা হোক। তাই তার সম্মান রক্ষার্থে তাকে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’

এরআগে বুধবার সকালে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তত্ত্বাবধানে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক। সেই তালিকায় ছিলেন কুণাল ঘোষও। ওই বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেও আলোচনা হয়েছে যে, কলকাতা পৌরসভায় কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে কমিশনার বিধায়কদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবে। এক্ষেত্রে সম্মানজনক প্রস্থান চেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।’

এদিকে বুধবারই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ বিধায়কের সমর্থনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। এক কথায়, তৃণমূল দুই ভাগ হয়ে গেছে। আর এদিনই এবার রাজ্যে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। এই ঘটনার কয়েত ঘণ্টা পরেই সামনে আসে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে এই তথ্য।

প্রসঙ্গত, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা পৌরসভার প্রথম মুসলিম মেয়র হয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। ২০১৮ সালের নভেম্বরে রাজ্যের তৎকালীন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী দায়িত্ব পালনকালেই কলকাতার মেয়র হন তিনি। তার পর ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার মেয়রের আসনে বসেন ফিরদাদ। প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলানোর পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি, এবিপি আনন্দ

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম-সচিব আনিসুর ওএসডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অবহেলায় মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম-সচিব আনিসুর ওএসডি

রাজধানীর মিরপুরে সন্তানদের অবহেলায় নুরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু ও লাশ পচে যাওয়ার ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ওএসডি করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগামী ৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় ওইদিন বিকেলে তিনি বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

গত রোববার (৩১ মে) জরুরি সেবার প্লাটফর্ম ৯৯৯–এ ফোনকল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ নুরজাহানের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মৃত্যুর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি চরম অবহেলা ও অযত্নে কাটিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্যে, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল। নুরজাহানের ছেলে আনিসুর রহমান যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। মেয়েজামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এই অবহেলার বিষয়টি সামনে আসার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন