খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নভেম্বরে চালু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
নভেম্বরে চালু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

নভেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় খুব বেশি হাতে নেই, তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আগের সরকার বড় ধরনের আর্থিক বোঝা রেখে গেছে। তবে নতুন সরকার চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে না। বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। রাতারাতি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও সঞ্চালনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা ঠিক থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছিল এবং প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।’

অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন স্থাপন করায় উৎপাদন ও সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকলেও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর মূল কারণ বিতরণ লাইনের সমস্যা। এসব সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

ডিসি মোস্তাক সরকার

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপ

রাজধানীর কাফরুলে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জেরে মোটরসাইকেল আরোহী রাফির মাথায় ইট ছুড়ে মারার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই হামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। মামলার অপর দুই আসামি মো. ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ১০০ গজ পূর্বে ইব্রাহিমপুর পাকা সড়কে এই ঘটনা ঘটে। রাফি নামের ওই যুবক মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা তার মাথার ডান পাশে সজোরে ইট নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মোটরসাইকেলসহ সড়কে ছিটকে পড়েন।

মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি অটোরিকশায় করে আহত রাফিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি কাছের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আহত রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার পর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাফরুল থানার একটি চৌকস দল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে পুলিশের অপর একটি দল রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনাস্থলের অদূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

হামলার কারণ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার পারভেজ একসময় ভিকটিম রাফির বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে রাফি তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথাকাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়ায় ওত পেতে থাকেন। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধ করার চেষ্টা করে। মোটরসাইকেল না থামিয়ে চলে যাওয়ার সময় পারভেজ ইট ছুড়ে তার মাথায় আঘাত করে।

ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার পর আসামিরা পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা আশপাশের লোকজনকে বিভ্রান্ত করতে বলেন যে— উপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। এরপর তারা আহত রাফিকে অটোরিকশায় তুলে ইব্রাহিমপুর এলাকায় নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ ও পলাতক ফয়সাল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ কাল, প্রস্তুত লালদিঘীর ময়দান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ কাল, প্রস্তুত লালদিঘীর ময়দান

আগামীকাল ১৩ জুন শনিবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, ‘সমাবেশকে ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের অনেক শীর্ষ নেতা এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।’

জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, এলডিপির মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগরী সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, খেলাফত মজলিসের মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক ও জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মো. আফসার উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতা বিবর্জিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না। বরং এটি সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি। তারই অংশ হিসেবে লালদিঘীর ময়দানে এই সমাবেশ।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।’

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার সংকট জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সম্মেলন বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তজুড়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা সমন্বিত টহল আরও জোরদার করা, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পক্ষদ্বয় সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনটি ইতিবাচক পরিবেশে সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ