খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

রাজধানীতে চলাচলের সময় ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ থাকা পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে রাজধানীতে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বহর বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন। তবে ঢাকার বাইরে সরকারি সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সব মন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা ও পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়, যানবাহনের কার্যকর ব্যবহার এবং প্রটোকল বহর ছোট করার নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে যাঁরা রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তবে কোন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সাতজনকে এসকর্ট সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি এসকর্ট গাড়িতে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীতে এসকর্টের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ২৫টি থেকে কমে সাতটিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য পুলিশি কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১২০ জন সদস্য এ দায়িত্বে ছিলেন, এখন থাকবেন ৩০ থেকে ৩৫ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় কমানো, পুলিশের যানবাহনের স্বল্পতা দূর করা, জনবলকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং সরকারি প্রটোকল বহর ছোট করার নীতিই প্রধান বিবেচ্য ছিল। এছাড়া রাজধানীর যানজট কমাতেও এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীও নিজের বহর থেকে পুলিশের দুটি প্রটোকল গাড়ি বাদ দিয়েছেন। তাঁর নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কেবল মোটরসাইকেল পাইলট টিম দায়িত্বে থাকছে।

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এসকর্ট সুবিধা সীমিত করার ফলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও যানবাহনের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। এতে মুক্ত হওয়া জনবল ও গাড়ি রাজধানীর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসএ

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ করে ফেললেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রফিকুল ইসলাম (৬২)। তার ইচ্ছা ছিল জীবিত থাকতেই নিজের হাতে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। সেই ইচ্ছা থেকেই স্ত্রী বেগম আক্তারকে (৫৫) সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করেন বিশাল ভোজের। এতে অংশ নেন প্রায় পাঁচ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘চল্লিশা’র আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন।

বিশাল মাঠজুড়ে টানানো হয় শামিয়ানা। বসে খাওয়ার জন্য সারি সারি চেয়ার-টেবিল। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও ধাপে ধাপে চলে পরিবেশন। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী অসহায় মানুষ এতে অংশ নেন।

মেন্যুতেও ছিল আয়োজনের ছাপ। গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। কেউ খাবার হাতে নিয়ে ফিরেছেন, কেউ আবার বসে তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। জীবিত থাকতে নিজের ‘চল্লিশা’ করার পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত এক ভাবনা।

রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তিনি মারা গেলে সন্তানদের পক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই মৃত্যুর পরের আয়োজনের অপেক্ষায় না থেকে জীবিত থাকতেই নিজের ইচ্ছাটি পূরণ করেছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই এই আয়োজন করেছি। আমি বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দিতে চেয়েছি।’

রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে ভোজের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে কখনো দেখিনি। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে খাবার খেয়েছে। সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা রফিকুল ইসলাম আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৭০ জনের শরীরে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৬১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আইএমএফের পূর্বাভাস

অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে অর্থনীতির আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টে প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি দাঁড়াতে পারে ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬৬৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ৬৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার হওয়ায় এসব দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে।

এ ছাড়া জার্মানি ও ভারত যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকতে পারে। জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধানে দুই দেশের অবস্থান হবে কাছাকাছি।

এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে জাপানের অর্থনীতি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে একই সময়ে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকোচনের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি