খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংকে টাকা পাহাড়, বিনিয়োগে খরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংকে টাকা পাহাড়, বিনিয়োগে খরা

ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু সেই টাকা নেওয়ার মতো বিনিয়োগকারী নেই। আমানত বাড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থও ঢুকছে; অথচ শিল্প, ব্যবসা ও নতুন প্রকল্পে ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। ফলে একদিকে ব্যাংকের ভল্ট ও সরকারি সিকিউরিটিজে জমছে বিপুল অর্থ, অন্যদিকে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের গতি ক্রমেই মন্থর হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায় উঠেছে। মাত্র এক মাসে বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থনীতির জন্য এই বৈপরীত্যই এখন বড় প্রশ্ন—ব্যাংকে এত টাকা, কিন্তু বিনিয়োগে এত খরা কেন?

এক বছরে বাড়তি তারল্য সোয়া লাখ কোটি
ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ বৃদ্ধির প্রবণতা গত এক বছর ধরেই স্পষ্ট। ২০২৫ সালের জুন শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মে শেষে ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে সেটিই লাফ দিয়ে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। তবে উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই ব্যাংকের ভল্টে একই পরিমাণ নগদ টাকা পড়ে থাকা নয়। ব্যাংকগুলোকে আমানতের নির্দিষ্ট অংশ সিআরআর ও এসএলআর হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এসব বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ বাদ দেওয়ার পর ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত অর্থই মূলত উদ্বৃত্ত তারল্যের অংশ। এর বড় অংশ আবার সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা থাকে।

টাকার জোগান আছে, নেই ঋণের চাহিদা
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সমস্যাটি শুধু ব্যাংকের অর্থের জোগানে নয়, বরং ঋণের চাহিদায়। জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে বাড়তি অর্থ যত দ্রুত বাড়ছে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ততটাই দুর্বল হচ্ছে। এর অর্থ, উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এখন নতুন ঋণ নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বড় প্রকল্পে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কারণটিও একাধিক। উচ্চ সুদের হার, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ব্যবসা পরিচালনার বাড়তি ব্যয়, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়েছে।

কারখানা আছে, উৎপাদনের নিশ্চয়তা নেই
শিল্পোদ্যোক্তার কাছে ঋণ তখনই আকর্ষণীয়, যখন সেই ঋণের অর্থ দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ করার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত কিংবা উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি হলে নতুন ঋণ নেওয়া উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে উদ্যোক্তারা এখন অনেক ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পে যাওয়ার বদলে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। নতুন কারখানা বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।।এখানেই ব্যাংকের তারল্য ও বাস্তব অর্থনীতির মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় বিচ্ছিন্নতা। ব্যাংক টাকা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ উদ্যোক্তাকে টাকা নিতে উৎসাহিত করছে না।

খেলাপি ঋণের ভয়েও ব্যাংক সতর্ক
অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর নিজেদের অবস্থানও বদলেছে। অতীতে যথাযথ যাচাই ছাড়া বিতরণ করা ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ার পর এখন নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অনেক বেশি সতর্ক। ঋণগ্রহীতার নগদ প্রবাহ, ব্যবসার সক্ষমতা, জামানত, আয়-ব্যয় এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের হাতে অর্থ থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ কমেছে। নিরাপদ ও তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত সরকারি বিল-বন্ডে অর্থ রাখাই অনেক ব্যাংকের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে অর্থ নিরাপদ থাকছে, কিন্তু অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে তার গতি কমে যাচ্ছে।

সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ, শিল্পে নয়
ব্যাংকের বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি বিল ও বন্ডে চলে যাচ্ছে। এর পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ দিলে যেখানে খেলাপির ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে সরকারি সিকিউরিটিজ তুলনামূলক নিরাপদ। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রশ্ন উঠবে—ব্যাংকের অর্থ কি শিল্প ও ব্যবসার চাকা ঘোরাচ্ছে, নাকি মূলত সরকারি অর্থায়নের মাধ্যম হয়ে থাকছে? ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে না গেলে শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ডলার কেনায়ও বাড়ছে ব্যাংকের টাকা
তারল্য বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কেনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে নিট ৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। ডলার কেনার বিপরীতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা প্রবেশ করেছে। ফলে অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ বাড়লেও তার বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা একই হারে বাড়েনি। অর্থাৎ একদিকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনায় নতুন টাকা ঢুকছে। কিন্তু সেই অর্থ শোষণ করার মতো বিনিয়োগ চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। ফলাফল—ব্যাংকে বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য।

স্বল্পমেয়াদি ধারেও বড় পতন
ব্যাংকের হাতে অর্থ বাড়ার আরেকটি প্রমাণ মিলছে আন্তঃব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার পরিমাণে। জুলাইয়ে কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। জুনে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এক মাসে কমেছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যকার স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদাও কমছে। এটি স্পষ্টতই দেখাচ্ছে, ব্যাংক খাতে এখন অর্থের ঘাটতির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের সমস্যাই বেশি প্রকট।

সুদ কমিয়েও বিনিয়োগ ফিরছে না
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকার কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও একক গ্রাহকের ঋণসীমা বাড়ানো এবং নীতি সুদহার কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ জুলাই রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির হারও কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু শুধু সুদ কমালেই বিনিয়োগের গতি ফিরবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত শুধু সুদের ওপর নির্ভর করে না। তিনি দেখতে চান বাজারের চাহিদা, উৎপাদনের নিশ্চয়তা, জ্বালানি সরবরাহ, রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিবেশ। এই জায়গাগুলোতে অনিশ্চয়তা থাকলে কয়েক শতাংশ সুদ কমিয়েও বিনিয়োগে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।

‘তারল্য সংকট’ আর ‘তারল্য উদ্বৃত্ত’—দুই বাস্তবতা
তবে ব্যাংক খাতের এই ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্যকে পুরো ব্যাংক খাতের সমান সক্ষমতা হিসেবে দেখাও ঠিক হবে না। একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, এই উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পরিসংখ্যান দেখে পুরো ব্যাংক খাতকে তারল্যে স্বস্তিতে আছে বলা যাবে না। কিছু ব্যাংক এখনো তারল্য সংকটে রয়েছে এবং বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের সীমিত। এটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আরেকটি কাঠামোগত সমস্যা সামনে আনে—একদিকে অতিরিক্ত তারল্য, অন্যদিকে কিছু ব্যাংকে তারল্য চাপ। অর্থাৎ সমস্যা কেবল মোট অর্থের পরিমাণে নয়; অর্থ কোথায় আছে এবং কোথায় যাচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ ‘টাকা কাজে লাগানো’
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামনে এখন আগের মতো শুধু তারল্য জোগাড়ের চ্যালেঞ্জ নেই। বরং বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্বৃত্ত অর্থকে নিরাপদ ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য একসঙ্গে কয়েকটি সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। প্রথমত, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তৃতীয়ত, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, সরকারি অর্থায়নের চাপ এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে ব্যাংকের অর্থের বড় অংশ কেবল সরকারি সিকিউরিটিজে আটকে না থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঋণের চাহিদা তৈরির মতো বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

অর্থনীতির সামনে বড় সতর্কবার্তা
ব্যাংকে টাকা থাকা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয়। কিন্তু সেই টাকা যদি শিল্পে না যায়, নতুন ব্যবসা না তৈরি করে, উৎপাদন না বাড়ায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে, তাহলে কাগজে-কলমে তারল্যের প্রাচুর্য বাস্তব অর্থনীতিতে খুব বেশি সুফল দেবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গল্পটি শুধু ‘টাকা বাড়ছে’—এমন নয়। বরং এর গভীরে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা—ব্যাংকে অর্থের অভাব নেই; অভাব বিনিয়োগের আস্থা ও ঋণের কার্যকর চাহিদার। আর এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ব্যাংকের ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তারল্যও অর্থনীতির চাকা দ্রুত ঘোরাতে পারবে না।

কালের আলো/এম/এএইচ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি