খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংকে টাকা পাহাড়, বিনিয়োগে খরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংকে টাকা পাহাড়, বিনিয়োগে খরা

ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু সেই টাকা নেওয়ার মতো বিনিয়োগকারী নেই। আমানত বাড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থও ঢুকছে; অথচ শিল্প, ব্যবসা ও নতুন প্রকল্পে ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। ফলে একদিকে ব্যাংকের ভল্ট ও সরকারি সিকিউরিটিজে জমছে বিপুল অর্থ, অন্যদিকে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের গতি ক্রমেই মন্থর হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায় উঠেছে। মাত্র এক মাসে বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থনীতির জন্য এই বৈপরীত্যই এখন বড় প্রশ্ন—ব্যাংকে এত টাকা, কিন্তু বিনিয়োগে এত খরা কেন?

এক বছরে বাড়তি তারল্য সোয়া লাখ কোটি
ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ বৃদ্ধির প্রবণতা গত এক বছর ধরেই স্পষ্ট। ২০২৫ সালের জুন শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মে শেষে ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে সেটিই লাফ দিয়ে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। তবে উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই ব্যাংকের ভল্টে একই পরিমাণ নগদ টাকা পড়ে থাকা নয়। ব্যাংকগুলোকে আমানতের নির্দিষ্ট অংশ সিআরআর ও এসএলআর হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এসব বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ বাদ দেওয়ার পর ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত অর্থই মূলত উদ্বৃত্ত তারল্যের অংশ। এর বড় অংশ আবার সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা থাকে।

টাকার জোগান আছে, নেই ঋণের চাহিদা
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সমস্যাটি শুধু ব্যাংকের অর্থের জোগানে নয়, বরং ঋণের চাহিদায়। জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে বাড়তি অর্থ যত দ্রুত বাড়ছে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ততটাই দুর্বল হচ্ছে। এর অর্থ, উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এখন নতুন ঋণ নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বড় প্রকল্পে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কারণটিও একাধিক। উচ্চ সুদের হার, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ব্যবসা পরিচালনার বাড়তি ব্যয়, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়েছে।

কারখানা আছে, উৎপাদনের নিশ্চয়তা নেই
শিল্পোদ্যোক্তার কাছে ঋণ তখনই আকর্ষণীয়, যখন সেই ঋণের অর্থ দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ করার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত কিংবা উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি হলে নতুন ঋণ নেওয়া উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে উদ্যোক্তারা এখন অনেক ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পে যাওয়ার বদলে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। নতুন কারখানা বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।।এখানেই ব্যাংকের তারল্য ও বাস্তব অর্থনীতির মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় বিচ্ছিন্নতা। ব্যাংক টাকা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ উদ্যোক্তাকে টাকা নিতে উৎসাহিত করছে না।

খেলাপি ঋণের ভয়েও ব্যাংক সতর্ক
অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর নিজেদের অবস্থানও বদলেছে। অতীতে যথাযথ যাচাই ছাড়া বিতরণ করা ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ার পর এখন নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অনেক বেশি সতর্ক। ঋণগ্রহীতার নগদ প্রবাহ, ব্যবসার সক্ষমতা, জামানত, আয়-ব্যয় এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের হাতে অর্থ থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ কমেছে। নিরাপদ ও তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত সরকারি বিল-বন্ডে অর্থ রাখাই অনেক ব্যাংকের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে অর্থ নিরাপদ থাকছে, কিন্তু অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে তার গতি কমে যাচ্ছে।

সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ, শিল্পে নয়
ব্যাংকের বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি বিল ও বন্ডে চলে যাচ্ছে। এর পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ দিলে যেখানে খেলাপির ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে সরকারি সিকিউরিটিজ তুলনামূলক নিরাপদ। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রশ্ন উঠবে—ব্যাংকের অর্থ কি শিল্প ও ব্যবসার চাকা ঘোরাচ্ছে, নাকি মূলত সরকারি অর্থায়নের মাধ্যম হয়ে থাকছে? ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে না গেলে শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ডলার কেনায়ও বাড়ছে ব্যাংকের টাকা
তারল্য বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কেনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে নিট ৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। ডলার কেনার বিপরীতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা প্রবেশ করেছে। ফলে অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ বাড়লেও তার বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা একই হারে বাড়েনি। অর্থাৎ একদিকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনায় নতুন টাকা ঢুকছে। কিন্তু সেই অর্থ শোষণ করার মতো বিনিয়োগ চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। ফলাফল—ব্যাংকে বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য।

স্বল্পমেয়াদি ধারেও বড় পতন
ব্যাংকের হাতে অর্থ বাড়ার আরেকটি প্রমাণ মিলছে আন্তঃব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার পরিমাণে। জুলাইয়ে কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। জুনে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এক মাসে কমেছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যকার স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদাও কমছে। এটি স্পষ্টতই দেখাচ্ছে, ব্যাংক খাতে এখন অর্থের ঘাটতির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের সমস্যাই বেশি প্রকট।

সুদ কমিয়েও বিনিয়োগ ফিরছে না
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকার কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও একক গ্রাহকের ঋণসীমা বাড়ানো এবং নীতি সুদহার কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ জুলাই রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির হারও কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু শুধু সুদ কমালেই বিনিয়োগের গতি ফিরবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত শুধু সুদের ওপর নির্ভর করে না। তিনি দেখতে চান বাজারের চাহিদা, উৎপাদনের নিশ্চয়তা, জ্বালানি সরবরাহ, রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিবেশ। এই জায়গাগুলোতে অনিশ্চয়তা থাকলে কয়েক শতাংশ সুদ কমিয়েও বিনিয়োগে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।

‘তারল্য সংকট’ আর ‘তারল্য উদ্বৃত্ত’—দুই বাস্তবতা
তবে ব্যাংক খাতের এই ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্যকে পুরো ব্যাংক খাতের সমান সক্ষমতা হিসেবে দেখাও ঠিক হবে না। একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, এই উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পরিসংখ্যান দেখে পুরো ব্যাংক খাতকে তারল্যে স্বস্তিতে আছে বলা যাবে না। কিছু ব্যাংক এখনো তারল্য সংকটে রয়েছে এবং বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের সীমিত। এটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আরেকটি কাঠামোগত সমস্যা সামনে আনে—একদিকে অতিরিক্ত তারল্য, অন্যদিকে কিছু ব্যাংকে তারল্য চাপ। অর্থাৎ সমস্যা কেবল মোট অর্থের পরিমাণে নয়; অর্থ কোথায় আছে এবং কোথায় যাচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ ‘টাকা কাজে লাগানো’
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামনে এখন আগের মতো শুধু তারল্য জোগাড়ের চ্যালেঞ্জ নেই। বরং বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্বৃত্ত অর্থকে নিরাপদ ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য একসঙ্গে কয়েকটি সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। প্রথমত, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তৃতীয়ত, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, সরকারি অর্থায়নের চাপ এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে ব্যাংকের অর্থের বড় অংশ কেবল সরকারি সিকিউরিটিজে আটকে না থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঋণের চাহিদা তৈরির মতো বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

অর্থনীতির সামনে বড় সতর্কবার্তা
ব্যাংকে টাকা থাকা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয়। কিন্তু সেই টাকা যদি শিল্পে না যায়, নতুন ব্যবসা না তৈরি করে, উৎপাদন না বাড়ায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে, তাহলে কাগজে-কলমে তারল্যের প্রাচুর্য বাস্তব অর্থনীতিতে খুব বেশি সুফল দেবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গল্পটি শুধু ‘টাকা বাড়ছে’—এমন নয়। বরং এর গভীরে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা—ব্যাংকে অর্থের অভাব নেই; অভাব বিনিয়োগের আস্থা ও ঋণের কার্যকর চাহিদার। আর এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ব্যাংকের ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তারল্যও অর্থনীতির চাকা দ্রুত ঘোরাতে পারবে না।

কালের আলো/এম/এএইচ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি