খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিলেও তা এখনো নাজুক। একদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহের স্থবিরতা, দুর্বল রফতানি এবং ব্যাংক খাতের সংকট অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এমসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি : এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা গতি ফিরলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার তুলনায় এই হার এখনো কম।

মূল্যস্ফীতি কমেছে, চাপ কাটেনি
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখনো মূল্যস্ফীতি। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। তবে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক প্রবণতাকে স্থায়ী করাই এখন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কাজ।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রিজার্ভেও শক্তি
বৈদেশিক খাত অবশ্য অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। মে শেষে এই পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই রিজার্ভে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে রফতানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করছে এমসিসিআই।

রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি নেই
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক চিত্র থাকলেও রফতানি খাত এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। জুনে রফতানি আয় বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার তৈরি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা, সরকারের ঋণ বাড়ছে
অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থনীতির এই চিত্রে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দুর্বল চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না ফিরলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা কঠিন হবে। তাই ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত থেকে কার্যকর ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়েও সংকট
সরকারের রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। একই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে। এক দশকের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। ফলে রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি—দুই দিক থেকেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত
বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাবে অবশ্য বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে। আরও উদ্বেগের বিষয়, নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে নিট এফডিআই নেমে এসেছে মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক খাতকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও বিনিয়োগ ও রফতানির দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামনে মূল কাজ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা
এমসিসিআইয়ের মূল্যায়নে সামগ্রিক চিত্রটি তাই মিশ্র। বৈদেশিক খাতে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি—বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ, উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা—এখনো দুর্বল। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ শুধু স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নয়, বরং সেই স্থিতিশীলতাকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। এজন্য মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, রফতানিতে গতি ফেরানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, পুনরুদ্ধারের দরজা খুলতে শুরু করেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এম/এএইচ

বেতন পাওয়ার পরই টাকা শেষ? মাসের শুরুতে করা এই ৭ ভুল বন্ধ করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
বেতন পাওয়ার পরই টাকা শেষ? মাসের শুরুতে করা এই ৭ ভুল বন্ধ করুন

বেতন পাওয়ার দিনটিই যেন মাসের সবচেয়ে আনন্দের দিন। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স কমতে শুরু করে, তাহলে সমস্যা শুধু আয় কম হওয়ার নয়—খরচের ধরন ও টাকা ব্যবস্থাপনার ভুলও বড় কারণ হতে পারে।

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাসের শুরুতেই আয় ও খরচের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা এবং প্রতিদিনের খরচের হিসাব রাখা জরুরি। কারণ ছোট ছোট অনিয়ন্ত্রিত খরচও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।

তাই বেতন হাতে পাওয়ার পর এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

১. বেতন পেয়েই বড় কেনাকাটা

বেতন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নতুন পোশাক, গ্যাজেট, রেস্টুরেন্টে খাওয়া বা অনলাইনে শপিং—এগুলোতে বেশি খরচ করে ফেললে মাসের বাকি সময়টা চাপের হয়ে উঠতে পারে।

বেতন পাওয়ার দিনই পুরো টাকা ‘খরচযোগ্য’ মনে না করে আগে মাসের প্রয়োজনীয় খরচগুলো আলাদা করে রাখুন।

২. বাজেট না করেই খরচ শুরু

‘দেখা যাবে’ ভেবে মাস শুরু করলে কোথায় কত টাকা যাচ্ছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।

মাসের শুরুতেই বাসা ভাড়া, বাজার, বিল, যাতায়াত, ঋণের কিস্তি, সঞ্চয় ও অন্যান্য খরচ লিখে একটি বাজেট তৈরি করুন। মাসের প্রতিদিনের খরচও নোট করলে কোথায় বেশি টাকা চলে যাচ্ছে তা সহজে ধরা পড়ে।

৩. ছোট খরচকে গুরুত্ব না দেওয়া

এক কাপ কফি, রাইড শেয়ার, অনলাইন ফুড অর্ডার, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন কিংবা প্রতিদিনের ছোটখাটো কেনাকাটা—একেকবারে অল্প মনে হলেও মাস শেষে এগুলো বড় অঙ্ক হতে পারে।

তাই ‘মাত্র ১০০-২০০ টাকা’ ভেবে কোনো খরচকে একেবারে হিসাবের বাইরে রাখবেন না।

৪. বেতন থেকে সঞ্চয় না করে যা থাকে তা জমাবেন ভাবা

অনেকেই ভাবেন, মাস শেষে টাকা থাকলে সঞ্চয় করবেন। বাস্তবে মাস শেষ হওয়ার আগেই সেই টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বরং বেতন পাওয়ার পরই সামর্থ্য অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা যায়।

৫. ‘নিজেকে একটু ট্রিট’ দিতে গিয়ে বাজেট ভেঙে ফেলা

বেতন পেয়েছেন—তাই বন্ধুদের সঙ্গে দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া বা শপিং করতেই পারেন। কিন্তু এর জন্য আগে থেকে নির্দিষ্ট বাজেট না থাকলে আনন্দের সেই খরচই পরে আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিনোদনের জন্য আলাদা বাজেট রাখুন, কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম না করার চেষ্টা করুন।

৬. মাসের বড় খরচগুলো আগে থেকে না ভাবা

মাসের শুরুতে শুধু নিয়মিত খরচ হিসাব করলেই হবে না। চিকিৎসা, বাড়ির মেরামত, শিক্ষার খরচ, উপহার, ভ্রমণ বা বার্ষিক কোনো বিলের মতো অনিয়মিত খরচও মাথায় রাখতে হবে।

কয়েক মাসের খরচের হিসাব দেখলে এ ধরনের কম ঘনঘন আসা খরচও বাজেটে রাখা সহজ হয়।

৭. জরুরি সঞ্চয় না রাখা

হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরিতে সমস্যা, বাড়ির জরুরি মেরামত কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ—যেকোনো সময় আসতে পারে। জরুরি সঞ্চয় না থাকলে তখন ধার বা ক্রেডিটের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

তাই নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি জরুরি তহবিল তৈরির অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য পরিমাণ দিয়েও শুরু করা যায়।

মাসের শুরুতেই করুন এই ছোট্ট পরিকল্পনা

বেতন হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই—

প্রয়োজনীয় খরচ → সঞ্চয় → জরুরি তহবিল → ঋণ/কিস্তি → দৈনন্দিন খরচ → বিনোদন

এভাবে অগ্রাধিকার ঠিক করে নিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কত টাকা আয় করছেন তার পাশাপাশি কত টাকা কোথায় খরচ করছেন—সেটিও জানা। নিয়মিত খরচের হিসাব রাখা ও বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করলে মাসের শেষের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বেতন পাওয়ার পর টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তাই শুধু ‘কম আয়’-এর বিষয় নয়; অনেক সময় ভুল অভ্যাস বদলালেও আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় পার্থক্য আনা সম্ভব।

কালের আলো/এসএ

নেপালে বন্যা-ভূমিধস,কেমন আছেন অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ টিম?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিধস,কেমন আছেন অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ টিম?

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং টিম বর্তমানে নেপালে অবস্থান করলেও সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এ তথ্য জানান অপু বিশ্বাস।

পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, নেপালে আকস্মিক ভূমিকম্প ও বন্যায় শত শত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘শিকার’ সিনেমার টিম নেপালে অবস্থান করায় অনেকেই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন ও মেসেজ করে খোঁজ নিয়েছেন।

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘সবার এই ভালোবাসা, উদ্বেগ ও আন্তরিকতার জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এরপর তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদ স্থানে আছি এবং সবাই সুস্থ ও ভালো আছি।’

নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অনেক দর্শক, ভক্ত, সাংবাদিক, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী অপু বিশ্বাস ও তাঁর টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশেষ করে তাঁরা জানতে চান, শুটিং ইউনিটের সবাই নিরাপদ আছেন কি না।

সবার সেই উদ্বেগের জবাব দিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকার খবরটি জানান অভিনেত্রী।

বুধবার নেপালের বাগমতী প্রদেশের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে বহু বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে নেপাল সরকার। নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল দুর্গত এলাকায় কাজ করছে।

এদিকে দুর্যোগের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় নেপালে অবস্থানরত বিদেশি পর্যটকদের নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ের জন্য অপু বিশ্বাসসহ পুরো টিম নেপালে অবস্থান করছেন। দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে শুটিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অপু বিশ্বাস। তিনি শুধু জানিয়েছেন, পুরো টিম নিরাপদ স্থানে রয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।

দুর্যোগের খবরের মধ্যে অপুর এই বার্তা তাই তাঁর ভক্তদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

ট্রাম্পের দাবি, ‘মোজতবা খামেনি মারা যাননি, গুরুতর আহত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্পের দাবি, ‘মোজতবা খামেনি মারা যাননি, গুরুতর আহত’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মারা যাননি, তবে সামরিক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন-এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন ভাষ্যকার গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনির শরীরের বাম পাশ, বিশেষ করে হাত ও পা, মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তবে তিনি জীবিত আছেন বলেই মনে করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কয়েক মাস ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।

মোজতবা খামেনি মারা গেছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি তা মনে করেন না। তবে যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে ইরানের কর্মকর্তারা বিষয়টি গোপন রেখে ‘বেশ ভালো অভিনয়’ করছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এখনো বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বলছেন। তবে মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ দেননি।

রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলাতেই তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। রয়টার্সের সূত্রগুলো এর আগে জানিয়েছিল, তাঁর মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল এবং তিনি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকলেও প্রকাশ্যে আসেননি।

তেহরান অবশ্য মোজতবা খামেনির গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতার বিভিন্ন খবর প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছিলেন। মার্চে এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিনি আহত হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফলে বর্তমানে মোজতবা খামেনির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করছে এবং যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেন।

তবে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপাতত নিশ্চিত তথ্যের বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কারণ তাঁর বর্তমান অবস্থার স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ