খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিলেও তা এখনো নাজুক। একদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহের স্থবিরতা, দুর্বল রফতানি এবং ব্যাংক খাতের সংকট অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এমসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি : এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা গতি ফিরলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার তুলনায় এই হার এখনো কম।

মূল্যস্ফীতি কমেছে, চাপ কাটেনি
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখনো মূল্যস্ফীতি। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। তবে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক প্রবণতাকে স্থায়ী করাই এখন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কাজ।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রিজার্ভেও শক্তি
বৈদেশিক খাত অবশ্য অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। মে শেষে এই পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই রিজার্ভে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে রফতানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করছে এমসিসিআই।

রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি নেই
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক চিত্র থাকলেও রফতানি খাত এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। জুনে রফতানি আয় বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার তৈরি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা, সরকারের ঋণ বাড়ছে
অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থনীতির এই চিত্রে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দুর্বল চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না ফিরলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা কঠিন হবে। তাই ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত থেকে কার্যকর ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়েও সংকট
সরকারের রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। একই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে। এক দশকের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। ফলে রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি—দুই দিক থেকেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত
বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাবে অবশ্য বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে। আরও উদ্বেগের বিষয়, নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে নিট এফডিআই নেমে এসেছে মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক খাতকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও বিনিয়োগ ও রফতানির দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামনে মূল কাজ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা
এমসিসিআইয়ের মূল্যায়নে সামগ্রিক চিত্রটি তাই মিশ্র। বৈদেশিক খাতে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি—বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ, উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা—এখনো দুর্বল। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ শুধু স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নয়, বরং সেই স্থিতিশীলতাকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। এজন্য মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, রফতানিতে গতি ফেরানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, পুনরুদ্ধারের দরজা খুলতে শুরু করেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এম/এএইচ

নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নারিকেলবাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগ এলাকায় আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে তারা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিট সরাসরি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হলেও তিনি কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী নাকি অন্য কেউ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানাটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ডে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং কারখানার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ পুনরায় চালু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে না পারায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে থাকতে হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকায় তাঁরা খুব কষ্টে আছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ জানান। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, পদ্মার তলদেশে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।দীর্ঘ আট মাসের ভোগান্তির পর নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের আশ্বাসে বিদ্যুৎ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে নতুন সংযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করবে এবং দেড় হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনা করতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের অভিজ্ঞ নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা। ব্যস্ততা থাকলেও তামিমের অনুরোধ ফেলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়িতে ফেরার মতো অনুভূতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক।

সোমবার ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার ফাঁকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন চারু শর্মা। বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে জানিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান তামিম ইকবালকে।বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চারু শর্মা বলেন, ‘অতীতে কয়েকবার আসা হয়েছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশে এলাম। তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ, সে-ই আমাকে কল করে। আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। তবে বললাম, একদম ভেবো না, আমি চলে আসব। এখানে এসে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে আছি।’

চারুর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং তামিমের আমন্ত্রণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশে প্রথম আসার সুনির্দিষ্ট সময়টি স্পষ্ট মনে নেই চারু শর্মার। তবে তাঁর ধারণা, ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় প্রথমবার এ দেশে এসেছিলেন তিনি। সেই সফরের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন এই নিলাম সঞ্চালক। চারু বলেন, ‘মনে নেই, তবে সম্ভবত ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। খুব উপভোগ করেছিলাম। অনেক বন্ধু হয়েছিল। প্রতি রাতে আমরা ঘুরতে বের হতাম। ধারাভাষ্যকার অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। একজন শামীম চৌধুরী। আবারও সবার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, আমি খুবই খুশি।’

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত চারু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের সফরের স্মৃতি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি। ডি থ্রি ট্রফির নিলাম আয়োজনের ধারণাটিও পছন্দ হয়েছে চারু শর্মার। তাঁর মতে, এ ধরনের পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে দলগুলোর কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে নিলাম দীর্ঘায়িত না করে প্রতিযোগিতাটিকে আকর্ষণীয়ভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

নিলাম পরিচালনা নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কাজই করি। তবে নিলাম পরিচালনা আমার প্রিয় কাজ। এবং বিশেষ করে এখানে যে কনসেপ্টে নিলাম হচ্ছে, খুব ভালো লাগল। সবার বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে। বেশি সময়ও লাগানো যাবে না। ২-৩ দিন ধরে নিলাম করলে তো আর হবে না। তবে এক্সাইটিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্যাটাগরি ‘এ’ তো রোমাঞ্চকর ছিল। এখন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’ চারুর মতে, নতুন পদ্ধতির সঙ্গে দলগুলোর মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিলামের গতি ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পুরো আয়োজনকে রোমাঞ্চকর করে তোলার চেষ্টাও করছেন তিনি।

ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি চারু শর্মার এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ারও সুযোগ তৈরি করেছে। আগের সফরের বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে তিনি খুশি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়ির মতো অনুভূতির কথা জানানো এবং নিলাম আয়োজনের প্রশংসা—দুই বিষয়েই তাঁর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তাই নিলাম পরিচালনার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতিও নতুন করে ফিরে এসেছে চারু শর্মার কাছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি