খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিলেও তা এখনো নাজুক। একদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহের স্থবিরতা, দুর্বল রফতানি এবং ব্যাংক খাতের সংকট অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এমসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি : এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা গতি ফিরলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার তুলনায় এই হার এখনো কম।

মূল্যস্ফীতি কমেছে, চাপ কাটেনি
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখনো মূল্যস্ফীতি। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। তবে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক প্রবণতাকে স্থায়ী করাই এখন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কাজ।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রিজার্ভেও শক্তি
বৈদেশিক খাত অবশ্য অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। মে শেষে এই পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই রিজার্ভে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে রফতানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করছে এমসিসিআই।

রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি নেই
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক চিত্র থাকলেও রফতানি খাত এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। জুনে রফতানি আয় বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার তৈরি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা, সরকারের ঋণ বাড়ছে
অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থনীতির এই চিত্রে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দুর্বল চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না ফিরলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা কঠিন হবে। তাই ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত থেকে কার্যকর ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়েও সংকট
সরকারের রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। একই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে। এক দশকের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। ফলে রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি—দুই দিক থেকেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত
বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাবে অবশ্য বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে। আরও উদ্বেগের বিষয়, নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে নিট এফডিআই নেমে এসেছে মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক খাতকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও বিনিয়োগ ও রফতানির দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামনে মূল কাজ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা
এমসিসিআইয়ের মূল্যায়নে সামগ্রিক চিত্রটি তাই মিশ্র। বৈদেশিক খাতে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি—বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ, উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা—এখনো দুর্বল। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ শুধু স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নয়, বরং সেই স্থিতিশীলতাকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। এজন্য মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, রফতানিতে গতি ফেরানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, পুনরুদ্ধারের দরজা খুলতে শুরু করেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এম/এএইচ

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি