খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি, পুনরুদ্ধারে আশার আলো

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিলেও তা এখনো নাজুক। একদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহের স্থবিরতা, দুর্বল রফতানি এবং ব্যাংক খাতের সংকট অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এমসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি : এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা গতি ফিরলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার তুলনায় এই হার এখনো কম।

মূল্যস্ফীতি কমেছে, চাপ কাটেনি
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি এখনো মূল্যস্ফীতি। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। তবে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক প্রবণতাকে স্থায়ী করাই এখন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কাজ।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি, রিজার্ভেও শক্তি
বৈদেশিক খাত অবশ্য অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। মে শেষে এই পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই রিজার্ভে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে রফতানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করছে এমসিসিআই।

রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি নেই
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক চিত্র থাকলেও রফতানি খাত এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। জুনে রফতানি আয় বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার তৈরি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা, সরকারের ঋণ বাড়ছে
অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থনীতির এই চিত্রে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দুর্বল চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না ফিরলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা কঠিন হবে। তাই ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত থেকে কার্যকর ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়েও সংকট
সরকারের রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। একই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে। এক দশকের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। ফলে রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি—দুই দিক থেকেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত
বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাবে অবশ্য বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে। আরও উদ্বেগের বিষয়, নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমেছে ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে নিট এফডিআই নেমে এসেছে মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক খাতকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও বিনিয়োগ ও রফতানির দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামনে মূল কাজ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা
এমসিসিআইয়ের মূল্যায়নে সামগ্রিক চিত্রটি তাই মিশ্র। বৈদেশিক খাতে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি—বিনিয়োগ, বেসরকারি ঋণ, উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা—এখনো দুর্বল। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ শুধু স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নয়, বরং সেই স্থিতিশীলতাকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। এজন্য মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, রফতানিতে গতি ফেরানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, পুনরুদ্ধারের দরজা খুলতে শুরু করেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এম/এএইচ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি