খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ সরকারের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ সরকারের

দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালু, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় রেল মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেবার মান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন আরও ১০ জেলায় রেল সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকেই রেল যোগাযোগের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলায় কীভাবে রেলসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য রেললাইন ও প্রকল্পের প্রাথমিক উপস্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট রুটে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের সীমাবদ্ধতা দূর করতে ওই অংশগুলোতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন বাস্তবায়নের বিষয়েও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। এখন বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে। এই কর্ড লাইন চালু হলে প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে যাবে।

রাজধানী ও আশপাশের জেলার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-জয়দেবপুরের মতো ঢাকা-মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা-নরসিংদী রুটেও কমিউটার ট্রেন চালুর চিন্তা করছে সরকার।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানিকগঞ্জ এখনো রেল যোগাযোগের বাইরে রয়েছে। আমরা চাই মানুষ যেন ঢাকায় কাজ বা ব্যবসা শেষে দ্রুত নিজ জেলায় ফিরে যেতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন রবিউল আলম। তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রেললাইন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগির ব্যবস্থা না থাকায় সেবাদান বিলম্বিত হয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলোতে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা থাকবে না।

মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচ একই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে রেলপথ নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে কোনো প্রকল্পে রেললাইন একদিকে আর ইঞ্জিন-বগি অন্যদিকে হবে না। সবকিছু সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে জনগণ দ্রুত সেবা পায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারত আমন্ত্রণ জানালে নিশ্চয়ই যাবো। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি— আমি যদি প্রোপার ইনভিটেশন পাই, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি। কথাটা খুব ইম্পর্টেন্ট।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই। আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। ইন্টেরিমের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের এক্সচেঞ্জ নানান ফর্মে হতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু সেটা না। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের পানি আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টা নদী আছে। আমাদের রাইট আছে। আমাদের ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি সেটা লুফে নেবো। আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবেন। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে—ইনফ্যাক্ট ইন্টেরিম সরকারের সময় তারা অনেকবার এই কথাবার্তা বলেছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে তারা, নতুন সরকার যেটা আসবে যেটা জনগণের ম্যান্ডেট-প্রাপ্ত তার সঙ্গে তারা এনগেজ করবেন। আমি আশা করি তারা সেটা এগিয়ে যাবেন এবং আমি যদি কোথাও কোনোভাবে রোল প্লে করার সুযোগ পাই, ইনভিটেশন পাই নিশ্চয়ই ভারতে যাবো। আবারও বলছি ব্যক্তি জাহেদ ওখানে কিছু করে নাই। আসলে আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। বিষয়টি দেখেছি যে, একটা রাষ্ট্রের একটা সরকারের একটা পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ হচ্ছে, সেই কারণে আসলে ওটা করেছি।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি