খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাংবাদিকতা করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাংবাদিকতা করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রতি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাদের সংবাদ ও বিশ্লেষণ রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মত ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ পরিবেশন করলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় সবসময় প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের সমন্বয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা থাকলে তা আরও সমৃদ্ধ হয়। অনেক সময় কোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে গিয়ে বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়, যা জাতীয় স্বার্থের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং রাষ্ট্রকে পথও দেখায়। সাংবাদিকরা সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেন এবং উন্নয়নের গতিকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে সরকার জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, আর সাংবাদিকরা সেই কাজের মূল্যায়ন করেন। এ দুই পক্ষের লক্ষ্য একটিই হওয়া উচিত, সেটি হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। এ পথে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকে। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। যা দেখছি, যা করছি এবং যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটিই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরতে চিই। তবে অনেক সময় কোনো বক্তব্য বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একইভাবে বিষয়কে মূল্যায়ন করেন না। চিন্তার ভিন্নতার কারণে ব্যাখ্যাও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যত বেশি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ ও বিশ্লেষণ করা যাবে, তত বেশি দেশ উপকৃত হবে। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দেশের অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।’

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় সরকারের নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় তার মন্ত্রণালয়েরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে যদি কোথাও ব্যবধান থাকে, সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে জনভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই আতঙ্ক বা গুজবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় রাজশাহী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চতকরা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী।

সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি