শিল্পের আলোয় পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে তারেক রহমানের খাল খনন
১৯৭৭ সালে গ্রামীণ কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল সেই খাল খনন প্রকল্প। এবার সরকার গঠন করেই বাবার দেখানো পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের কৃষি ও পরিবেশ বাঁচাতে আবারও শুরু করেছেন জনপ্রিয় এই কর্মসূচি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা ও খাল-বিল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তাঁর সরকার। কৃষিনির্ভর জনপদে জীবিকা ও সম্ভাবনার অবিচ্ছেদ্য অংশ খাল খননে দেশজুড়ে ছুটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৫৪ জেলায় শুরু করেছেন এই কর্মসূচি। জেলায় জেলায় ঘুরে নিজে কোদাল হাতে খাল কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করছেন।
শিল্পের আলোয় ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগের এমনই রঙের ব্যবহারে আঁকা একটি ছবি বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে নিজেদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)।
দেশের কৃষি ও পরিবেশ বাঁচানোর মধ্যে দিয়ে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুগান্তকারী উদ্যোগের এই চিত্রকর্ম সরকারপ্রধানের হাতে তুলে দেন এসএসএফ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে দেশের মানুষ শুধু খাল পুনঃখনন হিসেবে দেখছেন না; তারা এটিকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও ইতিহাসের সাথে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়েন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আয়েশি জীবন রেখে কৃষক-শ্রমিকের সাথে কোদাল-কাস্তে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছোটেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশজুড়ে শুরু করেন খাল খনন কর্মসূচি। সে সময় ‘খাল খনন’ প্রকল্প ছিল শহীদ জিয়ার একটি জাতীয় আন্দোলন। বর্ষার পানি ধরে রাখা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ ফিরিয়ে আনা-সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল এই উদ্যোগ। এতে গ্রামবাংলার ছোট-বড় খালগুলো ফিরে পেয়েছিল জীবনস্রোত। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১; এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল এই খাল খনন কর্মসূচি। বিআইআইএসএস জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে মোট ২৭৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়।
কালের আলো/এমএএএমকে



আপনার মতামত লিখুন
Array