মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ও মাসকা ইউনিয়নে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে বজ্রপাত হয়। নিহতরা হলেন সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামে বসবাসরত আশরাফুল (৩৫) এবং মাসকা ইউনিয়নের দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হুদা (৫৫)। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বাউচাপুর গ্রামে। তিনি ইনচান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়া উপজেলার ডাউকি গ্রামে তার মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং মাছ ধরতে পছন্দ করতেন। বুধবার রাতেও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বড়শি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউকি গ্রামের পেছনের মরাপুড়ি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা বাড়ির পাশের মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাশেম মিয়া ও আশরাফুলের মামা মো. ইদ্দু মিয়া জানান, আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং প্রায়ই মাছ ধরতে বিভিন্ন স্থানে যেতেন। বুধবার রাতেও তিনি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন।
কেন্দুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুইজনই বজ্রপাতে মারা গেছেন। আশরাফুলের মরদেহের পাশ থেকে মাছ ধরার বড়শি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শামসুল হুদার শরীরেও বজ্রপাতে মৃত্যুর চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কালের আলো/এম/এএইচ



আপনার মতামত লিখুন
Array