খুঁজুন
                               
, ,
           

সাংবাদিকতায় অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই: বিএফইউজে মহাসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতায় অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই: বিএফইউজে মহাসচিব

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে উল্লেখ করে এ সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনির্ভর। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসের কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে এক সেমিনারে কাদের গনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি বলেন, বগল সম্পাদকরা এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে করে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। অথচ অহরহ এটা হচ্ছে। এ জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। আজ আমরা নিজেরাই আত্মসমর্পণ করে বসে আছি। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে। এ সময় গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের দলদাস সাংবাদিকদের গণবিরোধী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএফইউজের এ মহাসচিব।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দিতে চায়।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ, প্রশংসা ও সমালোচনা। প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে ঘিরে নির্মিত এই সিরিজটি দর্শকদের দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

কারও কাছে এটি অসমাপ্ত ভালোবাসার এক আবেগঘন গল্প, আবার কারও মতে এটি নতুন সম্পর্কে থেকেও অতীতের প্রেমকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক নির্মম বাস্তবতা, যা মানসিক প্রতারণার শামিল। ফলে সিরিজটি নিয়ে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

‘মুসাফির ক্যাফে’র গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি চরিত্র—চন্দর, সুধা এবং প্রীতি।

ক্যারিয়ার ও নিজের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে চন্দরকে ছেড়ে চলে যায় সুধা। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে যায়, আর চন্দরের জীবনে আসে প্রীতি। নতুন সম্পর্ক শুরু হলেও অতীতের ভালোবাসার স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে না চন্দর। বর্তমান ও অতীতের এই মানসিক দ্বন্দ্বই সিরিজটির মূল চালিকাশক্তি।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের দর্শকের দাবি, অতীতকে ভুলতে না পেরে নতুন সম্পর্কে জড়ানো প্রীতির প্রতি অন্যায়। তাঁদের মতে, একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে এখনো আগের সম্পর্কে আটকে থাকেন, তাহলে নতুন সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়।

অনেকেই চন্দরের আচরণকে ‘ইমোশনাল চিটিং’ বা মানসিক প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, ভালোবাসা শুধু সম্পর্কের নাম নয়; এটি একজন মানুষের প্রতি পূর্ণ মানসিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

অন্যদিকে আরেকটি বড় অংশের দর্শকের মতে, প্রথম ভালোবাসা সব সময় সহজে ভোলা যায় না। বাস্তব জীবনেও অনেক মানুষ নতুন সম্পর্কে জড়িয়েও অতীতের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না। তাই চন্দরের চরিত্র তাঁদের কাছে বাস্তবসম্মত এবং মানবিক।

শুধু চন্দর নয়, বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুধা চরিত্রটিও।

একদল দর্শকের মতে, নিজের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক ছেড়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে পুরোনো সম্পর্কের সমাপ্তি টানতে চাওয়া কিংবা নতুন করে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা অন্যদের জীবনে অযথা জটিলতা তৈরি করে।

তবে অন্যদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, একজন নারীর নিজের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। জীবনের একটি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বদলাতেই পারে, আর সেটিই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

সিরিজটির একটি বিশেষ দৃশ্য ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই দৃশ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক দর্শক জুতা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকে একই দৃশ্যকে ভালোবাসার গভীর আবেগ এবং বাস্তব জীবনের জটিল অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে একই দৃশ্য একজনের কাছে বিরক্তিকর মনে হলেও অন্য একজনের কাছে সেটিই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির ভিত্তিতেই কোনো গল্প বা চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন। ফলে একই গল্প ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করাটা খুবই স্বাভাবিক।

‘মুসাফির ক্যাফে’ ঠিক সেই জায়গাতেই দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করেছে। কে ঠিক, কে ভুল—তার নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সিরিজটি সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকে দর্শকের বিচারেই ছেড়ে দিয়েছে।

বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মাহিমা মাকওয়ানার অভিনয়ে নির্মিত সিরিজটির প্রথম মৌসুম শেষ হলেও গল্পের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

চন্দর শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? সে কি অতীতের ভালোবাসার কাছে ফিরে যাবে, নাকি বর্তমানকে গ্রহণ করবে? নাকি কোনো সম্পর্কেই নিজেকে খুঁজে পাবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন দ্বিতীয় মৌসুমের অপেক্ষায় দর্শকরা।

প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মুসাফির ক্যাফে’ কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়; এটি এমন একটি গল্প, যা দর্শকদের নিজেদের সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং অনুভূতি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই এটি হয়ে উঠেছে বছরের অন্যতম আলোচিত ওয়েব সিরিজ।

কালের আলো/এসএ

‘পাখি’ নয়, বাংলাদেশে ‘চামেলি’ হিসেবেই পরিচিত হতে চান মধুমিতা সরকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
‘পাখি’ নয়, বাংলাদেশে ‘চামেলি’ হিসেবেই পরিচিত হতে চান মধুমিতা সরকার

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বোঝে না সে বোঝে না’-এর ‘পাখি’ চরিত্র দিয়ে দুই বাংলার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এবার ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল নির্মিত ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকায় পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নেন মধুমিতা। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনায় তিনি অভিভূত বলে জানান।

অনুষ্ঠানে মধুমিতা বলেন,
‘এই এক বেলার মধ্যেই এত আন্তরিকতা পেয়েছি যে মনেই হচ্ছে না আমি প্রথমবার কোনো জায়গায় এসেছি। সবাই আমাকে যেভাবে আদর করে স্বাগত জানিয়েছেন, তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। এই ছবির জন্য এসেছি, এত সুন্দর একটা টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারছি—নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে।’

নতুন সিনেমার গল্প ও নিজের চরিত্র নিয়েও দারুণ আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়,
‘ছবিটির গল্প খুবই আলাদা এবং ইউনিক। এমন ধরনের চরিত্র কলকাতায় আমি আগে করিনি। তাই সিনেমাটি নিয়ে আমি ভীষণ এক্সাইটেড। এত সুন্দর একটি টিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আপ্লুত।’

শুটিংয়ের সময় আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে আরও কাছ থেকে জানার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। মধুমিতার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাঁর এই নতুন যাত্রাকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল ‘পাখি’ চরিত্র প্রসঙ্গে তাঁর আবেগঘন মন্তব্য। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকের ‘পাখি’ চরিত্র তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিলেও বাংলাদেশে তিনি নতুন পরিচয়ে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চান।

এ প্রসঙ্গে মধুমিতা বলেন,
‘সেই “পাখি” চরিত্রটির জন্য আমি এত ভালোবাসা পেয়েছি, যা সত্যিই অভাবনীয়। আপনারা সবাই আমাকে “পাখি” বলে ডাকেন। কিন্তু আমি চাই, বাংলাদেশে এমন একটি কাজ করি, যার কারণে আপনারা আমাকে নতুন নামে চিনবেন। যেমন “চামেলি”। আলাদা করে যেন “পাখি” বলে পরিচয় করিয়ে দিতে না হয়। আমি চাই এই সিনেমার চামেলি হয়ে সবার ভালোবাসা পেতে। এখানকার দর্শক যেন আমাকে নতুন একটি পরিচয় উপহার দেন।’

‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে অ্যাক্সেল ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতা এবং একজন যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি।

এতে মধুমিতা সরকারের পাশাপাশি অভিনয় করছেন রোজিনা, আমিন খান, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকার ও মুকিত জাকারিয়াসসহ আরও অনেক শিল্পী।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর থেকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। নির্মাতাদের আশা, ভিন্নধর্মী গল্প ও শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে ‘গুলশানের চামেলি’ দুই বাংলার দর্শকদের কাছেই বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুকলেসুরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন খায়রুল বাসার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুকলেসুরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন খায়রুল বাসার

দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও জীবনযুদ্ধ থামিয়ে দেননি মুকলেসুর রহমান। নিজের শ্রমে উপার্জন করে বৃদ্ধ মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। গাছের ছাল ছাড়িয়ে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলছে তাঁদের সংসার।

সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসে মুকলেসুরের এই কঠিন সংগ্রামের গল্প। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। তাঁর জীবনসংগ্রাম অনেকের হৃদয় স্পর্শ করে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসারও।

মুকলেসুরকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে খায়রুল বাসার লেখেন, “মুকলেসুর রহমান আমার ভাই। আমি প্রতি মাসে অল্প করে হলেও আমার পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। কেউ আমাকে এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।”

অভিনেতার এই মানবিক ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঢল নেমেছে। অনেকেই তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানসিকতাকে অনুসরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মুকলেসুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন খায়রুল বাসার। দেশে ফিরেই তিনি মুকলেসুর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে খায়রুল বাসারের ভূমিকা নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কবর খননকারী মনু মিয়ার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ঘোড়াটি হত্যার ঘটনায়ও তিনি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। মনু মিয়ার জন্য নতুন একটি ঘোড়া কিনে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।

মুকলেসুর রহমানের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগও সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অনেকের প্রত্যাশা, খায়রুল বাসারের এ উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

কালের আলো/এসএ