খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ঘোষণা অনুযায়ী, বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করা হবে আইনটি থেকে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এসময় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের পথনকশাও তুলে ধরেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পরই শুরু হয় বিতর্ক। সংসদে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী আনার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড়, ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা কোম্পানিকে অতিরিক্ত করসুবিধা এবং লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সরকার শুধু অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।

এছাড়া, বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বাজেটের সাফল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নে নিহিত। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

কালের আলো/এসএকে

হাসিনার ফেরার গুঞ্জন, অস্থিরতা ঠেকাতে কঠোর সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
হাসিনার ফেরার গুঞ্জন, অস্থিরতা ঠেকাতে কঠোর সরকার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের আলোচনা তারাও শুনেছেন। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির এ ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই চালু রয়েছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো অপশক্তি, পতিত শক্তি, ফ্যাসিস্ট, পলাতক অপরাধী কিংবা গণহত্যাকারীর অপতৎপরতা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং দেশের শত শত নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা দেশে চলতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আবারও বলেন, বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা এ-সংক্রান্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

এসকেলেটর উদ্বোধনের জৌলুশ, তারপর অচল!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
এসকেলেটর উদ্বোধনের জৌলুশ, তারপর অচল!

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, সঙ্গে পথচারীদের ওঠানামা সহজ করতে বসানো হচ্ছে চলন্ত সিঁড়ি (এসকেলেটর)। কিন্তু উদ্বোধনের জৌলুশ ফুরাতেই কোথাও থেমে যাচ্ছে যন্ত্র, কোথাও মাসের পর মাস মিলছে না সেবা। আবার কোথাও মেরামতের পর চালু হলেও তা কত দিন সচল থাকবে, সেই নিশ্চয়তা নেই। ফলে নাগরিক সুবিধার নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বাস্তবে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, ফার্মগেট ও বিমানবন্দর এলাকার ফুটওভারব্রিজগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, এসকেলেটর স্থাপনের চেয়ে সেগুলো সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ পুরোনো ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটানোর নিশ্চয়তা ছাড়াই নতুন প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে ব্যয়বহুল এই প্রযুক্তি। এতে প্রকল্প পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • ঢাকার একাধিক ফুটওভারব্রিজে অচল চলন্ত সিঁড়ি, ব্যাহত নাগরিক সুবিধা
  • স্থাপনের পরই বন্ধ, কোথাও বছরের পর বছর অচল
  • পুরোনো সমস্যার সমাধান ছাড়াই নতুন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রশ্ন

উদ্বোধন হয়েছে, সেবা নেই
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্মিত নিউ মার্কেট ফুটওভারব্রিজের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয় ব্রিজটি। পথচারীদের নিরাপদ পারাপার ও ওঠানামা সহজ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্রিজটির বড় অংশ হকারদের দখলে চলে গেছে। সংকুচিত হয়েছে পথচারীদের চলাচলের জায়গা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এসকেলেটর বন্ধ থাকার সমস্যা।

ব্রিজের পাশে দায়িত্ব পালন করা নিউ মার্কেটের এক নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, নির্মাণের পর চলন্ত সিঁড়িটি মাত্র তিন দিন অল্প সময়ের জন্য চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি নিয়মিত চলতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, যে সুবিধার জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হলো, সেটি যদি ব্যবহারই করা না যায়, তাহলে প্রকল্পটির কার্যকারিতা কোথায়? শুধু অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্র স্থাপন করেই কি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শেষ?

ফার্মগেটে উদ্বোধনের এক সপ্তাহেই বন্ধ
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফার্মগেট ফুটওভারব্রিজ উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মধ্যেই এর এসকেলেটর বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় অচল থাকার পর সম্প্রতি সেটি আবার চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিয়মিত ব্যবহারকারী ফাদিন খান। তাঁর ভাষ্য, উদ্বোধনের কিছুদিন পর থেকেই চলন্ত সিঁড়িটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। তবে কিছুদিন ধরে সেটি নিয়মিত চলছে। মেরামতের পর এসকেলেটর সচল হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণ কী ছিল, সমস্যার সমাধান কীভাবে হলো এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও জরুরি। কারণ, সাময়িকভাবে চালু হওয়া আর দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়া এক বিষয় নয়।

বিমানবন্দরে দুই বছরের বেশি অচল
বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভারব্রিজেও একই সমস্যার নজির রয়েছে। ২০১৭ সালে স্থাপিত এসকেলেটর প্রথম দিকে সচল থাকলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিজটির দুই পাশের চলন্ত সিঁড়ি দুই বছরেরও বেশি সময় অচল ছিল।

এর সরাসরি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে পথচারীদের। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়েছে কষ্ট করে। যাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এসকেলেটর স্থাপন, তাঁদেরই একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখানেই সমস্যাটি কেবল যন্ত্র বিকল হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে নাগরিক সেবা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ব্যর্থতার প্রশ্ন।

যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা আছে, সচল রাখার নিশ্চয়তা কোথায়?
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, ঢাকায় এসকেলেটর স্থাপনের আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি ছিল। তাঁর প্রশ্ন, দেশে এ ধরনের যন্ত্র কার্যকরভাবে পরিচালনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ ওঠার পরও কেন নতুন প্রকল্পে সেগুলো যুক্ত করা হচ্ছে? তিনি বলেন, ঢাকার অধিকাংশ চলন্ত সিঁড়ি অচল পড়ে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা শহরের জন্য কতটা উপযোগী, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তারপরও এসকেলেটর যুক্ত করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে।

আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, স্থাপনের পর যন্ত্রগুলো অচল পড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাগরিকের অর্থ অপচয়ের দায় নিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট—প্রকল্পের সফলতা শুধু নির্মাণকাজ শেষ করা বা উদ্বোধন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যে সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবে কত দিন ও কতটা কার্যকরভাবে দেওয়া যাচ্ছে, তার হিসাবও থাকতে হবে।

ব্যয় বাড়ে, দায় নেয় কে?
একটি এসকেলেটর স্থাপনের পর সেটি সচল রাখতে নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা, যন্ত্রাংশের জোগান, দক্ষ কর্মী এবং মেরামতের জন্য অর্থ প্রয়োজন। যন্ত্রাংশ চুরি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

কিন্তু এসব প্রস্তুতি কতটা নিশ্চিত করে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন এসকেলেটর কেনার বাজেট থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেটি পরিচালনার অর্থ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং মেরামতের সময়সীমা স্পষ্ট না হলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় সামনে আসা জরুরি। রাজধানীর কোন ফুটওভারব্রিজের এসকেলেটর সচল, কোনটি অচল এবং কত দিন ধরে বন্ধ—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। অচল যন্ত্রের কারণ নির্ধারণ করে মেরামতের সময়সীমা জানাতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও পরিচালন সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকল্পের ব্যয় কত, তার হিসাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই অর্থের বিনিময়ে নাগরিকেরা কতটা সেবা পাচ্ছেন, তার হিসাবও প্রকাশ্যে থাকা উচিত।

উন্নয়ন কি শুধু নির্মাণেই সীমাবদ্ধ?
ফুটওভারব্রিজে এসকেলেটর স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের চলাচল সহজ করা। কিন্তু যন্ত্র অচল, চলাচলের জায়গা হকারদের দখলে কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা অনিশ্চিত থাকলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।

নিউ মার্কেটের নতুন ব্রিজের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেটির ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ফার্মগেট ও বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা আবার মনে করিয়ে দেয়, রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এখন প্রশ্ন, পুরোনো প্রকল্পের এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রকল্পে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে? এসকেলেটর স্থাপনের সিদ্ধান্তের আগে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করা হচ্ছে কি? আর স্থাপনের পর সেগুলো সচল না থাকলে দায় নির্ধারণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে

দুই স্বর্ণে জাতীয় কারাতেতে ইতিহাস গড়ল জামালপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
দুই স্বর্ণে জাতীয় কারাতেতে ইতিহাস গড়ল জামালপুর

জাতীয় পর্যায়ের জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে জামালপুরের খেলোয়াড়রা। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক জিতে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছে তারা। পাশাপাশি একটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে দুটি তাম্রপদকও অর্জন করেছে জামালপুরের আরেক খেলোয়াড়।

এই সাফল্যে আনন্দিত জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন জামালপুরের তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে আশা করছেন তাঁরা।

দুই দিনের প্রতিযোগিতায় জামালপুরের সাফল্য
গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন।

প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন, শনিবার, পৃথক দুটি বয়স শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জেতেন জামালপুরের দুই খেলোয়াড়। তাঁদের এই অর্জন জেলার কারাতে অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ জানান, জামালপুর জেলা থেকে মোট ২৬ জন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুইজন স্বর্ণপদক এবং একজন দুটি তাম্রপদক অর্জন করেন।

কাতায় স্বর্ণ জিতেছে তাফহীম, কুমিতেতে আব্দুর রউফ
প্রতিযোগিতায় ১০ থেকে ১২ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ একক কাতা ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জন করে তাফহীম আল হোসাইন। কাতা হলো কারাতের এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ, যেখানে নির্দিষ্ট কৌশল, আঘাত ও প্রতিরক্ষার মুদ্রা ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করতে হয়। অন্যদিকে, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়স শ্রেণির পুরুষ কুমিতে বিভাগে স্বর্ণপদক জেতে আব্দুর রউফ। কুমিতে হলো প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিয়ম মেনে সরাসরি লড়াইভিত্তিক কারাতে প্রতিযোগিতা। দুই ভিন্ন বয়স শ্রেণি ও ইভেন্টে এই সাফল্য জামালপুরের খেলোয়াড়দের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তরুণ বয়সেই জাতীয় পর্যায়ে এমন অর্জন তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্রীড়াজীবনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আকিবুলের ঝুলিতে দুটি তাম্রপদক
স্বর্ণপদকের পাশাপাশি জামালপুরের হয়ে দুটি তাম্রপদক অর্জন করেছে আকিবুল ইসলাম বেলাল। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স শ্রেণিতে কাতা ও কুমিতে—দুটি পৃথক ইভেন্টে অংশ নিয়ে এই সাফল্য পায় সে। একই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে পদক অর্জনের মাধ্যমে জামালপুরের খেলোয়াড়রা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। জেলার ক্রীড়া সংগঠকেরা মনে করছেন, এই ফলাফল ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণকে কারাতে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।

‘পুরো জামালপুর জেলার জন্য গর্বের বিষয়’
মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের খেলোয়াড়দের এটিই প্রথম স্বর্ণপদক অর্জন। তাঁর মতে, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পদক জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জামালপুরের কারাতের সাফল্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এজন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আশ্বাস ক্রীড়া সংস্থার
জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানও খেলোয়াড়দের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক পাওয়া জামালপুরের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কারাতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত সহযোগিতা করা হয় জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও তাঁদের উন্নয়ন ও সাফল্যের জন্য আরও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জামালপুর থেকে আরও প্রতিভাবান কারাতেকা উঠে আসবে। এবারের সাফল্য সেই সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

কালের আলো/এসএ/টিসি