খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই বছরে ২০ কোটির সম্পত্তির মালিক অনলাইন জুয়াড়ি মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
দুই বছরে ২০ কোটির সম্পত্তির মালিক অনলাইন জুয়াড়ি মামুন

ময়মনসিংহে অনলাইনে জুয়া খেলে ২০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক সাইবার স্পেশালিষ্টকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তার মামুন জেলার সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী আব্দুল খালেকের ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পর দিন নতুন আইনে (জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখার নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান ও তার সঙ্গীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় একদল অনলাইনে জুয়া খেলছেন ও বিপুল পরিমান টাকা লেনদেন করছেন। এমন সংবাদ পেয়ে মাছ বাজার এলাকায় আসতেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে জুয়াড়িরা। এসময় আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অপর ৩/৪ জন পালিয়ে যায়।

পরে বাজারের লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ঘেটে অনলাইন জুয়ার ৯৩টি স্ক্রীনশট, ওয়ান এক্স বেট, মেলবেটসহ একাধিক অনলাইন বেটিং অ্যাপস এবং অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আশরাফুল আলাম মামুনকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অপকর্মের বিষয়টি সামনে আসে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছর আগে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল। সেখান থেকে ফিরে ল্যাংড়া বাজারে মোবাইল রিচার্জের দোকান দেন। নিয়মিত তার দোকানে অপরিচিত যুবকরা ভীড় করতেন। সেখান থেকে তার উত্থানের শুরু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন দুই বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগদ টাকার মালিক। দুই বছরে ১৬ শতাংশ জমিতে বিশাল বাউন্ডারি দিয়ে তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গরুর খামার। ৫ শতাংশ জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের চেম্বারে রাখেন উন্নত মানের বন্দুক, এ ছাড়া নামে-বেনামে জমি।

জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, আশরাফুল আলম ফারুকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে জনভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই আতঙ্ক বা গুজবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় রাজশাহী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চতকরা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী।

সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি