বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে আর্জেন্টিনায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই দর্শকের মৃত্যু
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ম্যাচ শেষে বিভিন্ন দুর্ঘটনা, মারামারি ও অতিরিক্ত মদ্যপানের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
আর্জেন্টিনার জরুরি চিকিৎসা–সেবা সংস্থা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক–নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। খেলা চলাকালে রাজধানী বুয়েনস এইরেসে পৃথক দুটি ঘটনায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৬৭ ও ৮৮ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি।
নিহতদের মধ্যে ৬৭ বছর বয়সী একজন নিজ বাসায় হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ৮৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগজনিত উপসর্গে আক্রান্ত হলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭২ বছর বয়সী আরও একজন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)–তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তাঁর অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
এদিকে ম্যাচ শেষে বুয়েনস এইরেসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে। লাভালে ও ৯ ডি জুলিও অ্যাভিনিউর মোড়ে প্রায় চার মিটার উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাঁর বাঁ পায়ে ভাঙন ও স্থানচ্যুতি হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে মারামারি, ভিড়ের মধ্যে পড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে অ্যালকোহল বিষক্রিয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং নাক ও মুখে কাটা জখম নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array