খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

পাঁচ মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
পাঁচ মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন

বিগত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনই সরকারের গত পাঁচ মাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না এবং এ ধরনের অভিযোগের তদন্তে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা, সেগুলোর অনেকগুলোর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ বাহিনী নির্বাচিত সরকারের অধীনে কাজ করার সুযোগ পেলেও জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। অতীতের নানা ঘটনার কারণে জনগণের মধ্যে যে মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

একইসঙ্গে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সুযোগও দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যম এসব বিষয় তুলে ধরবে, সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা দেবেন এবং প্রয়োজন হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। এসব প্রক্রিয়াকেই তিনি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর বড় ধরনের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ফলে প্রত্যাশার চাপও সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছে।

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং মানবাধিকার সংগঠনের গুমের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না। অভিযোগটি যাচাই করা হবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।

বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও অতীতে গুমের শিকার ছিলেন। তাই সরকার গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি রাষ্ট্র যদি কাউকে গুম করে বা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটি আর প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্র থাকে না। তার মতে, রাষ্ট্রের কাজ আইনের শাসন নিশ্চিত করা, আইনবহির্ভূতভাবে কাউকে হত্যা বা গুম করা নয়।

তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানবাধিকার কমিশনের মতো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে সরকারের অগ্রাধিকার কম কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যেই রয়েছে। তথ্য কমিশনের জন্য আইনে নির্ধারিত নির্বাচন কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই কমিশন পুনর্গঠন হবে।

একইভাবে দুদক পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে চলছে। মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার হবে
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে পুলিশের গুলিতে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে চায়।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারের মতো ক্ষেত্রেও সবাইকে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিচার করা হয়েছে। একই নীতিতে যারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচার হবে। শুধু চাকরি থেকে অপসারণ নয়, আইনি বিচারও হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুরো পুলিশ বাহিনীকে অতীতের ঘটনার জন্য দায়ী করা উচিত নয়। যাদের ব্যক্তিগত অপরাধ রয়েছে, তাদের বিচার হবে। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী নুরের

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের প্রশাসনকে এখনো পুরোপুরি জনবান্ধব (প্রো-পিপল) হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনকে আরও সেবামুখী করতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা অফিস কিংবা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন।

তাই প্রশাসনকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত (টপ টু বটম) জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট করতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভিসা-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি দূর করতে বড় কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার।

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল ও বেতন গ্রেড উন্নীত করার দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান বাজারদর ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা জরুরি। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগে আটটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় লুটপাটের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ খুবই সামান্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সম্প্রতি সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা আত্মঘাতী। যেকোনো দাবি আদায়ে প্ররোচনায় পা না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং আলোচনার মাধ্যমে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
বিএনপির কপাল খারাপ সব সময় ধ্বংসস্তূপের ওপর ক্ষমতায় যায়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির কপাল খারাপ, সব সময় একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে। উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই ধ্বংসস্তূপ পায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন-এ টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত সরকার একটাও গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করেনি, আমদানি নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে খাতটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে এখন ঠিক করতেই সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের চর্চা নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র হলো মূলত এক ধরনের সংস্কৃতি। আমাদের চিন্তা ভাবনা ও চলাফেরার মধ্যে এর প্রতিফলন না থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

দেশে পরমতসহিষ্ণুতা বা ট্রলারেন্স বজায় রাখতে হবে। সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাদের কাজ করার সময়ও দিতে হবে। গণমাধ্যমকে তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করতে হবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সাংবাদিক মোস্তফা আকমল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক চাপ, ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ ও নজরদারির কারণে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের মুখপত্র না ভেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার বিবেচনা করা উচিত। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য রোধে জাতীয় পর্যায়ে সুসংহত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম কাঞ্চন, মাইটিভির প্রধান সম্পাদক মাহমুদ আল হাসান, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, আখতারুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর  ওই স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল  ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩)। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। নগরের সুফিয়ানের মোড়ে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য। তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কর্মরত আছেন। মেয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কারও বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল। ফল শোনার পর ওই শিক্ষার্থী শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তিনতলার ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়। এরপর সে পাশের আরেকটি ছয়তলা ভবনে যায়।

তারপর ছয়তলা ভবনের বারান্দা থেকে সে লাফ দেয়। পরে দ্রুতই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ঘটনাটি রেকর্ড আছে। এ নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই থানায় শুধু একটি অপমৃত্যুর মামলা করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। তখন তার মা এসে স্কুল থেকে নিয়ে যেত। সে কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা বুঝতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। সে তুলনামুলক ভাল ফলও করে। তার রোল নম্বর ৬১ হলেও ফলাফলে সে ৩০তম স্থান অর্জন করে।’

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রাতে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে  জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম।

আরএমপি’র পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে স্কুল চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেই সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে সেখান থেকে লাফ দেয়। শিক্ষার্থীর ভবনে ওঠা এবং নিচে পড়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ রয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আরএমপি বলেছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি