খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

পাঁচ মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
পাঁচ মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন

বিগত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনই সরকারের গত পাঁচ মাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না এবং এ ধরনের অভিযোগের তদন্তে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা, সেগুলোর অনেকগুলোর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ বাহিনী নির্বাচিত সরকারের অধীনে কাজ করার সুযোগ পেলেও জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। অতীতের নানা ঘটনার কারণে জনগণের মধ্যে যে মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

একইসঙ্গে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সুযোগও দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যম এসব বিষয় তুলে ধরবে, সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা দেবেন এবং প্রয়োজন হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। এসব প্রক্রিয়াকেই তিনি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর বড় ধরনের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ফলে প্রত্যাশার চাপও সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছে।

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং মানবাধিকার সংগঠনের গুমের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না। অভিযোগটি যাচাই করা হবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।

বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও অতীতে গুমের শিকার ছিলেন। তাই সরকার গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি রাষ্ট্র যদি কাউকে গুম করে বা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটি আর প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্র থাকে না। তার মতে, রাষ্ট্রের কাজ আইনের শাসন নিশ্চিত করা, আইনবহির্ভূতভাবে কাউকে হত্যা বা গুম করা নয়।

তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানবাধিকার কমিশনের মতো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে সরকারের অগ্রাধিকার কম কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যেই রয়েছে। তথ্য কমিশনের জন্য আইনে নির্ধারিত নির্বাচন কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই কমিশন পুনর্গঠন হবে।

একইভাবে দুদক পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে চলছে। মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার হবে
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে পুলিশের গুলিতে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে চায়।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারের মতো ক্ষেত্রেও সবাইকে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিচার করা হয়েছে। একই নীতিতে যারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচার হবে। শুধু চাকরি থেকে অপসারণ নয়, আইনি বিচারও হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুরো পুলিশ বাহিনীকে অতীতের ঘটনার জন্য দায়ী করা উচিত নয়। যাদের ব্যক্তিগত অপরাধ রয়েছে, তাদের বিচার হবে। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

তামিল সিনেমার আয়ের রেকর্ড ভাঙল রজনীকান্তের ‘জেলার ২’

বিনোদন ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
তামিল সিনেমার আয়ের রেকর্ড ভাঙল রজনীকান্তের ‘জেলার ২’

মুক্তির মাত্র ১১ দিনেই বিশ্বব্যাপী ৭১০ কোটি রুপির বেশি আয় করে বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমা ‘জেলার ২’। এর মধ্য দিয়ে আগের সর্বোচ্চ আয়কারী তামিল সিনেমা ‘২.০’-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে সিনেমাটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ‘জেলার ২’-এর আয় দাঁড়িয়েছে ৭১০ কোটি ৩৫ লাখ রুপি।

এর আগে সর্বোচ্চ আয়কারী তামিল সিনেমার রেকর্ড ছিল রজনীকান্ত ও অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘২.০’-এর দখলে। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৯১ কোটি রুপি আয় করেছিল। মুক্তির মাত্র ১১ দিনেই সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে ‘জেলার ২’।

বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে সিনেমাটির মোট আয় ৪৬৬ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। এর মধ্যে কর বাদে নিট আয় ৩৯৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি। ভারতের বাইরের বাজার থেকে এসেছে আরও ২৪৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহেও সিনেমাটির আয় ঊর্ধ্বমুখী। ২৫ অক্টোবর রোববার ভারতে সিনেমাটির নিট আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ রুপি। আগের দিন শনিবার আয় হয়েছিল ২৪ কোটি ১৫ লাখ রুপি। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে ফিরেছেন রজনীকান্ত। এতে আরও অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু, বিদ্যা বালান, মোহনলাল, শিবরাজকুমার ও জ্যাকি শ্রফ।

তামিল ভাষার পাশাপাশি তেলুগু, হিন্দি ও কন্নড় ভাষায়ও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। বিভিন্ন ভাষার দর্শকদের আগ্রহ বিশ্বব্যাপী এর আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগুন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগুন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ডিকাব লাউঞ্জের বইপুস্তকে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে উল্লেখ না থাকলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২১৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৯৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২১ জন, রংপুর বিভাগে ১১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল আরও ভয়াবহ। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।

চলতি বছরেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি