খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানে আবার বিধ্বংসী হামলা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ইরানে আবার বিধ্বংসী হামলা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে আবার বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গতকাল শনিবার রাত বা রোববারের মধ্যেই এই হামলা শুরু হতে পারে। হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

ব্যর্থ কূটনৈতিক চেষ্টার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব শক্তিশালী আঘাত হানব। একটা সময় গিয়ে তারা বাধ্য হয়ে বলবে, আমরা আর এটি সামলাতে পারছি না।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের একটি দ্রুত সমাপ্তি চাচ্ছে এবং সেজন্যই হামলার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতোমধ্যে ভারী বিমান হামলা চালানোর জন্য সামরিক শক্তি বিন্যস্ত করেছে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোয় টানা দুই সপ্তাহব্যাপী বিধ্বংসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাত ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করলে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা থাকায় ওয়াশিংটন কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ কিছুদিন আগেই ইরানের অর্থনৈতিক খাত ভেঙে দিতে জ্বালানি পরিকাঠামো ধ্বংস করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী উত্তেজনা ও ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব ছড়াতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার সকালে কুয়েতের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভি সমর্থিত সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি। তবে এই আক্রমণের দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। গতকাল শনিবার সংস্থাটি আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে থাকা অন্য একটি ট্যাঙ্কারের কাছাকাছি সমুদ্রে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক উলফগ্যাংক পুস্তাই আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কেবল ইরানের সেসব সামরিক সরঞ্জাম ও কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করতে পারে, যা দিয়ে তারা সমুদ্রে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ফলে এটি হামলার সংখ্যা কিছুটা কমাবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্রে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পারবে না।

এদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে এবং যে কোনো মূল্যে তারা তা বজায় রাখবে।

ট্রাম্পের গভীর হতাশা
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে থাকায় হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গভীর হতাশার মুখে পড়েছেন। একদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরে এসে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা পৌঁছে দিয়ে যুদ্ধ দ্রুত কমানোর তাগিদ দেন। রিয়াদের মতে, সংঘাত বাড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধসে পড়বে।

ঠিক তার উল্টো অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এই দুই প্রধান মিত্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান, ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং তেহরানের অনমনীয়তায় ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

কালের আলো/এসএকে

চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। এ সময় সংঘটিত হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এতে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর মূল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু এলাকা থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় গ্রহণের আংশিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে গেলেও এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তামাটে বা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।

পুরো চন্দ্রগ্রহণের প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে চাঁদের লালচে হয়ে ওঠার দৃশ্য তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হবে।

চন্দ্রগ্রহণ দেখতে সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুর সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল শিক্ষা চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বাংলাদেশে চীনা ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। চীনের পক্ষ থেকেও গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুয়াংডং প্রদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে গুয়াংডং সরকারের বৃত্তি পেয়েছেন ২০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে বলে সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। বাংলাদেশ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, দুর্যোগের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপাল সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি