খুঁজুন
                               
, ,
           

‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আগস্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আগস্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোথাও ব্যাগ যদি রেখে যায়, আমরা সতর্কতা হিসেবে সেগুলো দেখি। কেউ যদি কোনো ধ্বংসাত্মক কিছু করে, পরিকল্পনা থাকে, আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। গতকাল যে ব্যাগ পাওয়া গেছে, সেগুলোতে কিছুই ছিল না। এরআগে একটা প্রেসার কুকারে জিনিস পাওয়া গেছে আশুলিয়াতে। সেটার বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। মতিঝিলেও পাওয়া গেছে, সেটাও আলাদা তদন্ত হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা পরিসংখ্যান নিয়েছি, বিগত পাঁচ-ছয় মাসের এবং তার আগের। এখানে যে অপরাধ প্রবণতা বা কোথাও এরকম বোম রেখে যাওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখেছি। আনুপাতিক হারে তুলনামূলক বিচারে এটা খুবই কম। তবে আমাদের কাজ আছে, আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। পুলিশ বাহিনী সতর্ক থাকে এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট আমরা রেডি রাখি। কোথাও এরকম কোনো নাশকতার কোনো পরিকল্পনা কেউ করছে কিনা। তবে আমরা এখন পর্যন্ত যেটা দেখেছি, সেটা আমাদের এখনও বিপজ্জনক কোনো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না।

এসময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ পুলিশের ঊধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Oplus_131072

ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানিয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। এছাড়া আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

উপ প্রেস সচিব জানান, সভায় নৌপথ সচল করার পাশাপাশি কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

দাম বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
দাম বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ালো সরকার। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে ৭০ টাকা।

রোববার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি আগস্ট মাসের জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

ঘোষণা অনুযায়ী, গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৯৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৫২৮ টাকা।

নতুন এই দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ, প্রশংসা ও সমালোচনা। প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে ঘিরে নির্মিত এই সিরিজটি দর্শকদের দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

কারও কাছে এটি অসমাপ্ত ভালোবাসার এক আবেগঘন গল্প, আবার কারও মতে এটি নতুন সম্পর্কে থেকেও অতীতের প্রেমকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক নির্মম বাস্তবতা, যা মানসিক প্রতারণার শামিল। ফলে সিরিজটি নিয়ে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

‘মুসাফির ক্যাফে’র গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি চরিত্র—চন্দর, সুধা এবং প্রীতি।

ক্যারিয়ার ও নিজের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে চন্দরকে ছেড়ে চলে যায় সুধা। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে যায়, আর চন্দরের জীবনে আসে প্রীতি। নতুন সম্পর্ক শুরু হলেও অতীতের ভালোবাসার স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে না চন্দর। বর্তমান ও অতীতের এই মানসিক দ্বন্দ্বই সিরিজটির মূল চালিকাশক্তি।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের দর্শকের দাবি, অতীতকে ভুলতে না পেরে নতুন সম্পর্কে জড়ানো প্রীতির প্রতি অন্যায়। তাঁদের মতে, একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে এখনো আগের সম্পর্কে আটকে থাকেন, তাহলে নতুন সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়।

অনেকেই চন্দরের আচরণকে ‘ইমোশনাল চিটিং’ বা মানসিক প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, ভালোবাসা শুধু সম্পর্কের নাম নয়; এটি একজন মানুষের প্রতি পূর্ণ মানসিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

অন্যদিকে আরেকটি বড় অংশের দর্শকের মতে, প্রথম ভালোবাসা সব সময় সহজে ভোলা যায় না। বাস্তব জীবনেও অনেক মানুষ নতুন সম্পর্কে জড়িয়েও অতীতের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না। তাই চন্দরের চরিত্র তাঁদের কাছে বাস্তবসম্মত এবং মানবিক।

শুধু চন্দর নয়, বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুধা চরিত্রটিও।

একদল দর্শকের মতে, নিজের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক ছেড়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে পুরোনো সম্পর্কের সমাপ্তি টানতে চাওয়া কিংবা নতুন করে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা অন্যদের জীবনে অযথা জটিলতা তৈরি করে।

তবে অন্যদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, একজন নারীর নিজের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। জীবনের একটি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বদলাতেই পারে, আর সেটিই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

সিরিজটির একটি বিশেষ দৃশ্য ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই দৃশ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক দর্শক জুতা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকে একই দৃশ্যকে ভালোবাসার গভীর আবেগ এবং বাস্তব জীবনের জটিল অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে একই দৃশ্য একজনের কাছে বিরক্তিকর মনে হলেও অন্য একজনের কাছে সেটিই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির ভিত্তিতেই কোনো গল্প বা চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন। ফলে একই গল্প ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করাটা খুবই স্বাভাবিক।

‘মুসাফির ক্যাফে’ ঠিক সেই জায়গাতেই দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করেছে। কে ঠিক, কে ভুল—তার নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সিরিজটি সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকে দর্শকের বিচারেই ছেড়ে দিয়েছে।

বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মাহিমা মাকওয়ানার অভিনয়ে নির্মিত সিরিজটির প্রথম মৌসুম শেষ হলেও গল্পের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

চন্দর শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? সে কি অতীতের ভালোবাসার কাছে ফিরে যাবে, নাকি বর্তমানকে গ্রহণ করবে? নাকি কোনো সম্পর্কেই নিজেকে খুঁজে পাবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন দ্বিতীয় মৌসুমের অপেক্ষায় দর্শকরা।

প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মুসাফির ক্যাফে’ কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়; এটি এমন একটি গল্প, যা দর্শকদের নিজেদের সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং অনুভূতি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই এটি হয়ে উঠেছে বছরের অন্যতম আলোচিত ওয়েব সিরিজ।

কালের আলো/এসএ