প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরে যুবরাজের আমন্ত্রণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। একইসাথে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকেও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা জানান।
এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এল খেরেজি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেছেন।
বৈঠকের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকারটি এখন প্রতিষ্ঠিত, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকার সম্পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছে। অত্যন্ত সফল এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। ফিশারিজ, ফুড, এনার্জি, রিনিউয়েবল এনার্জি, সোলার এনার্জি, আইটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এ ধরনের বিভিন্ন সেক্টরে তাদের যে দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সৌদি সরকার বাংলাদেশে ইনভেস্ট করতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের বহু নাগরিক সৌদি আরবে থাকেন। যুদ্ধের সময় আমাদের তিনজন নাগরিক সেখানে নিহত হয়েছেন, তাদের কথা প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতার কারণে আমরা আমাদের ভাইদের যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের দেশে
ফেরত আনতে পেরেছি, এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। পাশাপাশি, তারা আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এ নিয়েও কথা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং আমরাও ওনাদের ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে একটি জয়েন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমাদের বিডা চেয়ারম্যানসহ অনেকে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে এ বছরই একটি পলিটিক্যাল কনসালটেশন মিটিং এবং একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এই যোগাযোগ ও আদান-প্রদান চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, অবশ্যই এই সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। প্রতিনিধি দল আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও উন্নত অবস্থায় যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই এই ভিজিটগুলো হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, দেখুন, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কনসুলার ইস্যুগুলো সব দেশেই প্রায় একই ধরনের সমস্যা। এই সমস্যাগুলো এখানে খুব একটা বিবেচ্য বা আলোচনার বিষয় ছিল না। তবে এই সমস্যাগুলো সমাধানে জেদ্দা ও রিয়াদে আমাদের বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কাজ করছে। এই কাজ চলমান আছে।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাসপোর্ট ইস্যু যারা দেখেন, তাদের টেকনিক্যাল টিম এবং সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রির টেকনিক্যাল টিম বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়, আমাদের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এর সমাধান করছে।
সৌদি প্রতিনিধি দলের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তারা বারবার একটি কথাই বলেছেন, আমরা শুধু একটি সেক্টরে থাকতে চাই না, আমরা অনেকগুলো সেক্টরে বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে চাই। সেই জায়গাতেই তারা আজ প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আজ রাতেই তারা চলে যাবেন।
সোমবার রাতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এল খেরেজি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি



আপনার মতামত লিখুন
Array