খুঁজুন
                               
, ,
           

তারা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন রাজপথে দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
তারা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন রাজপথে দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে তাদের অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচারণার জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘তারা বলে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, দেশে আসেন।

ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা তো আওয়ামী লীগ হতে পারবো না, হতেও চাই না। তাদের দেখেন, কোনো অনুশোচনা নাই।

এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—এতে তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না! আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে।

দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে। ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটা যুদ্ধ করব।’

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সরকারের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছে, সেইসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। যারা আহত, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে, অঙ্গ হারিয়েছে, তাদের সুস্থ করে তোলা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। যারা জীবন দিয়ে গেছে ১৯৭১ সালেতারাও কিছু পায় নাই। আপনারাও হয়তো যা প্রাপ্য তা পাবেন না, কিন্তু এই সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই সম্মান পাবেন। গরিব দেশের যতটুকু সাধ্য আছে, সবকিছু উজাড় করে দেবো আপনাদের কল্যাণের জন্যে।’

গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘৭১-এর জনযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। একইভাবে জুলাইয়ের এই যুদ্ধও ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে। কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি, আমরা কি নির্বাচনের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছি নাকি? নির্বাচন তো গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ।

এই দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিনই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্র কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়।’

তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যাত্রাপথ সহজ নয়। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য, সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো বিভাজন বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’

বিশৃঙ্খলায় ক্ষোভ প্রকাশ রাষ্ট্রপতি
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারিতে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকার অভিযোগে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে।

আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও নাই। কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করে বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর তো শান্ত হওয়া উচিত। জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।’

বিশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু এখানে যে দৃশ্য দেখলাম, সেটি দেখে অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত এবং ব্যথিত হয়েছি। সকালে জাতীয় ঐক্য সহজেই প্রতিভাত হয়েছিল।

কিন্তু বিকেলের এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা একেবারেই অনভিপ্রেত। এখানে বিদেশিরা বসা ছিলেন, আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে ইংরেজিতেই ভাষণ দেবো, বিদেশিরা দেখুক ১৬ বছর আমরা কীভাবে কাটিয়েছি। জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না। বিদেশিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে।’

নেতা ও অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো সহজে অনুসারীরা মানে না।

প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণের জন্য মুখিয়ে থাকে। সেই কারণেই এই ধরনের একটা অনুষ্ঠানের এই পরিণতি হলো। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কেউ ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে, এগুলো কি মানায়? কবে আমরা শিখবো?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

বিশ্ব বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে সোনি পিকচার্স ও মার্ভেল স্টুডিওসের নতুন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ড অভিনীত এই সুপারহিরো চলচ্চিত্রটি মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র ব্যবসার ইতিহাসে এত অল্প সময়ে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের নজির এর আগে কেবল ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছিল। এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় প্রায় ৯৩২ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

টম হল্যান্ডের একক স্পাইডার-ম্যান সিরিজের চতুর্থ কিস্তি এবং মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (এমসিইউ)-এর ৩৮তম চলচ্চিত্রটির সাফল্যে উচ্ছ্বসিত নির্মাতারা। মার্ভেল স্টুডিওসের প্রেসিডেন্ট ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি ভ্যারাইটিকে বলেন, “আমি সত্যিই আশা করিনি যে ‘এন্ডগেম’-এর রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। আমাদের সিনেমাটি সেই জায়গায় পৌঁছেছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সোমবার সকালে এমন এক অর্জনের মুখোমুখি হওয়াটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি।”

চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক সপ্তাহে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা মুক্তি না থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ খুব দ্রুতই ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার আগেই এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থান দখল করবে বলেও আলোচনা চলছে।

কালের আলো/এসএ

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি

আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় না। তারাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে আমি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি বিভেদ সৃষ্টি না করতে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না, যেখান থেকে আপনাদের পতন শুরু হবে। গতকাল দেশের তিনটি জায়গায় যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটিই প্রমাণ করে আপনার দলের ভেতরেই এমন লোক রয়েছে, যারা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার চারপাশেই অবস্থান করছে। আপনার দলের ভেতরে যারা দালাল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করুন। আমাদের কাছ থেকে আপনার কোনো বিপদ নেই, বিপদ আপনার নিজের ঘরের দালালদের কাছ থেকেই আসবে।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করেছিলেন। তাহলে কি বেগম জিয়া রাজাকার ছিলেন? বিএনপি কি রাজাকার ছিল?’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। আবার ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভায় জামায়াতের নেতারা ছিলেন। আমি কিন্তু সেই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলাম না। তাহলে সেটিকে কি রাজাকারের মন্ত্রিসভা বলা হবে?’

কর্নেল অলি বলেন, ‘আমি জামায়াতে যোগদান করিনি। আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই, বিদেশি প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এতে কারও অস্বস্তি হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।’

তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করে শাসনের রাজনীতি এ দেশের জন্য নয়। আমরা সুশাসন চাই, ন্যায়বিচার চাই এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং বিদেশি প্রভাব থেকে বাংলাদেশ মুক্ত থাকুক।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষ একসময় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু পরে বিএনপি বলেছে, তারা এই সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এরপরও আমরা মনে করি, জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে পুরো জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করুন, দেশটিকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। সেই সহযোগিতা হবে সমতার ভিত্তিতে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে কর্নেল অলি বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, রাজধানীর সড়ক হকারদের দখলে চলে গেছে। আপনারা যদি নিজেদের দলের হকারদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে ১৮ কোটি মানুষকে কীভাবে সামলাবেন? আগে ঢাকা শহর পরিষ্কার করুন, তারপর মানুষ বিশ্বাস করবে যে আপনারা সত্যিই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ইরানের দিকে তাকান। তারা ঈমানের শক্তিতে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, ঈমানের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায় না। বেইমান ও মুনাফেকদের দিয়ে দেশের কখনো মঙ্গল হবে না।’

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐক্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি নিয়ে বক্তব্য দেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘রামলীলা’র আগে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গালাগাল দিয়েছিলেন দীপিকা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
‘রামলীলা’র আগে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গালাগাল দিয়েছিলেন দীপিকা

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন মানেই মার্জিত ব্যক্তিত্ব ও স্নিগ্ধ উপস্থিতি। তবে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’ ছবির শুটিং শুরুর আগে চরিত্রের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজের স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি অনুশীলন করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী ও অভিনয় প্রশিক্ষক জয়তী ভাটিয়া।

জয়তী ভাটিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাম-লীলা’ ছবিতে অভিনয়ের আগে দীপিকাকে চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। উদ্দেশ্য ছিল অভিনেত্রীর স্বাভাবিক লাজুক ও সংযত ব্যক্তিত্বের গণ্ডি ভেঙে তাকে আরও সাহসী ও স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলা। এ জন্য পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির নির্দেশনায় সাত দিনের একটি বিশেষ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

ওয়ার্কশপের একটি অনুশীলনে দীপিকাকে বানসালির অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের সংকোচ না রেখে জোরে জোরে গালাগাল দিতে বলা হয়। জয়তী জানান, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে দীপিকা নিজেকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেন।

জয়তী ভাটিয়া বলেন, “আমি যেখানে থামতে বলেছিলাম, দীপিকা সেখানে থামেনি। এমন সব গালাগাল দিতে শুরু করেছিল, যা আমি জীবনে কখনো শুনিনি। মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিনের জমে থাকা সব ক্ষোভ এক মুহূর্তে বেরিয়ে এসেছে। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।”

তিনি আরও জানান, ওয়ার্কশপ চলাকালেই তার মনে হয়েছিল ‘ককটেল’ ছবির সাফল্যের পর দীপিকা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক হয়ে উঠেছেন। তাই নির্ধারিত সাত দিনের পরিবর্তে চার দিনেই প্রশিক্ষণ শেষ করে শুটিং শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি।

জয়তী ভাটিয়া আরও দাবি করেন, ওই সময় দীপিকা ব্যক্তিগত জীবনে তীব্র মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেশন)-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সেই কঠিন সময়ের কোনো প্রভাব তিনি কাজের জায়গায় পড়তে দেননি। বরং পুরো শুটিংজুড়েই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই বলিউড তারকা।

কালের আলো/এসএ