খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধস, টেস্টের আগে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন সিমন্স

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ধস, টেস্টের আগে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন সিমন্স

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ফিফটি পেরোতে পেরেছেন শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস নেই।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ডারউইনে তৃতীয় দিন শুরু করার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৯ রান। সেখান থেকে মাত্র ১৬ ওভারের মধ্যেই বাকি আট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় দল।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন থম্পসন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই বোলার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ১০ উইকেটের আটটিই তুলে নেন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

দুই টেস্টের সিরিজ শুরুর ঠিক আগে এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যাটিং দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ শেষে বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

সিমন্স বলেন, প্রস্তুতি ম্যাচে কয়েকটি ইতিবাচক দিক থাকলেও ব্যাট হাতে বাংলাদেশ নিজেদের হতাশ করেছে। বিশেষ করে যেভাবে ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন, সেটি মোটেও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন তিনি।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন কোচ। তাঁর বিশ্বাস, প্রথম টেস্টের আগে হাতে থাকা তিন দিনে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সিমন্সের ভাষায়, টেস্ট ক্রিকেটে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য দলের হাতে আরও কয়েকটি দিন রয়েছে। খেলোয়াড়দের ওপর তাঁর আস্থা আছে এবং এই সময়ের মধ্যে তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে পারবেন বলেও আশা করছেন তিনি।

প্রস্তুতি ম্যাচের ফল হতাশাজনক হলেও সেটিকে পেছনে ফেলে টেস্ট সিরিজে মনোযোগ দিতে চান সিমন্স। তাঁর মতে, এটি ছিল হতাশার একটি ম্যাচ, কিন্তু এখন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে তাকানোর সময়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার ডারউইনে। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, মূল লড়াইয়ের আগে সেটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিরাজের সেঞ্চুরি কিছুটা স্বস্তি দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ভালো করতে হলে শুধু একজনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দলের টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদেরই এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িত: ডিইউজে সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িত: ডিইউজে সভাপতি

বাংলাদেশের প্রতিটি উন্নয়ন ও অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মুসলিম লীগের সমৃদ্ধ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

উপমহাদেশের উত্থান-পতনের ইতিহাস গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাসের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব আকরাম খাঁ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৫১তম পুনর্গঠন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি জুবেইদা কাদের চৌধুরী।

শহিদুল ইসলাম বলেন, মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০৬ সালে।

পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মানুষ। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের আনুগত্য থাকবে। স্বাধীনতার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি—এটা যেমন সত্য, তেমনি ইতিহাসের কোনো অধ্যায়কে অস্বীকার করাও ঠিক নয়। পাকিস্তান আমলে এ অঞ্চলে যেসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোর ধারাবাহিকতা পরবর্তী সময়েও দেখা গেছে।

ডিইউজে সভাপতি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। তাই ইতিহাসকে কোনো একটি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে না দেখে সামগ্রিকভাবে জানা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

মুসলিম লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইস্যুতে হীনমন্যতায় না ভুগে সংগঠনটির ইতিবাচক ভূমিকা ও ঐতিহাসিক অবদান সামনে আনতে হবে। বাংলাদেশের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ততা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম লীগ যদি এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে এবং জনগণের প্রত্যাশা ও স্বাধীন চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যায়, তাহলে সংগঠনটি আবারও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

শহিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে মুসলিম লীগ আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হবে এবং এ দেশের মানুষের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের আগে ও পরের সময়ে মুসলিম লীগের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসকে সম্মান করতে হবে। ভারতকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের স্বার্থে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।

তিনি ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থ যেন অন্য দেশে চলে না যায়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আমার নেতারা আমাদের টাকায় চিকিৎসা করেন, আর গরিব মানুষ ওষুধ কিনতে পারে না, এটা হতে পারে না। আমাদের সবার জন্য কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন মতিন চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ে আমরা যারা এই আন্দোলনে ছিলাম, আমাদের মধ্যে ফাটল ধরেছে। আমি বলব, ফাটল বন্ধ করুন। এই ফাটলের ভেতরে অন্যরা ঢুকে পড়বে, অনুপ্রবেশকারীরা সুযোগ নেবে।

সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের কী অবস্থা ছিল, তা সবাই জানেন। বর্তমান সরকার দেশ সংস্কার করে সুন্দর পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য সময় দিতে হবে। সময় লাগবে, সময় দিতে হবে আমাদের সকলকে। সময় না দিয়ে আমরা কি যুদ্ধ করব? দেশটাকে অন্য সরকারের হাতে তুলে দেব—সেটি সম্ভব নয়।

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্মান নিয়ে থাকতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যাতে তারা জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যান। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। আপনারা নতুন সরকারকে সময় না দিয়ে শুধু সমালোচনা করবেন, তার উল্টো কথা বলবেন—এটা ঠিক নয়।

বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের বয়সের চেয়ে ছোট একজন মানুষ আজ দেশ পরিচালনা করছেন। আগামীতে তিনি সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করবেন—এটা নিয়ে সবার গর্ব করা উচিত।

সব রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে সমালোচনা করা যাবে, তবে দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

সেবার মানসিকতা না থাকলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বে কোনো ধরনের প্রভাব না ফেলে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের উদ্দেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসকদের মূল দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রোগীর প্রতি দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও তা যেন পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি খাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দল-মতের বিবেচনা করা হবে না। নদীর ভাঙনে মানুষ যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক, তাদের নিরাপত্তা ও বসতভিটা রক্ষাই সরকারের দায়িত্ব।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে একথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নদীভাঙন একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

শুধু তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো নয়, নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কুড়িগ্রামের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-স্থায়ী ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা-নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

পরে তিনি চিলমারীর বাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় নদীর ভাঙন, বাঁধের অবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।

এ সময় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি