ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল এনেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নতুন এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ ফোর্সের শীর্ষ পদে ছয়জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই সামরিক বিন্যাসে মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমারস হায়দারিকে তার ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে আহমদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির নতুন সর্বাধিনায়ক এবং মোস্তফা ইজাদিকে তার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমায়ীকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাসিজ বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা হোসেইন তাইব। সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণকারী এই বাসিজ ফোর্সের নেতৃত্বে হোসেইন তাইবের প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের সামরিক শীর্ষ পদে নতুনভাবে দায়িত্ব পাওয়া এই ছয় কমান্ডারকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা তাদের ওপর যেভাবে আস্থা প্রকাশ করেছেন, তা জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার দীর্ঘদিনের কাজেরই স্বীকৃতি।
তিনি আরও জানান, দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নতুন কমান্ডারদের মেধা ও বহু বছরের সামরিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্মরণ করিয়ে দেন যে সাম্প্রতিককালে দেশটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া দুটি যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখেও এই কমান্ডাররা সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। তারা দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন দায়িত্ব পালনে এবং শত্রুর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে তাদের সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করেন তিনি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হতাহতের প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন কমান্ডের এই রদবদল ইরানের সামরিক শক্তিকে আরও সুসংহত করবে। বিশেষ করে কৌশলগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই পদায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন সংকট সামাল দিতে সামরিক বাহিনীর খালি থাকা পদগুলোতে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব বসানো হলো। এর মাধ্যমে তেহরান তাদের সামরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
কালের আলো/এসএকে
আপনার মতামত লিখুন
Array