খুঁজুন
                               
, ,
           

আদিবাসী পরিচয়কে বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
আদিবাসী পরিচয়কে বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আদিবাসী পরিচয়কে বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের সব জনগণই বাংলাদেশি। তাই কাউকে আদিবাসী পরিচয়ের বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই।’

দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘সকল ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি ও ভাষাভাষীর মানুষ আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরি সমান এবং এই পরিচয়েই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঞ্চলে অতীতে যেমন ভিনদেশি উস্কানি ছিল, তেমনি এখনো বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত ও আশপাশের অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নিজেদের স্বার্থে ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করছে। তবে এই ভূখণ্ডের ঐতিহ্য বহুকালের। লক্ষণ সেন বা পাল বংশের বহু আগে থেকেই এ দেশের মানুষ নিজস্ব আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র ও আধুনিক নেশন স্টেট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এ দেশের নিজস্ব জাতিসত্তা বহুকালের পুরনো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন নদী অববাহিকায় বাস করলাম, আর কেন আরেকজন পাহাড়ি উপত্যকায় বাস করল, তার ওপর ভিত্তি করে কোনো নেশন স্টেট হতে পারে না। তাই আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী হবো, আদিবাসী কেউ হবো না।’

জুলাই চার্টার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই চার্টারে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সবাই স্বাক্ষর করেছে। দলগুলোর মধ্যে যেসব দফায় কোনো দ্বিমত বা নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরের সকল নাগরিকের মূল পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর ভাষা, যা আগামী অষ্টম সংশোধনীতেও নিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও অঙ্গীকার রয়েছে।’

এসময় মন্ত্রী সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের সাংবিধানিক পরিচয় হবে বাংলাদেশি এবং কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের পেছনে না ছুটে দেশের সবাইকে আদিবাসী না হয়ে অধিবাসী হতে হবে।’

একইসঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে সৃষ্ট ঐতিহাসিক বিভেদ ও ষড়যন্ত্রের পেছনে ভিনদেশি উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক মহলের স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেস অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশের জননীতিকে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না। কারও পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশের সব জনগণ সমান। বাংলাদেশে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই।’

এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সিএইচটি রিসার্স ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আহমেদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, ড. হাসাহাব এনাম খান, লে.জে. (অব) আবদুল্লাহিল আযমী, ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাশেদ খান, লে. (অব) জেনারেল মাফফুজুর রহমান, ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও ড. মাহমুদ পারভেজ প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাহজালালে ৩ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
শাহজালালে ৩ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ১৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সি-শিফট। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকা।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দিল্লি থেকে ঢাকায় আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালিয়ে এসব মদ জব্দ করা হয়।

সিআইআইডি সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটটির সন্দেহভাজন যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রশান্ত লাল দাস নামে এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে ১০ লিটার জনি ওয়াকার রেড লেবেল ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাগেজ তল্লাশি করে স্কটিশ লিডার ও গ্র্যান্টস ব্র্যান্ডের আরও ৫ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়।

সিআইআইডি জানায়, দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে উদ্ধার করা বিদেশি মদের মোট পরিমাণ ১৫ লিটার। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাগেজের ওপর নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী ও ফ্লাইটে বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিল্লি ফেরত ফ্লাইটটির দুই যাত্রীর ব্যাগেজে বিদেশি মদের সন্ধান পাওয়া যায়।

বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি মদসহ বিভিন্ন পণ্য আনা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সিআইআইডির গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

সরকারের নতুন নির্দেশনা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাট বন্ধের সময় এক ঘণ্টা কমল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাট বন্ধের সময় এক ঘণ্টা কমল

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এর আগে গত ১১ জুন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা বন্ধ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্দেশনাটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা দোকান মালিক সমিতিকেও সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন সানায়ে তাকাইচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন সানায়ে তাকাইচি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন জাপানের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু।

এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগ-বি উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইপিএ, বিগ-বি উদ্যোগ এবং অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল জাহাজ হস্তান্তরের বিষয়টিকেও স্বাগত জানায় জাপান।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রস্তাবিত ইপিএ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক ও আর্থ-সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালে টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান ফরেন অফিস কনসালটেশনের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি