খুঁজুন
                               
, ,
           

ড্রাইভিং টেস্ট পাসের পর দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
ড্রাইভিং টেস্ট পাসের পর দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের পোস্ট

Oplus_131072

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনেক সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তবে ডিজিটাল সেবা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে—বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে করা এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে তিনি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা লেখেন, ‘গত সপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবার বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি।’

তিনি লেখেন, ‘এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে, আর সেই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।’

‘অনেক তরুণ বাংলাদেশির, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।’ —ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার জাইমা।

তিনি আরও লেখেন, পথচারী হিসেবে আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়, এমন ফুটপাত ধরে হাঁটতে হয় যেটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় কিংবা দখল হয়ে থাকে, আর পথ করে নিতে হয় বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেট কারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে, যেগুলোর প্রত্যেকটি চলছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।

প্রধানমন্ত্রী কন্যা পোস্টে লেখেন, যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কিনা, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কিনা, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কিনা, কোনো কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।

আর নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরেক দফা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি? এভাবে প্রশ্ন চলতেই থাকে।

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আরও লেখেন, বিআরটিএ তার অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু ডিজিটাল করা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে।

তিনি লেখেন, অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করে। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটিরই সুযোগ নেয়। মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।

একই সমস্যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও। লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সব নিয়ম করতে পারে। কিন্তু নিয়ম যদি বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?

দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা তাই কেবল অন্যায়টি ঘটা নয়, সেটির প্রতিকার কীভাবে হয়, সেটিও। অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি দাঁড়ায়: ‘কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।’ আর এই ভাবে ব্যাপারটি চলতেই থাকে।

জাইমা লেখেন, এ কারণেই সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স আর শাস্তির বিষয় হতে পারে না। এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।

ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে। নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর তাতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগই তৈরি হবে।

এসব কথা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণেরা বছরের পর বছর কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।

তাই প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে ‘সড়ক নিরাপদ নয়’। প্রশ্নটি বরং এই: ‘সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?’

আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে ‘নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’

আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত:
‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করবো যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?’
‘আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?’
‘কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি?’
‘এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?’

পোস্টের শেষে জাইমা রহমান লেখেন, পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।

কালের আলো/এসএকে

আফগানিস্তানে পাঁচ বছরে শিক্ষা বঞ্চিত ২৪ লাখ মেয়ে: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানে পাঁচ বছরে শিক্ষা বঞ্চিত ২৪ লাখ মেয়ে: জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত পাঁচ বছরে আনুমানিক ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা— ইউনেস্কো।

তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পঞ্চম বার্ষিকীর আগে বুধবার এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো বলেছে, আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যেখানে মেয়ে ও নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা আরও ২ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি বলেছে, এই পরিস্থিতি আফগানিস্তানকে কয়েক দশক ধরে সম্ভাবনা হারানোর, আরও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়ার এবং অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলছে।

ইউনেস্কো হিসাব অনুযায়ী, নারীদের শিক্ষকতা পেশায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগান শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১১ হাজাররের বেশি দক্ষ নারী শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হবে।

এছাড়াও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০৬৬ সালের মধ্যে ছয় লাখ আফগান নারী শ্রমশক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। এর ফলে মোট ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্ষতি হতে পারে এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পর ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এলে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার আশ্বস্ত করেছিল যে নারীরা অবাধে স্কুলে যেতে এবং শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।

‘ইসলামি আইন’ এবং ‘আফগান সংস্কৃতি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারীদের অধিকারকে সম্মান করে বলেও জানায় তারা। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও নিষিদ্ধ করা হয়।

যদিও তালেবান উভয় নিষেধাজ্ঞাকেই সাময়িক বলে বর্ণনা করেছিল, কিন্তু সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে এবং গত ৫ বছরেও তারা এই উপযুক্ত পরিবেশের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেনি।

জাতিসংঘ এবং ওআইসি-সহ বিশ্বের প্রধান মুসলিম দেশগুলো বারবার স্পষ্ট করেছে যে, ইসলামে নারী শিক্ষার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার কট্টরপন্থার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

Oplus_131072

হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও এ বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।

এবছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ বার্নিং দ্যা ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস্’ এবং এর বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি।’ দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিযায়ী বন্য হাতির সংখ্যা ৯৩ এবং পোষা হাতির সংখ্যা ৯৬। আগামী বছরের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যা (২০১৮-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নিহত ৩২২ ব্যক্তির পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩,২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু আমাদের দেশেই নয় বরং সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে কতটা লাভ হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা যায় না। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্ষ্ঠুানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রাশীদ।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পর্যটন, মানবসম্পদ ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা  বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মালদ্বীপে বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের জন্য অনুরোধ করেন।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসএকে