খুঁজুন
                               
, ,
           

৮০ টাকার গ্যাস পেতে ১২ ঘণ্টার অপেক্ষা, মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
৮০ টাকার গ্যাস পেতে ১২ ঘণ্টার অপেক্ষা, মহাসড়ক অবরোধ

চাহিদামতো সিএনজি গ্যাস সরবরাহ এবং জামালপুরে আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশা চালকরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে জামালপুর শহরের বাইপাস এলাকায় জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কে ছোট-বড় ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চালকদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকটের কারণে তারা চাহিদামতো সিএনজি গ্যাস পাচ্ছেন না। প্রতিদিন একটি অটোরিকশায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হলেও অনেক চালক ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি গ্যাস পাচ্ছেন না। এর জন্য তাদের ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জামালপুর জেলায় বর্তমানে একটি মাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার চালকদের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে এসে গ্যাস নিতে হয়। চালকদের দাবি, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে অল্প পরিমাণ গ্যাস পাওয়ায় বাড়ি থেকে পাম্পে আসা-যাওয়ার খরচেই সেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। ফলে তারা গাড়ি চালিয়ে আয় করতে পারছেন না।

অটোরিকশা চালক আকাশ বলেন, তার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জে। সেখান থেকে জামালপুরে গ্যাস নিতে আসেন তিনি। তার গাড়িতে প্রায় ৫০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হলেও ফিলিং স্টেশনে এসে ৮০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস পান। এত কম গ্যাসে বাড়ি থেকে পাম্পে আসা এবং বাড়ি ফেরার পথেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। ফলে ভাড়া মারার সুযোগ থাকে না।

চালকরা জাবেদ ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ এবং জামালপুরে আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুল রহমান বাবর বলেন, ফিলিং স্টেশনের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই। তাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যতক্ষণ গ্যাস সরবরাহ থাকে, ততক্ষণ তারা চালকদের গ্যাস দিয়ে থাকেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া ইউনিক রোড রয়েলসের (এনকে ট্রাভেলস) একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন আমনুরা রেলজংশনের প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০০৮৭। বাসটির মালিক নরেন সরকার (৫২)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার শ্রীপদ সরকারের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বাসটি শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে বাসটি নওগাঁ থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে ফিরে আসে।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি পরিষ্কার করে খানকার মোড় এলাকায় নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রাগামী সড়কের পাশে মালিকের নিজস্ব গ্যারেজের সামনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

পরদিন ১১ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে বাসটির বদলি সুপারভাইজার মো. জালাল উদ্দিন গ্যারেজের সামনে গিয়ে বাসটি দেখতে না পেয়ে মালিককে জানান। পরে মালিক ও গ্যারেজের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাসটির সন্ধান পাননি।

ধারণা করা হচ্ছে, ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১১ আগস্ট সকাল ৭টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাসটি চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাসের মালিক নরেন সরকার শাহমখদুম থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে ১২ আগস্ট শাহমখদুম থানায় মামলা নম্বর-০৯ এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে চুরি হওয়া বাসটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে বৃহস্পতিবার ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটি শাহমখদুম থানা হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। বাসটি কীভাবে চুরি করা হয়েছিল এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ অনেকটাই সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাংলাদেশকে বারবার জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদ দ্রুত কমে আসছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বালানি খাতে দেশের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর মূল প্রবন্ধে জানান, গত ১১ আগস্টের হিসাবে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫৭ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সিপিডি বলছে, গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস এবং পরিবহন খাতে গ্যাসের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

সংকট মোকাবিলায় অফিস ও ব্যাংকিং সময় কমানো, আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে স্থানান্তর এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির মতো সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এলএনজি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, এলএনজি টার্মিনাল ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়া মেধাবী তরুণ মো. নাজমুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নাজমুল হাসানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তার হাতে অনুদান তুলে দেন।

এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি একজন তরুণের স্বপ্ন ও মেধার প্রতি আস্থারও প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।

সম্প্রতি তিনি সুইডেনের University of Skövde থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। তবে বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের জন্য কঠিন ছিল। এ সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা তার স্বপ্নযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাজমুল এখন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে। তার এই পথচলা হাজারো স্বপ্নবান তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এসএকে