খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী

দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আর হয়রানির শিকার হতে দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামি মুক্ত হতে ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।

প্রযুক্তিবান্ধব বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের প্রথম পাইলটিং চালুর পর এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ ৭টি জেলায় উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তিন ধাপে ১৬টি জেলায় চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

এ নিয়ে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। আমরা আশা করছি এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো।

মামলাজট নিরসনে বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর একটি ছোট মামলা ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধের আসামিরাও অনেক সময় পার পেয়ে যায়।

মামলা কমানোর বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হবে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।

এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি