খুঁজুন
                               
, ,
           

গোয়েন্দা ব্যর্থতায় ভুল হিসাব কষছে যুক্তরাষ্ট্র: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গোয়েন্দা ব্যর্থতায় ভুল হিসাব কষছে যুক্তরাষ্ট্র: আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, দুর্বল ও মনগড়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ভুল হিসাব কষে আসছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবার আরও বড় ধরনের কৌশলগত ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে সতর্ক বরেছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘ভুয়া খবরের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর ও ভয়ংকর হলো ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য, সতর্ক থাকুন।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ভুল হিসাবের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর বিষয়টিকে উল্লেখ করেন। তেহরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভুল ধারণা ছিল।

আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ‘এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের ভুল হিসাব বা মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে’।

পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আল্লাহ মহান, পৃথিবীর সকল শক্তির ঊর্ধ্বে। আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি’।

মূলত, হরমুজ প্রণালি বকর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচির পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা এলো।

এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখব। আমাদের নৌ অবরোধকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলছে। আর ইরানের এ বিষয়ে কিছুই করার নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির অবশিষ্ট সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ার আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি ও শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

আইআরজিসির অন্যতম মুখপাত্র এবং আধা সামরিক বাসিজ বাহিনীর প্রধান হোসাইন তায়েব বলেছেন, ‘পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে যুদ্ধে নেমে জব্দ হওয়ার পর এখন হরমুজ প্রণালিকে ইস্যু করে ফের সংঘাত শুরু করতে চাইছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানের কোনো বিমান বাহিনী বা নৌবাহিনী নেই, তারপরও যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। এখন তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। তবে হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সংশয় ও সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সংশয় ও সম্ভাবনা

আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ বললেও অন্যদের মতে, আলাপ-আলোচনা ঠিকমত এগোলে সফরটি এখনও সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছেন।

হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য হচ্ছে-‘আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো? আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।’

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার বলছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

যদিও ভারতীয় হাই কমিশনারের এই বার্তার মধ্যে ভারতের দিক থেকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। বৈঠক করার পরে যে ধরনের কথাবার্তা বলেছেন, এটা দেখে মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে যে, তারা চাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই ব্রিকস সম্মেলনে যান। এবং এরপর তাদের ‘র’ প্রধান এসেছিলেন, তিনি দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে, এটা রুটিন বললেও আমি মনে করি যে, এটা তাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে তারা আগ্রহী। এখন এটা আমাদের দিক থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত।’

আলাপ-আলোচনার ‘সুযোগ’ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী হিসাবে দুই দেশের স্বার্থ ‘খুব ওতপ্রোতভাবে জড়িত’। সেক্ষেত্রে যদি এই ভিজিটের পাশাপাশি ভালো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকে, সেটা চিন্তা করে দেখা যেতে পারে।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) পরিচালক অধ্যাপক এসকে তৌফিক এম হক মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাই কমিশনারের বৈঠক আসলে ছিল শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে উত্তাপের পর দুই পক্ষের বার্তা আদান-প্রদানের সাক্ষাৎ। মনে হয়েছে, বাংলাদেশ খুব শক্তভাবে তার অবস্থানটা জানিয়েছে। ভারতীয় দিক থেকে সেই অবস্থানটা জানার পরে তারা দিল্লিতে বা তাদের মূল নীতিনির্ধারণী মহলে সেটা অবহিত করেছে।’

পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে, তাতে সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের খুব একটা সম্ভাবনা দেখছেন না অধ্যাপক তৌফিক এম হক। সফর নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উনি খুব স্পষ্ট ভাষায়, কিছুটা কড়া ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি ব্রিকসে, বিমসটেকের সভাপতিকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং সেটা বাংলাদেশ খুব পছন্দ করেছে বা এটা বাংলাদেশের বর্তমানের নীতিনির্ধারক মহল এটাকে পজিটিভলি আগাবে, এরকম উনার বলার টোনে মনে হয়নি। আমি মনে করি যে, ব্রিকসের সম্মেলনে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই কমে গেছে। অফিশিয়ালি এখনও কিছু বলা হয়নি, কিন্তু আমার মনে হয় একেবারেই কমে গেছে।’

এখন দ্বিপক্ষয়ী সফরের যে আমন্ত্রণটি রয়েছে, সেটি ধরে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে পরিকল্পনা করবে বলে মনে করছেন এই বিশ্লেষক। তবে সেখানেও ‘কিন্তু’ আছে। তিনি মনে করেন, ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির যে শর্ত বাংলাদেশ দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ভারত তা মেনে নেবে। অর্থাৎ, দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানতে ভারত হয়ত রাজি হবে। এটা মেনে না নেওয়ার কোনো কারণ নাই। এই রকম একজন ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কতো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। আমার মনে হয়, ভারতের নীতিনির্ধারকরাও এটাকে ইতিবাচকভাবে নেবেন এবং এভাবে সম্পর্ক এগোনোর সম্ভাবনা দেখি আমি।’

কালের আলো/এম/এএইচ

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ১৫ আগস্ট আসছে এলএনজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ১৫ আগস্ট আসছে এলএনজি

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজিবাহী জাহাজটি বর্তমানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে মাদাগাস্কারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

জাহাজটি ঘণ্টায় ১৮ দশমিক ৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে এগিয়ে আসছে এবং আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাহাজটির শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে ভেড়ানো হবে বলে তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে এলএনজিবাহী আরেকটি ট্যাংকার ‘আল হামরা’ গত ১২ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছে। জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য আনা হয়েছে।

এর আগে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা গত দুই দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ ভাসমান টার্মিনালে ভেড়ানো ও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এলএনজিবাহী জাহাজ সময়মতো না আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সাগর উত্তাল থাকার বিষয়টি কৌশল হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল।

নতুন এলএনজিবাহী জাহাজটি মহেশখালীতে পৌঁছানোর পর টার্মিনালে ভেড়ানো ও গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

Oplus_131072

আগামী ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফর্মার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র‍্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে র‍্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব বদ্ধপরিকর।

কালের আলো/এসএকে