হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশই দাবি করেছে হরমুজ তাদের নিয়ন্ত্রণে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখব।’
ট্রাম্প বলেন, আমাদের নৌ অবরোধকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলছে। আর ইরানের এ বিষয়ে কিছুই করার নেই।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি ও শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো পূরণ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ মূলত তেহরানের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য পথে যাতায়াতকারী জাহাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে তারা।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন পথ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এই পথের নিরাপত্তার দায়িত্ব দুই দেশ যৌথভাবে পালন করবে বলে ধারণা করা হয়। এর মাধ্যমে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা চায়। কিন্তু তেহরান তা নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালির বিপরীত তীরে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া অন্যান্য কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এসব শর্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
দুই দেশের এমন অবস্থানের মধ্যে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array