খুঁজুন
                               
, ,
           

পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে হাঁটাচলায় বেশ সমস্যায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পা অবশ হয়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছেন তিনি। আপাতত তার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ারও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

রোববার (১৬ আগস্ট) একটি গণমাধ্যমকে নিজের  শারীরিক অবস্থার সবশেষ পরিস্থিতি জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, এখন আমার হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারি। এজন্য আপাতত বাইরে কোথাও যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি না।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, নিয়মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে গুলশানের বাসায় নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সেবা নিচ্ছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে সিএমএইচে যেতে হচ্ছে। বঙ্গভবন ছাড়ার পর গুলশানের বাসায় ফিরে এখন পর্যন্ত একবার সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার, বিচার বিভাগ ও আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে তার পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। যদিও বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সায় না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে যান। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকেন। তবে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় এসে তিনি অনেকটা সরে যেতে বাধ্য হন। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলীয় ঐক্য কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সীমান্তে পুশ-ইন-চোরাচালান বন্ধে একমত বিজিবি-বিএসএফ

ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সীমান্তে পুশ-ইন-চোরাচালান বন্ধে একমত বিজিবি-বিএসএফ

সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও চোরাচালান বন্ধে একমত হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড- বিজিবি। শূন্যরেখায় জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলার বার্তাও দিয়েছেন তারা।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মজুমদারহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ অংশে বিলোনিয়া আইসিপিতে বিজিবি-বিএসএফ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক থেকে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সীমান্তে একাধিক পুশইন চেষ্টা বিজিবির দৃঢ়তায় ব্যর্থ হওয়ার পর আজকের অধিনায়ক পর্যায়ের এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর ও কেতরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে একাধিক নারী ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর জেরে সীমান্তে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পুশইন সম্পূর্ণ বন্ধে ভারতীয় পক্ষকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

জবাবে বিএসএফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। সীমান্তে কোনো ধরনের প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উভয়পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। মাদকদ্রব্যসহ যেকোনো চোরাচালান বন্ধে সীমান্তরক্ষী দুই বাহিনী তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের ভেতরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং জমিসংক্রান্ত স্থানীয়দের বিরোধে কোনো বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে এখন থেকে যেকোনো জটিলতা শুরুতেই কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত না এলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়ক (কমান্ড্যান্ট) পর্যায়ে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে ফেনী ব্যাটালিয়ানের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। অন্যদিকে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুইপক্ষের কর্মকর্তাদের পরিচয় পর্ব হয়েছে।

এছাড়া সীমান্তের নানা বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে কথা হয়েছে। পুশইন বন্ধের বিষয়েও তাদের বলা হয়েছে। এতে তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাত নারী-শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় ওই সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি বাধা দিলে পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।

এর পরদিন একই উপজেলার কেতরাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ফের বিএসএফের সহায়তায় এক নারী ও তিন শিশুসহ মোট চারজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। সেদিনও বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নারীদের জন্য ঢাকায় চালু হচ্ছে ‘পিংক’ বাস সার্ভিস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
নারীদের জন্য ঢাকায় চালু হচ্ছে ‘পিংক’ বাস সার্ভিস

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরাই।

আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পরদিন ১৯ আগস্ট থেকে নির্ধারিত রুটে পুরোদমে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে।

বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে। এর পাশাপাশি বগুড়ায় দুটি ও চট্টগ্রামে দুটি বাসসহ ঢাকার বাইরে আরও চারটি বাস এই সেবায় যুক্ত হবে।

প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে যাত্রী পাওয়া গেলে বাস চলাচল করবে। পরদিন থেকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিয়মিত যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকার যেসব রুটে চলবে

মতিঝিল বাস ডিপোর অধীনে নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল এবং তালতলা-মতিঝিল রুটে বাস চলবে।

নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল রুটে কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিল যাবে বাস।

তালতলা-মতিঝিল রুটে তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধমন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে।

যাত্রাবাড়ী বাস ডিপোর অধীনে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও রুটে একটি বাস চলবে। এছাড়া কল্যাণপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-মতিঝিল ও মিরপুর-১২-মতিঝিল এবং মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর অধীনে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে বিশেষ বাস চলবে।

জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর অধীনে আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটেও বাস চলাচল করবে। পাশাপাশি গাজীপুর বাস ডিপোর অধীনে গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটে বিশেষ বাস দেওয়া হবে।

ঢাকার বাইরেও নারী বাস সার্ভিস

ঢাকার বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে।

চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রিপোর্ট ও কাটগড় হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে।

বিআরটিসি জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণও বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এমএসআইপি

পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী

কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

রোববার (১৬ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্মাণ খাতের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দফতর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। তাই ইটভাটার মালিকদের দ্রুত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হতে হবে।

সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনায় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত এবং শিল্প ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্লকের মান নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ জন্য হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদফতরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দফতরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিন ইটশিল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কর্মকর্তারা। সভায় ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ইট ও পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ