খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহীর তাজা মাছ কার্গো বিমানে করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা  করা হবে। রাজশাহীর বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করে এই মাছ রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। যত দিন যাবে রাজশাহী তত এগিয়ে যাবে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রোববার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি রাজশাহীর কালেক্টরেট পুকুরে ​পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এরপর একটি বর্নাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মৎস্যে সবদিক দিয়ে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পৃথিবীতে এখন অষ্টম স্থানে, কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে আছে। আগামী দিন ইনশাআল্লাহ আরও এগিয়ে যাবে।

আপনাদের সন্তানরা এখন পড়াশোনা করছে, অনেকে বিএ,এম,এ পাস করছে। অনেকেই অনেক পেশায় যাবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কয়েকটি সেক্টরের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে। আগামী দিনে এই জায়গা জমিনের যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ হবে মিষ্টি পানি খাওয়ার, সুইট ওয়াটার। এই সুইট ওয়াটার, মিষ্টি পানি, বাংলাদেশে হচ্ছে সবচেয়ে বড় রিজার্ভার। পেট্রোলের চেয়ে এই মিষ্টি পানির দাম অনেক বেশি। আগামী দিনে আরও বেশি হবে। পৃথিবীর এখনো ৭-৮ টা দেশের যুদ্ধ হয় নদীর পানি নিয়ে।

মন্ত্রী আরো বলেন, রাজশাহীর আশেপাশের খাল বিলগুলো ও মাছ চাষের উপযোগী করা হবে। মাছ চাষ করে রাজশাহীর চাষীরা সেই মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। আমি রাজশাহীর চাষীদের দেশিয় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আনম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মোঃ শামীম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘ফুড পয়জনিং’ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি ‘অতি জরুরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যে মানুষটি প্রতিটি মুহূর্তে স্বদেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভেবেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটা ক্ষণ তিনি মানুষের পক্ষে কথা বলে গেছেন। আর এই জন্য তাকে সইতে হয়েছে অশেষ গঞ্জনা, অপপ্রচার এবং মিথ্যা কলঙ্কলেপন।

সাবেক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার অসুস্থতাকে ফ্যাসিবাদী সরকার গ্রাহ্য করেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা নিজেরা বন্দি হয়ে অসুস্থতার অজুহাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বা বিদেশে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্যে সেই সুযোগটুকুও জোটেনি। তার উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই তারা করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে, উনাকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছে এবং এটা আসলে সত্য। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে একটি অতি জরুরি ও হাই পাওয়ারফুল তদন্ত কমিটি করা দরকার।

কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, যে মানুষটি হেঁটে কারাগারের ভেতরে গেলেন, সেই মানুষটি জরাজীর্ণ অবস্থায়, অসুস্থতায় ধুঁকতে ধুঁকতে বের হলেন। এবং এই রোগে ধুঁকতে ধুঁকতেই গত বছর ৩০ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান হলো।

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের প্রভাব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি ঘরে বসে থাকলেও আমরা তার বিরাট প্রভাব অনুভব করতাম। আমরা তখন তোয়াক্কা করতাম না— কে হাসিনা, কে তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কি তার নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা বা রিমান্ড! আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ফেরানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কারণ তার একমাত্র উৎস ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি বলেছিলেন এরশাদ একটি বেআইনি লোক, তার ক্ষমতা গ্রহণের কোনো অধিকার ছিল না। উনার মতো অনেকে বললেও পরে পালিয়ে গেছেন বা নির্বাচনে গেছেন; কিন্তু বেগম জিয়া যাননি। তিনি বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচন হবে প্রতারণার নির্বাচন, যা প্রমাণিত হয়েছে। এই যে কথা এবং কাজের অসাধারণ মিল, এসব কারণেই জনগণ তাকে ভোলেনি এবং ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করেছে।

ফারাক্কা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ফারাক্কার পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গেছেন। কার কত অ্যাটম বোম বা মিসাইল আছে তা তিনি পাত্তা দেননি। একইভাবে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হলে তিনি হোয়াইট হাউজে গিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরাম গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে ২৯ শতাংশ নারী তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা তিনি শুরু করেছিলেন এবং বিএ পর্যন্ত করার কথা দিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের ১৮০ দিন

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত ১৮০ দিনে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ম্যাডামকে আমরা বলতাম মাদরাসা কোর্ট একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট, আন্দোলনে যাই। কিন্তু তিনি বলতেন— আন্দোলন চলুক, তবে আমি আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব। জেলখানাতেও তাকে টলানো যায়নি। তিনি বীরদর্পী হিসেবে হিমালয়ের মতো অটুট থেকেছেন, শেখ হাসিনাকে কোনো স্বীকৃতি দেননি।

সবশেষে নেতাকর্মীদের দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন চেষ্টা করেও যাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি, সেই দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা অনুসরণ করলে আমরা সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হতে পারব। আমরা যদি নির্ভয় গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারি, তবেই তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মিলাদ মাহফিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী,  জাতীয়বাদী আইনজীবী সমিতির নেতা গাজী তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজলসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া তার পরিবারের মৃত ব্যক্তি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এ অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) দেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রুপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে যেমন একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারব, তেমনি আমাদের সন্তানরাও আগামীতে সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। একইভাবে আমাদের মৎস্য, পশু-সম্পদসহ সবকিছু একটি সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা, বিভিন্ন রকম টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের পানির বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাওর-জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা যদি পরিবার, পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষা করতে চাই এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে চাই, তাহলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।’

মৎস্য খাতে বিভিন্ন আধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা জাতীয় জিডিপির ১ শতাংশেরও বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষীদের কৃষক কার্ড প্রদান, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।’

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফান্ড থেকে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের জন্য অর্থাৎ শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্প শুরু করার জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান (গ্রান্ট) দেওয়া হবে। সুতরাং এই সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসার জন্য আমি নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আহ্বান জানাতে চাই।’

বাংলাদেশের ভাগ্যোন্নয়নে মৎস্য ও পশুসম্পদ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুন মাসে নাইজেরিয়াতে হ্যাচিং ডিম রফতানি করা হয়েছে। এভাবে বিদেশে নিত্যনতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করার জন্য আমি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বক্তব্য দেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘জুলাই ছিল দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘জুলাই ছিল দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’

ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের মিল নেই। মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও তার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল।’

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করতেও প্রস্তুত ছিলেন। জনগণের ওপর নির্যাতন ও রক্তপাত হলেও ক্ষমতায় থাকাই তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল।

রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিরোধী মতের কোনো জায়গা ছিল না। ভিন্নমত পোষণ করায় শিক্ষকসহ অনেককে চাকরি হারাতে হয়েছে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমতে জমতে তা জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

‘জুলাইয়ের চেতনা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো ও সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকারের দলীয়করণ, আওয়ামীকরণ, ব্যাংক লুটপাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের বিপরীতে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারলেই গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তার দাবি, গত ১৭ বছরে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়ার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেধা বিকাশের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে ফলাফল ভালো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি