খুঁজুন
                               
, ,
           

মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এ অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) দেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রুপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে যেমন একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারব, তেমনি আমাদের সন্তানরাও আগামীতে সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। একইভাবে আমাদের মৎস্য, পশু-সম্পদসহ সবকিছু একটি সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা, বিভিন্ন রকম টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের পানির বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাওর-জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা যদি পরিবার, পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষা করতে চাই এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে চাই, তাহলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।’

মৎস্য খাতে বিভিন্ন আধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা জাতীয় জিডিপির ১ শতাংশেরও বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষীদের কৃষক কার্ড প্রদান, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।’

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফান্ড থেকে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের জন্য অর্থাৎ শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্প শুরু করার জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান (গ্রান্ট) দেওয়া হবে। সুতরাং এই সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসার জন্য আমি নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আহ্বান জানাতে চাই।’

বাংলাদেশের ভাগ্যোন্নয়নে মৎস্য ও পশুসম্পদ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুন মাসে নাইজেরিয়াতে হ্যাচিং ডিম রফতানি করা হয়েছে। এভাবে বিদেশে নিত্যনতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করার জন্য আমি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বক্তব্য দেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ‘জাদুকরী’ সমাধান সরকারের হাতে নেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে— ব্যবসায়ীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই রাতারাতি গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে।

দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নীতি প্রকাশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খণ্ড খণ্ড বা আংশিক তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতির মাধ্যমে জানানো হবে। এতে কত সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে পরিবর্তন

রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার মাধ্যমে কর নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ আলাদা করা হবে।

আমির খসরু বলেন, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ডসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সভাপতিত্ব করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাজস্ব, ব্যাংক ও ব্যবসার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করাই নয়, ব্যবসায়ীরা সমস্যার সমাধানের অংশ হতে চান। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে ‘বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারীদের’ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সংস্কারের বড় বড় কথা বলছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে।

বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারের আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে, অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানিসংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা বলতে চাই না যে দেশ বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে চিকিৎসা খাতকে চরম অবহেলা ও লুটপাট করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করা হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চিকিৎসক সংকট রোধে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতকে গতিশীল করতে দেশে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল ও উপজেলা কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খোঁজ-খবর নেন ও একজন গরিব রোগীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে সমস্যার কথা জানতে চান।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। আমরা সারাদেশে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ