খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ‘জাদুকরী’ সমাধান সরকারের হাতে নেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে— ব্যবসায়ীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই রাতারাতি গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে।

দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নীতি প্রকাশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খণ্ড খণ্ড বা আংশিক তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতির মাধ্যমে জানানো হবে। এতে কত সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে পরিবর্তন

রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার মাধ্যমে কর নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ আলাদা করা হবে।

আমির খসরু বলেন, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ডসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সভাপতিত্ব করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাজস্ব, ব্যাংক ও ব্যবসার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করাই নয়, ব্যবসায়ীরা সমস্যার সমাধানের অংশ হতে চান। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি একই সাথে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক ‘সিড মানি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি অবহিত করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শ্যুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আর্চারি এবং অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের নবনিযুক্ত এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে। লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।

ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমিনুল হক জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শনের ওপর জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।

একই সাথে তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রখ্যাত শুটার শারমিন আক্তার রত্না ও প্রবীণ নারী সংগঠকদের প্রশংসা করেন এবং দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত ৩টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পে-স্কেল নিয়ে ‘সুখবর’ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল নিয়ে ‘সুখবর’ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার যেকোনও সময় নতুন এই বেতনকাঠামো ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্য সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেলের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তবে ঠিক কবে এটি ঘোষণা হবে, কী হারে মূল বেতন বাড়বে কিংবা ভাতা ও পেনশনের কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা বা সময়সীমা জানাননি তিনি।

২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর গত ১১ বছরে নতুন কোনও পে-স্কেল হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মুখ্য সচিব।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয় সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব পর্যায়ের একটি কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে। নতুন বেতনকাঠামো এক ধাপে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে, মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা একই সময়ে কার্যকর হবে কিনা—এসব বিষয় নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মেধাবী উদ্যোক্তার অভাব নেই, দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
মেধাবী উদ্যোক্তার অভাব নেই, দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। আমরা এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ‘ফান্ড অব ফান্ডস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দক্ষতা, সুশাসন ও পেশাদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালনা করা হবে।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি  খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, বাস্তবে কাজ করে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে। ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে দেশে আরও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি গেম-চেঞ্জিং উদ্যোগ। এটি দেশের স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপদের মেন্টরশিপ, দক্ষতা, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আইনসম্মত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু স্টার্টআপে বিনিয়োগই বাড়াবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও গড়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, কো-ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ কৌশলসম্পন্ন নির্বাচিত দেশি ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার-সমর্থিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলের আকার ৪০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইউকো, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ